মাছ, মাংস, দুধ ও ডিমের দাম কমানোর জন্য বিশেষ কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক মাসের (৮ আগস্ট থেকে ৭ সেপ্টেম্বর) কার্যাবলি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
এতে বলা হয়েছে, মাছ, মাংস, দুধ ও ডিমের মূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করা হয়। ভোক্তা অধিকার অধিদফতরের মহাপরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া মৎস্য অধিদফতর ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দফতরগুলোর বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ করণীয় এবং সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। দুর্নীতিমুক্ত, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে বর্তমান সরকার।
প্রকল্প বাস্তবায়ন বিষয়ে একাধিক সভার কথা উল্লেখ করে কার্যাবলিতে বলা হয়, সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্পের আওতায় বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ প্রায় ৮০০ কোটি টাকা কমানো হয়েছে। তাছাড়া লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় প্রস্তাবিত তিন সিটি করপোরেশন এলাকায় স্লটার হাউস নির্মাণ কার্যক্রম বাদ দেওয়ায় প্রায় ২৯৭ কোটি টাকা অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোও সম্ভব হয়েছে।
বন্যা উপদ্রুত এলাকায় প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের উদ্যোগে ১৮৮ মেট্রিক টন দানাদার পশুখাদ্য, ৬৫ মেট্টিক টন খড় ও ৯৬ মেট্টিক টন সাইলেজ ও ৪৫ হাজার উন্নত জাতের ঘাসের কাটিং বিতরণ করা হয়েছে। জরুরি ওষুধ সরবরাহ ও টিকা দেওয়াসহ প্রায় ২০ হাজার গবাদিপশু এবং ২ লাখের বেশি হাঁসমুরগির চিকিৎসা দেওয়া হয়। এছাড়াও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে উপদ্রুত এলাকায় পশু খাদ্য কেনার জন্য ৫১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই মন্ত্রণালয় থেকে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
দেশের মানুষ যাতে সুলভ মূল্যে ইলিশ খেতে পারে সে জন্য রফতানি না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইলিশ পাচার রোধ ও মূল্য সহনশীল রাখার জন্য আড়তদার, ট্রলার মালিকসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে সভা করা হয়। তাছাড়া ব্যবসায়ী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মতবিনিময় করে সুলভ মূল্যে ইলিশের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের সিদ্ধ্বান্ত নেওয়া হয়েছে।
মাঠ পর্যায়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ নিয়ে কর্মসূচি পরিচালনাকারী বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়। মৎস্য ও গবাদি পশুর জাত রক্ষা এবং যারা এই কাজের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করেন সেসব প্রান্তিক খামারিদের সমস্যা ও তা উত্তরণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ব্যাপারে এনজিওদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও তথ্য দিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কার্যাবলিতে আরও বলা হয়, মন্ত্রণালয়ের অধিন দফতরগুলোর পদোন্নতিসহ পদায়নের কার্যক্রম গতিশীল করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মৎস্য অধিদফতরের ২৫ জন কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। সমাপ্ত ও চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জনবল রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে উত্থাপিত দাবিগুলো বিবেচনার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
বন্যা দুর্গতদের সহায়তার জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং অধীন দফতর/সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এক দিনের বেতনের সমপরিমাণ (৯০ লাখ ৯৬ হাজার ৯৮৪) টাকার চেক প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে জমা দেওয়া হয়।









