এখন থেকে ১৫ বছর আগে মাত্র কয়েকটি ড্যানিশ কোম্পানি বাংলাদেশে ব্যবসা করতো। কিন্তু এখন ৬০টিরও বেশি কোম্পানি এ দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত।
বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথাগুলো বলছিলেন ঢাকায় অবস্থিত ড্যানিশ দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর সোরেন রোবেনহ্যাগেন। বাংলাদেশে জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে ড্যানিশ কোম্পানিরা ব্যবসা-বাণিজ্য করতে আগ্রহী বলে এসময় জানান তিনি। এসবের মধ্যে তৈরি পোশাক শিল্প, বন্দর ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি, নবায়নযোগ্য ও কয়লাভিত্তিক জ্বালানি, আইসিটি, খাদ্য ও কৃষি, মৎস্য এবং পরিবেশ সহায়ক বিভিন্ন ব্যবসা
তিনি বলেন, ‘তবে ভবিষ্যতে মূলত জ্বালানি ব্যবসাটাই বাংলাদেশে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে আবির্ভূত হবে বলে আমার বিশ্বাস।’
ডানো (আরলা ফুডস), নোভো নরডিস্ক ও মায়েরস্ক লাইন– এই তিনটি ড্যানিশ কোম্পানি কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে ব্যবসা করছে। তবে ১৫ বছর আগে দুই দেশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে একটি প্রোগ্রাম হাতে নেয় ড্যানিশ সরকার।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে অনেক ছোট ছোট প্রতিষ্ঠান আছে যাদের বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের প্রতিষ্ঠানদের সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগাযোগ করার কোনও আর্থিক সঙ্গতি বা সক্ষমতা নেই। তবে এজন্য একটি প্রোগ্রাম হাতে নিয়ে সফল হয়েছে ড্যানিশ উন্নয়ন সংস্থা ডানিডা।’
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য হয়েছে ৪ হাজার ২শ’ কোটি টাকা, অথচ ২০১০ সালে মোট বাণিজ্য হয়েছে ২ হাজার ২শ’ টাকা।
রোবেনহ্যাগেন বলেন, বাংলাদেশি অনেক ব্যবসায়ী সস্তা পণ্য ব্যবহার করেন, এতে যন্ত্রপাতির মেরামত ও জ্বালানি খরচ বেড়ে যায়। জানা থাকা দরকার যে, যেকোনও পণ্যের মোট খরচের তিনটি উপাদান আছে। এক. পণ্যটি কেনার খরচ, দুই. রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত খরচ তিন. জ্বালানি খরচ। দেখা গেছে, অনেক পণ্যের ক্ষেত্রে এর মোট খরচের মধ্যে মাত্র ৫ শতাংশ যন্ত্রটি কেনার খরচ, ১০ শতাংশ রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত খরচ এবং ৮৫ শতাংশ জ্বালানি খরচ হয়।
তিনি বলেন, একটি ভালো মানের পণ্যে যেমন কম জ্বালানি খরচ হয় তেমনি এর মোট জীবন আয়ু সস্তা পণ্য থেকে বেশি হয়। ফলে ভালো পণ্য কিনলে মোট খরচ কম পড়ে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই মনমানসিকতার পরিবর্তন দরকার, যাতে ভালো পণ্য কিনে মোট খরচ কমানো যায়।
/এএইচ/








