চোরাচালান প্রতিরোধে সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, চোরাচালানের মাধ্যমে সন্ত্রাস শক্তিশালী হয়ে ওঠে। শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) অডিটরিয়ামে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর আয়োজিত ‘চোরাচালান ও শুল্ক ফাঁকি রোধে করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ সব কথা বলেন।
আলোচনা সভায় অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোজাম্মেল হক খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন সেমিনারে বক্তব্য রাখেন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. মইনুল খান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত দিয়ে বেশকিছু পণ্য প্রবেশ করে যেগুলো আমরা পছন্দ করি না। এমন তিনটি পণ্য হলো সোনা, কোকেন ও টাকা। এ ছাড়া, বিভিন্ন পণ্য অবৈধভাবে সীমান্ত দিয়ে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। এ সব চোরাচালানের মাধ্যমে সন্ত্রাস অত্যন্ত শক্তিশালী হচ্ছে।
মুহিত বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কারণে বহুদিন ধরে বর্ডার লেস (সীমান্তহীন) দেশের কথা বললেও সেই আশা তত দূরে সরে যাচ্ছে। মুক্তবাজারের কথা চিন্তা করে আমরা শুল্ক অনেক কমিয়ে দিয়েছি। এক সময় রাজস্ব আয়ে শুল্কের অবদান বেশি ছিল। এখন রাজস্ব আয়ে শুল্কের অবদান কম।
অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, রাজস্ব আদায় করতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের স্বাধীনতায় যাতে হাত না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। অপ্রয়োজনীয় আইনগুলো সংস্কার করতে হবে।
আব্দুল মাতলুব আহমাদ বলেন, বাথরুমের মধ্যে সোনা পাওয়া যাচ্ছে। পেটের ভেতর থেকে জোর করে সোনা বের করা হচ্ছে। যা দেশ ও আমাদের জন্য খুবই লজ্জার। তিনি বলেন, বিমানের সিট খুলে কিভাবে সোনা তার ভেতরে ঢোকানো হয় কেউ তা জানেন না? সংশ্লিষ্টদের ইন্ধন ছাড়া এটি সম্ভব নয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোজাম্মেল হক খান বলেন, সীমান্ত থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে বিজিবি চেক করে যদি কোনও অবৈধ পণ্য না পায়, তাহলে আমি বলব, এটি অন্যায় হচ্ছে। কিন্তু যদি কাস্টম ছেড়ে দেওয়ার পরও চেক কর অবৈধ পণ্য পাওয়া যায়? তার কী হবে?
অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, চোরাচালান ও জঙ্গিবাদ দেশের জন্য হুমকি।
/এসআই/এমএনএইচ/








