বাংলা ট্রিবিউনকে বাংলাদেশ ডাল ব্যবসায়ী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি

রমজানে দেশে ডালের সংকট দেখা দেবে

শফিকুল ইসলাম
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ২১:১৭আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ২১:২৬

নেছার উদ্দিন খান এবার রমজানে দেশে সব ধরনের ডালের সংকট হতে পারে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি নেছার উদ্দিন খান। তিনি বলেন, বাংলাদেশসহ ডাল রফতানিকারক দেশগুলোয় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় এ আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। সমস্যা সমাধানে তথা আসন্ন রমজানে ডালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারি বাণিজ্যক প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (টিসিবি) এই মুহূর্ত থেকে সব ধরনের ডাল আমদানি করে আপদকালীন মজুদ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যেই দেশের পাইকারি খুচরা উভয় বাজারে সব ধরনের ডালের দাম বেড়েছে। এ দাম আরও বাড়বে বলেও সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর রহমতগঞ্জে নিজের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ‘সুমন ডাল মিল’-এ বাংলা ট্রিবিউনের  আলাপকালে তিনি এ আশঙ্কার কথা জানান।
নেছার উদ্দিন খান জানান, বাংলাদেশে বাৎসরিক ডালের চাহিদা ৩৫ থেকে ৪০ লাখ মেট্রিক টন। চাহিদার অর্ধেকটাই জুড়ে রয়েছে মসুর ডাল। বাকি অর্ধেক মুগ, ছোলাসহ অন্যান্য ডাল। এর মধ্যে দেশে উৎপাদিত হয় মাত্র ৫ থেকে ৭ লাখ মেট্রিক টন। বাকিটা আমদানি করতে হয়।
রফতানিকারক দেশগুলোয় এ বছর ডালের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে বলে জানান নেছার উদ্দিন খান। তিনি বলেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক, নেপাল, ইথিওপিয়া ও মিয়ানমার থেকে ডাল আমদানি করা হলেও ইথিওপিয়া ও মিয়ানমার থেকে আমদানি করা ডালের পরিমাণ অনেক কম। ভূমিকম্পের কারণে এ বছর নেপালেও ডাল আবাদ করা হয়েছে খুবই সামান্য পরিমাণ জমিতে। এদিকে, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় একদিকে বন্যা ও অন্যদিকে মাত্রাতিরিক্ত খড়ায় ডালের আবাদ ব্যহত হয়েছে। উৎপাদন হয়নি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রার পরিমাণ ডাল। তাই আমদানি করেও চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন এই ডাল ব্যবসায়ী নেতা। তিনি বলেন, একটা সময় আসবে যখন আমদানি করতে চাইলেও আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ ডাল পাওয়া যাবে না। তার ওপর দামও বেশি থাকবে বলে জানান তিনি।


রমজানের আগেই আপদকালীন মজুদ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে নেছার উদ্দিন খান বলেন, এই মজুদ সরকারকেই করতে হবে। কারণ, বেসরকারিভাবে আমরা ডালের মজুদ করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রোষানলে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘মজুদ করে কৃত্রিম চাহিদা সৃষ্টি করে দাম বাড়িয়েছি’—বলে ব্যবসায়ীদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অতীতে এমনটা অনেকবারই হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে সরকারের নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডাও হয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়া মূলধন সমস্যাও রয়েছে। ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে গেলে ঝামেলার পাশাপাশি সুদের হার বেশি। তাই ঋণ নিয়ে ১৩ থেকে ১৬ শতাংশ হারে সুদ দিয়ে ডালের ব্যবসা করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি। এই সুযোগে তিনি ব্যাংক ঋণের সুদেও হার ৯ শতাংশ করারও দাবি জানান।   
এ ছাড়া, বাংলাদেশের আবহাওয়ার বিবেচনায় ডাল মজুদ করার অনুকূল পরিবেশ নেই বলে মন্তব্য করেন নেছার উদ্দিন খান। তিনি বলেন, এ কারণে ২/৩ মাসের বেশি সময় ডাল বাংলাদেশে মজুদ রাখা যায় না। পোকায় ধরে। নষ্ট হয়ে যায়। পক্ষান্তরে কানাডা-অস্ট্রেলিয়ায় ডাল মজুদের জন্য বিশেষ গুদাম রয়েছে। যেখানে চাইলে ৫/৬ বছর ডাল মজুদ রাখা যায়। কিন্তু মান খারাপ হয় না। আমাদের দেশে এমন গুদাম নির্মাণের সময় এসেছে বলেও মনে করেন নেছার উদ্দিন খান।
ব্যবসার সঙ্গে কিভাবে যুক্ত হলেন—জানতে চাইলে  নেছার উদ্দিন খান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, খুলনা থেকে ঢাকায় চলে আসি ১৯৭৩ সালের দিকে। রাজধানীর পুরোটাই অচেনা। জীবন বাঁচানোর তাগিদে রহমতগঞ্জের এক হোটেলে বয়ের কাজ নেই। পরবর্তী সময়ে চাকরি করেছি এখানকার এক ডালের মিলে। এভাবেই শুরু। বাড়তে থাকি এভাবেই। এক পর্যায়ে রহমতগঞ্জের ডাল পট্টিতে লেবারের কাজও করি। এ সময় কাজী জাফরের নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস পার্টির (ইউপিপি) সঙ্গে যুক্ত হই। সে সময়কার এমপি হারুন অর রশিদেও সঙ্গে নিয়ে গড়ে তুলি শ্রমিক সংগঠন। কিন্তু রাজনীতি করা আর বেশিদূর এগোয়নি, কারণ কাজী জাফর সাহেবও দল নিয়ে আর বেশি দিন ভাবেননি। রাজধানীর অন্য কোনও এলাকায় আর যাওয়া হয়নি বিধায় সেই থেকেই রহমতগঞ্জে বসবাস। এখনও আছি। হয়তো বাকি জীবন এখানেই থাকব।
নেছার উদ্দিন খান বলেন, ১৯৭৮ সালের দিকে হাঁটি-হাঁটি পা-পা করে নিজের ঘাম ও শ্রমের বিনিময়ে অর্জিত সামান্য পুঁজি নিয়ে ব্যবসা শুরু করি। প্রথম দিকে বিভিন্ন ঝামেলা থাকলেও কাটিয়ে উঠেছি। জীবন বাজি রেখে সততার সঙ্গে ব্যবসা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। পরবর্তী সময়ে ডাল ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ ডাল ব্যবসায়ী সমিতির কর্মকর্তাও নির্বাচিত হয়েছি।

সাগরকন্যা নামে খ্যাত পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া নেছার উদ্দিন খানের জন্ম ১৯৫৮ সালে।  বাবা মরহুম হাতেম আলী খান ও মা মরহুম আম্বিয়া খাতুনের ৬ ছেলেমেয়ের মধ্যে সবার বড় নেছার উদ্দিন খান পড়েছেন মাত্র নবম শ্রেণি পর্যন্ত। শিশুকাল কাটিয়েছেন নিজ গ্রামেই। শৈশব কাটানোর সুযোগ সেখানে হয়নি। ১৯৭১ সালে যখন তার মা মারা যান নেছার উদ্দিন তখন ক্লাস নাইনের ছাত্র। বাবা মারা গিয়েছিলেন আগেই। ফলে মা মারা যাওয়ার পর অবিভাবকহীন হয়ে পড়ায় কিছুদিন খুলনায় মামার সংসারে বড় হয়েছেন তিনি। পড়াশোনা আর এগোয়নি। চলে আসেন ঢাকায়।

/এসআই/এমএনএইচ/ 

সম্পর্কিত
একান্ত সাক্ষাৎকারে মাহমুদুর রহমান মান্নাসরকারকে আরও অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে এগোতে হবে
সাক্ষাৎকারে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানমধ্যপ্রাচ্যের সংকট না কাটলে রফতানি ঘুরে দাঁড়ানো অনিশ্চিত
আমার আত্মার বয়স হাজার কোটি বছর: সূচনা শেলী
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম