X
মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪
২১ ফাল্গুন ১৪৩০

সনাতন পদ্ধতির সোনা-রুপার অলংকার তৈরি ও বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২০ জুলাই ২০২৩, ১৯:০৪আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৩, ১৯:২৬

সনাতন পদ্ধতির সোনা-রুপার অলংকার তৈরি ও বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এছাড়া সংগঠনটি সোনা কেনাবেচায় বেশ কিছু নির্দেশনা জারি করেছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ক্যাডমিয়াম পদ্ধতিতে শুধু ১৮, ২১, ২২ ও ২৪ ক্যারেটের অলংকার তৈরি ও বিক্রি করা যাবে। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির সোনা-রুপার অলংকার শুধু ক্রেতাদের কাছ থেকে কিনতে পারবে জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান।

জুয়েলার্স সমিতি আরও জানিয়েছে, স্বর্ণ নীতিমালা অনুযায়ী অলংকারের ক্ষেত্রে হলমার্ক করা বাধ্যতামূলক। এই হলমার্কের অলংকারে ব্যবহৃত সোনার গুণগত মান সম্পর্কে তথ্য থাকবে, যা লেজার মেশিন দিয়ে অলংকারের গায়ে খোদাই করে লেখা হবে।

বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) সমিতি এই নির্দেশিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে।

নির্দেশিকা অনুযায়ী, সোনার অলংকার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বর্তমান ওজন থেকে ১০ শতাংশ বাদ দিয়ে নতুন অলংকারের দামের সঙ্গে সমন্বয় করবে জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান। তবে ক্রেতার কাছ থেকে পুরোনো অলংকার কেনার ক্ষেত্রে অলংকারের বর্তমান ওজন থেকে ২০ শতাংশ বাদ দিয়ে জুয়েলার্স প্রতিষ্ঠান বাজারমূল্যে দাম পরিশোধ করবে। এছাড়া সোনার অলংকার বিক্রির সময় ক্রেতার কাছ থেকে প্রতি গ্রামে কমপক্ষে ৩০০ টাকা মজুরি নিতে হবে।

যদি কোনও প্রতিষ্ঠান এই সিদ্ধান্ত অমান্য করে তাহলে কমপক্ষে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। দ্বিতীয়বার এই নির্দেশনা ভঙ্গ করলে সদস্যপদ কেন বাতিল করা হবে না এই মর্মে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ দেবে সমিতি। জবাব সন্তোষজনক না হলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি।

নির্দেশনা অনুযায়ী, জুয়েলার্স সমিতির সদস্য প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়কেন্দ্রে বাধ্যতামূলকভাবে বাজুসের স্টিকার ও হালনাগাদ সনদ দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। ঢাকা মহানগরের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্টিকার, সনদ ও পরিচয়পত্রের জন্য ৫ হাজার টাকা ফি দিতে হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ জন্য ফি দিতে হবে দেড় হাজার টাকা।

এছাড়া সমিতির সদস্যপদ পেতে ঢাকা মহানগরের জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ১০ হাজার টাকা এবং অন্য এলাকার জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার টাকা।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পুরোনো সোনার অলংকার কেনার ক্ষেত্রে জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান অবশ্যই বিক্রেতাকে রসিদ দেবে। সেই রসিদে বিক্রেতার নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্র উল্লেখ থাকতে হবে। এছাড়া বিক্রেতার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সংরক্ষণ করতে হবে জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানকে। মূল মালিক ছাড়া কোনও প্রতিনিধির কাছ থেকে পুরোনো অলংকার কেনা যাবে না।

এছাড়া ব্যাগেজ রুলসের আওতায় আনা সোনা ও অলংকার কেনার ক্ষেত্রে বিক্রেতার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিতে হবে জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানকে। বিমানবন্দরে ব্যাগজ রুলসের আওতায় আনা সোনা ও অলংকারের বিপরীতে পরিশোধ করা কর প্রদানের মূল সনদ সংরক্ষণ করতে হবে। অবশ্যই প্রকৃত মালিকের কাছ থেকে সোনা কিনতে হবে।

এদিকে রুপার অলংকার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বর্তমান ওজন থেকে ৩০ শতাংশ বাদ দিয়ে নতুন অলংকারের দামের সঙ্গে সমন্বয় করবে জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান। আর ক্রেতার কাছ থেকে পুরোনো অলংকার কেনার সময় অলংকারের বর্তমান ওজন থেকে ৪০ শতাংশ বাদ দিয়ে জুয়েলার্স প্রতিষ্ঠান বাজারমূল্যে দাম পরিশোধ করবে। অন্যদিকে রুপার নতুন অলংকার বিক্রির সময় ক্রেতার কাছ থেকে প্রতি গ্রামে ২৬ টাকা মজুরি নিতে হবে।

প্রতারণা রোধে জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে রুপার অলংকারের সঙ্গে কোনও অবস্থায়ই ইমিটেশন, মেটাল বা গোল্ডপ্লেট করা অলংকার প্রদর্শন করতে পারবে না। এসব অলংকার আলাদাভাবে প্রদর্শন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বড় ও স্পষ্ট অক্ষরে অলংকারের ধরন উল্লেখ করতে হবে। কোনও জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান ক্রেতাদের কাছে ইমিটেশন, মেটাল বা গোল্ডপ্লেট করা অলংকার রুপার অলংকার হিসেবে বিক্রি করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সদস্যপদ বাতিলসহ প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্তমানে ডায়মন্ড বা হীরার অলংকার বিক্রিতে একেক প্রতিষ্ঠান একেক রকম মূল্যছাড় দেয়। তবে জুয়েলার্স সমিতি নতুন নির্দেশনায় বলেছে, ডায়মন্ডের অলংকারে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ মূল্যছাড় দেওয়া যাবে। যদি কোনও জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান এই নিয়ম অমান্য করে, তাহলে ৫ লাখ টাকা জরিমানা গুনতে হবে। এছাড়া ডায়মন্ডের অলংকার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ এবং ক্রেতার কাছ থেকে পুরোনো ডায়মন্ডের অলংকার কেনার সময় বর্তমান ওজন থেকে ২৫ শতাংশ বাদ দিয়ে মূল্য নির্ধারণ করবে জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান। ৫০ সেন্টের ওপর সব ডায়মন্ডের অলংকারের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক সনদ দিতে হবে বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে। এ ছাড়া ডায়মন্ডের অলংকার বিক্রির ক্যাশ মেমোতে ডায়মন্ডের রঙ, ক্যারেট ইত্যাদি উল্লেখ থাকতে হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ডায়মন্ডের অলংকার বিক্রিতে ক্রেতা আকর্ষণে কোনও ধরনের প্রলোভনমূলক উপহার বা একটা কিনলে একটা ফ্রি—এই ধরনের অফার দিতে পারবেন না। এমনকি কোনও জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান নকল ডায়মন্ডের অলংকার বিক্রি করলে সদস্যপদ বাতিল ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/জিএম/এফএস/এমওএফ/
সম্পর্কিত
‘গয়না সৌন্দর্যের পাশাপাশি নিরাপত্তাও দেয়’
‘সোনায় বিনিয়োগ, ভবিষ্যতের সঞ্চয়’ প্রতিপাদ্য নিয়ে শুরু হচ্ছে বাজুস ফেয়ার
ফেব্রুয়ারিতে বাজুস ফেয়ার, অলংকার ক্রেতাদের জন্য থাকবে বিশেষ অফার
সর্বশেষ খবর
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংঘর্ষ: পুলিশসহ আহত ৩০, বাড়িঘর লুট-আগুন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংঘর্ষ: পুলিশসহ আহত ৩০, বাড়িঘর লুট-আগুন
ছাত্রকে গুলি করা সেই মেডিক্যাল শিক্ষক দুই পিস্তল, ১২ চাকু নিয়েই ক্যাম্পাসে আসতেন
ছাত্রকে গুলি করা সেই মেডিক্যাল শিক্ষক দুই পিস্তল, ১২ চাকু নিয়েই ক্যাম্পাসে আসতেন
দুদকের মামলায় সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানির নতুন তারিখ
দুদকের মামলায় সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানির নতুন তারিখ
টিপ সরিয়ে পরছেন তারকারা, নেপথ্যে কী
টিপ সরিয়ে পরছেন তারকারা, নেপথ্যে কী
সর্বাধিক পঠিত
শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি খেলাফত মজলিসের
শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি খেলাফত মজলিসের
বাংলাদেশ ভ্রমণ শেষে ভারতে গিয়েই সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার ব্রাজিলিয়ান তরুণী
বাংলাদেশ ভ্রমণ শেষে ভারতে গিয়েই সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার ব্রাজিলিয়ান তরুণী
সাত মসজিদ রোডের সব বুফে রেস্তোরাঁ বন্ধ
সাত মসজিদ রোডের সব বুফে রেস্তোরাঁ বন্ধ
ইউক্রেন অবশ্যই রাশিয়ার অংশ: পুতিন মিত্র
ইউক্রেন অবশ্যই রাশিয়ার অংশ: পুতিন মিত্র
রাশিয়ায় হামলার পরিকল্পনা করছে জার্মানির সেনারা?
রাশিয়ায় হামলার পরিকল্পনা করছে জার্মানির সেনারা?