আগামী জুলাই থেকে করদাতাদের আয়কর রিটার্ন অনলাইনে জমা দেওয়া যাবে। জমা দেওয়া রিটার্নের প্রাপ্তি স্বীকারপত্রও পাওয়া যাবে। মঙ্গলবার রাজধানীর রাজস্ব ভবনে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান।
আয়কর অনুবিভাগের কার্যক্রম ডিজিটাল করার অংশ হিসেবে সংশ্লিদের মধ্যে কম্পিউটারসামগ্রী বিতরণ ও ইনস্টলেশন অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রসঙ্গত, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর বিভাগের স্ট্রেনদেনিং গভর্ন্যান্স ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট (এসজিএমপি) প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন হচ্ছে এ কার্যক্রম। প্রকল্পটির মাধ্যমে দেশব্যাপী মাঠপর্যায়ের ৬৪৯টি আয়কর সার্কেল অফিস মূল সার্ভারের ডিজিটাল সংযোগে যুক্ত হবে।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) আর্থিক সহায়তায় ভিয়েতনামভিত্তিক আইটি প্রতিষ্ঠান এফপিটি ইনফরমেশন সিস্টেম করপোরেশন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫১ কোটি টাকা। কর বিভাগকে পূর্ণাঙ্গ, স্বয়ংসম্পূর্ণ, আধুনিক, শক্তিশালী, জবাবদিহিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর বিভাগ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। এনবিআরকে সম্পূর্ণ অটোমেশনের আওতায় আনতে এ প্রকল্প সহায়তা করবে।
অনুষ্ঠানে প্রকল্প পরিচালক ও এনবিআর সদস্য কালিপদ হালদার বলেন, কম্পিউটার কাউন্সিলে মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে ডাটাবেজ মনিটরিং করা হবে। আমরা জুন থেকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আর জুলাইয়ে শুরু হবে কাজ।
ই-পেমেন্টের বিষয়ে সব ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, করদাতারা যেকোনো ব্যাংকের অনলাইন অ্যাকাউন্ট থেকে কর দিতে পারবেন। এছাড়া চাইলে যেকোনো করদাতা আগের পদ্ধতিতেও কর অফিসের সব সেবা পাবেন।
তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে যে কেউ অনলাইনে আয়কর রিটার্ন (আয়কর বিবরণী) পূরণ ও দাখিল করতে পারবেন। ঘরে বসেই পাবেন আয়কর রিটার্ন ও প্রাপ্তি স্বীকারপত্র। ই-পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে অনলাইনে কর দিতে পারবেন। সেক্ষেত্রে ব্যাংক, চালান বা ক্যাশের মাধ্যমে জমা দিয়ে নম্বরটি অনলাইনে দিয়ে দিতে হবে। প্রক্রিয়া শেষে যেকোনো করদাতা যেকোনো ব্যাংকের অনলাইন অ্যাকাউন্ট থেকে কর দিতে পারবেন।
এ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কর বিভাগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে উল্লেখ করেন কালিপদ হালদার বলেন, প্রকল্পের আওতায় কর বিভাগের মাঠপর্যায়ের অফিসগুলো নেটওয়ার্কিংয়ের আওতায় আসবে। এছাড়া আপিল, কর অবকাশসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের অটোমেশন হবে। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের অফিসগুলো একটি কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণের আওতায় আসবে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে করদাতা কর-সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য জানতে সাধারণত কর অফিস ও আইনজীবীর শরণাপন্ন হন। কিন্তু নতুন পদ্ধতিতে করদাতারা সহজেই অনলাইনে কর-সংক্রান্ত সব তথ্য জানতে পারবেন। কর-সংক্রান্ত সব ফরম, নির্দেশিকা, কর আইন, কর্মকর্তার যাবতীয় তথ্য অনলাইনে থাকবে। তবে করদাতারা চাইলে কর কমিশনারদের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারবেন।
/জিএম/এমএসএম








