পুরান ঢাকায় ঈদের কেনাকাটার ধুম

সুবর্ণ আসসাইফ
১৮ এপ্রিল ২০২৩, ১৯:০০আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২৩, ১৫:৫০

ঈদ চলে এসেছে দোরগোড়ায়। কয়েকদিন পরেই পবিত্র ঈদুল ফিতর। শেষ মুহূর্তে পুরান ঢাকায় জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়ছে দোকানগুলোতে। মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। ক্রেতা পেয়ে খুশি ব্যবসায়ীরা। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, কাপড়সহ সব পণ্যের দাম এবার বেশি।

পুরান ঢাকার ইসলামপুর, পাটুয়াটুলী, জাহাঙ্গীর টাওয়ার, সদরঘাট,  ইসলাম টাওয়ার, বকুলি ইসলামপুর কমপ্লেক্স, লক্ষ্মীবাজার, কলতাবাজার, ওয়ারী, কাঠেরপুল, ধুপখোলার শপিংমল ও মার্কেটগুলোতে রয়েছে ক্রেতার উপচে পড়া ভিড়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় সমলাতে হিমশিম খাচ্ছেন দোকানিরা।

ক্রেতা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন বিক্রেতারা

শপিংমল ও মার্কেটগুলোতে পছন্দমতো কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্রেতারা। পুরান ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে স্থায়ী বাসিন্দারা ঈদের আগের এই দিনগুলোতেই বেশি আসেন কেনাকাটা করতে। এছাড়াও ঈদের ছুটিতে গ্রামে যাওয়া মানুষদের ভিড়ও দেখা যায়। পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটা করছেন তারা। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পাঞ্জাবি, শাড়ি, থ্রি পিস, লেহেঙ্গা, জুতা, গহনা, কসমেটিকসসহ বাচ্চাদের পোশাকের দোকানে সমান ভিড়। তবে বাচ্চাদের ও মেয়েদের পোশাকের দোকানে একটু বেশিই ভিড় লক্ষণীয়।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় উপচে পড়ে মার্কেটগুলোতে

সদরঘাটে গ্রেট ওয়াল মার্কেটের লেভেল ২ এর দোকানগুলোতে দেখা যায় বাচ্চাদের জন্য আরামদায়ক দৃষ্টিনন্দন পোশাক সাজানো রয়েছে। গরমের কারণে বাচ্চাদের জন্য পাতলা কাপড় পছন্দ করছেন বাবা-মায়েরা। সঙ্গে পছন্দমতো পাঞ্জাবিও। বড়দের জন্য টি-শার্ট ৬০০ থেকে দুই হাজার টাকা, গ্যাবার্ডিন, জিন্স প্যান্ট ৮০০ থেকে তিন হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাঞ্জাবির দোকানগুলোতে তরুণদের ভিড় বেশি। পাঞ্জাবির কাপড় ও  রঙ অনুয়ায়ী এক হাজার ২০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। দিনে বেচাকেনা শেষে মাঝরাত পর্যন্ত পাঞ্জাবির ক্রেতার ভিড় লেগে থাকে। ঈদের ঠিক আগে আগে পাঞ্জাবির বিক্রি আরও বাড়বে বলে জানান বিক্রেতারা।

হরেক রকম বাহারি নামের পোশাক দেখিয়ে ক্রেতাদের মন কাড়ার চেষ্টা করছেন দোকানিরা

অনেক দোকানের কর্মচারীরা হাঁক দিচ্ছেন পুষ্পা রাজ, তুলি মনি, খুকু মনি, নাইরা নামে ড্রেস পাওয়া যাচ্ছে বলে। নতুন মডেলের জামা পুষ্পা ছয় হাজার টাকা, লেডি কন সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা, ঘারারা চার হাজার, নাগা দুই হাজার ৫০০, নায়রা দুই হাজার ৫০০ থেকে  চার হাজার ২০০ টাকা। তবে এর মধ্যে ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে আছে নায়রা জামা। কাপড়ের মান ও ক্রেতাদের চাহিদা ভেদে দাম কম বেশি আছে বলে জানান বিক্রেতারা।

প্রায় সব রকমের জামাকাপড়ের দাম বেশি রাখা হচ্ছে বলে ক্রেতাদের অভিযোগ

নারিন্দা থেকে স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছেন ইমরান হোসাইন। তিনি বলেন, ‘ঈদের আগের দিন গ্রামে চলে যাবো, তাই পরিবার পরিজন সবার জন্য কেনাকাটা সেরে নিচ্ছি। তবে সবকিছুর দাম বেশি এবার। যেভাবে কিনতে চেয়েছিলাম, দাম বেশির জন্য কিনতে পারিনি।’

নিউ ফ্যাশন গার্মেন্টসের স্বত্বাধিকারী মোরশেদুল ইসলাম বলেন, ‘ক্রেতাদের উপস্থিতি সন্তোষজনক। দাম বেড়েছে এটা সত্যি। তারপরও মানুষ আসছে কিনছে। রোজার প্রথম সপ্তাহ থেকেই ঈদের ক্রেতা আশা শুরু হয়েছে। যত সময় যাচ্ছে ক্রেতা বাড়ছে।’

গরমের কারণে আরামদায়ক পোশাকের চাহিদা বেশি

ঈদের কেনাকাটায় ধুপখোলা ও ওয়ারীর মার্কেটগুলোতে ত্রি পিস, শাড়ি ও পাঞ্জাবির ক্রেতাদের ভিড়। থ্রি পিসের মধ্যে এলাচি ৭০০ টাকা,  কিচমিচ ৮০০টাকা, রক্তজবা ৫৫০ টাকা, মালহান ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শাড়ির মধ্যে আছে ভালো বিক্রি হচ্ছে জামদানি, তাঁত ও সূতি। কাপড় ও রঙ ভেদে ৮০০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

ঈদের আগে আগে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা

ইসলামপুর এলাকায় শার্ট কাপড়ের প্রতি পিস ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে থাইল্যান্ড শাররাত ২৫০-৪৫০ টাকা, ভারতীয় অরবিন্দু ৫০০-৮০০, চায়না ৩৫০-৫০০, ভারতীয় অন্যান্য শার্ট ৩০০-১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পাঞ্জাবির জন্য কাপড় পাওয়া যাচ্ছে ১৩০-৪০০ টাকা (প্রতি গজ) দামে।

একই চিত্র দেখা যায় জুতার মার্কেটেও। সদরঘাটে, এ্যাপেক্স, বাটাসহ হাজী মোহাম্মদ রওশন আলী মার্কেট ঘুরে দেখা যায় ক্রেতারা তাদের পছন্দ অনুযায়ী জুতা দেখছেন। কেউ আবার দাম নির্ধারণ করেছেন। কেউ আবার দাম শুনেই ফিরে যাচ্ছেন। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ জুতার দাম তুলনামূলকভাবে বেশি চাওয়া হচ্ছে।

আশানুরুপ বিক্রি হওয়ায় খুশি ব্যবসায়ীরা

যমুনা ফুটওয়্যারের মালিক শহিদুল হক জামাল বলেন, ‘জুতার দাম গত বছরের থেকে বেড়েছে। আমরা আগে যে দামে জুতা বিক্রি করেছি, এবছর সেদামে কিনতেও পারিনি। জুতা প্রতি ২০০-৩০০ টাকা বেড়েছে। তারপরও ক্রেতা আসছে, দেখছে, কিনছে। যেমন বেচাকেনা হচ্ছে তাতে আমরা খুশি।’

ইসলামপুর বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নেছার উদ্দীন মোল্লা বলেন, ‘সার্বিকভাবে বিক্রি ভালো। শবেবরাতের পর বেচাকেনাতে চাঙাভাব একটু বেশি ছিল। এখনও ভালো বিক্রি হচ্ছে। তবে সামনে আরও বাড়বে বলে আশা করি।’

ছবি: প্রতিবেদক।

/এফএস/এমওএফ/
সম্পর্কিত
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
কদমতলীতে ইন্টারনেট সার্ভিসের ৩ কর্মীকে মারধর
মেঘলা আকাশ আর বৃষ্টির পূর্বাভাস ঢাকায়, কমতে পারে গরম
সর্বশেষ খবর
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম