অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে বছরে রাজস্ব ফাঁকি ৮৪ হাজার কোটি টাকা

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৩ এপ্রিল ২০২৩, ১৫:৪০ আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৩, ১৫:৪০

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের আকার জিডিপির প্রায় ৩০ শতাংশ। দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে এই খাত দিন দিন বড় হচ্ছে। ২০১০ সালে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে করের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার কোটি টাকা; যা ২০২১ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৪ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে বছরে ৮৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে দেশ।

সোমবার গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ‘করপোরেট খাতে কর স্বচ্ছতা: বাজেটে সরকারি আয়ের অভিঘাত’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য উঠে এসেছে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

ব্রিফিংয়ে প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম একটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন। তিনি তার উপস্থাপনায় বলেন, সিপিডির গবেষণায় দেখা গেছে, ৬৮ শতাংশ মানুষ করযোগ্য আয় করার পরও আয়কর দেন না। অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ কর দেওয়ার যোগ্য হওয়ার পরও কর দেন না। কর জিডিপি-র অনুপাত বৃদ্ধি না হওয়ার বড় কারণ এটি। অন্যদিকে জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে ২ লাখ ১৩ হাজার কোম্পানি রেজিস্ট্রার্ড হলেও রিটার্ন দাখিল করে মাত্র ৪৫ হাজার কোম্পানি। 

তিনি বলেন, ‘অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের এই করের টাকা যদি পাওয়া যেতো, তাহলে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় তিন গুণ বৃদ্ধি করা যেতো। অর্থাৎ কর নেট বৃদ্ধির প্রধান প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত। বড় অংশই করের বাইরে থেকে যাচ্ছে। ফলে কর লস দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

‘কর অস্বচ্ছতা’কে দুই ভাগে ভাগ করা যায়; কর ফাঁকি ও কর এড়ানো উল্লেখ করে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘কর ফাঁকি দিতে গিয়ে কোম্পানি তার প্রকৃত আয় কম দেখিয়ে থাকে। অন্যদিকে কর এড়ানোর বিষয়টি হলো- লিগ্যাল ফ্রেমের আওতায় সরকারের দেওয়া সুবিধা গ্রহণ করে থাকে। আমাদের দৃষ্টিতে এটাও কর অস্বচ্ছতা। কর ফাঁকি ও কর এড়ানোর দৃষ্টিতে ১৪১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৫২তম। কর ফাঁকি ও কর এড়ানোর মধ্যে একটি যোগসূত্র রয়েছে। কর এড়াতে গিয়েও কর ফাঁকি দিচ্ছে কোম্পানিগুলো। আর কর ফাঁকি ৮০ শতাংশ হয়। তার মানে ২ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকার মতো রাজস্ব হারায় দেশ। আবার যদি কর ফাঁকি ৫০ শতাংশ ধরা হয়, তাহলে রাজস্ব হারায় ৪১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।’

২০২২ সালের এক রিপোর্ট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘কর ফাঁকির কারণে পৃথিবীতে প্রতি বছর ৪৮৩ বিলিয়ন ডলার কর লস হচ্ছে। এর মধ্যে করপোরেট পর্যায়ে ৩১২ বিলিয়ন ডলার ও ব্যক্তি পর্যায়ে ১৭১ বিলিয়ন ডলার। যার অভিঘাত স্বল্প আয়ের মানুষের ওপর বেশি পড়ে। বিশ্ব পর্যায়ে করপোরেট কর হার কমলেও বাংলাদেশে এই হার বেড়েছে। এর প্রভাবে বিদেশে অর্থ পাচার হচ্ছে। বাংলাদেশ করপোরেট কর দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ। কিন্তু আদায়ের দিক থেকে আফিগানিস্তানের নিচে। আবার কর হার কমালেও যে কর আদায়ের পরিমাণ সব সময় বেশি হবে, সেটাও নয়। বলা হয়ে থাকে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত যে দেশের বড়, সে দেশে কর আদায়ের পরিমাণ কম হবে।’

/জিএম/ইউএস/
সম্পর্কিত
ঋণ চাইছে বাংলাদেশ, কিন্তু বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরবে কীভাবে?
‘অন্য যেকোনও সময়ের চেয়ে হিন্দুরা এখন বেশি সুখে-শান্তিতে আছেন’
সাক্ষাৎকারে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা এখনও সম্ভব’
সর্বশেষ খবর
ট্রেন লাইনচ্যুত: কন্ট্রোল রুমে মেরামত কাজের তথ্য দেওয়া হয়নি, প্রকৌশলী বরখাস্ত
ট্রেন লাইনচ্যুত: কন্ট্রোল রুমে মেরামত কাজের তথ্য দেওয়া হয়নি, প্রকৌশলী বরখাস্ত
ফেসবুক পেজ খুলে চাকরির নামে প্রতারণা, গ্রেফতার ২
ফেসবুক পেজ খুলে চাকরির নামে প্রতারণা, গ্রেফতার ২
মহাখালীতে ট্রেনের ধাক্কায় যুবকের মৃত্যু
মহাখালীতে ট্রেনের ধাক্কায় যুবকের মৃত্যু
বুকিং ডটকমের বিরুদ্ধে তদন্ত করবে ইউরোপীয় কমিশন
বুকিং ডটকমের বিরুদ্ধে তদন্ত করবে ইউরোপীয় কমিশন
সর্বাধিক পঠিত
প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরতে চেয়ে প্রত্যাহার রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার
প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরতে চেয়ে প্রত্যাহার রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার
ডিভি লটারি ২০২৭: আবেদন শুরু হচ্ছে কবে?
ডিভি লটারি ২০২৭: আবেদন শুরু হচ্ছে কবে?
ঢাকার কাছেই মিলতে পারে গ্যাস, কূপ খননের পরিকল্পনা
ঢাকার কাছেই মিলতে পারে গ্যাস, কূপ খননের পরিকল্পনা
অর্ধেক টাকা খরচের পর সাড়ে ৬ হাজার কোটির প্রকল্প বাতিল, এবার হবে মহাসড়ক
অর্ধেক টাকা খরচের পর সাড়ে ৬ হাজার কোটির প্রকল্প বাতিল, এবার হবে মহাসড়ক
স্থানীয় নির্বাচনে কেমন প্রার্থী বেছে নিতে হবে, সাফ জানিয়ে দিলেন তারেক রহমান
স্থানীয় নির্বাচনে কেমন প্রার্থী বেছে নিতে হবে, সাফ জানিয়ে দিলেন তারেক রহমান