বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান সোমবার বিকেলে দেশে ফিরেছেন। ৪দিন ভারতে অবস্থানের পর তিনি দেশে ফিরলেন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার তিনি দিল্লি যান। তিনি যখন ভারতে অবস্থান করছিলেন তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গভর্নর এখন ফিরেছেন। অর্থমন্ত্রী এখন তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেন সবাই তাকিয়ে আছে সেই দিকে।
প্রসঙ্গত, রিজার্ভের টাকা চুরি হওয়ার তথ্য গোপন করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ
ঘটনায় কেবল অর্থমন্ত্রীই নয়,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন। হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা লোপাটের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন,এ ইস্যুতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানের দায় এড়ানোর কোনও সুযোগ নেই। এ ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার যে চেষ্টা হয়েছে,তাতেও গভর্নরের ওপর চটেছেন প্রধানমন্ত্রী। শুধু তাই নয়,প্রধানমন্ত্রী বলেছেন,এ ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার আসল রহস্য কী, তাও উদঘাটন করতে হবে। এ চেষ্টায় কারা জড়িত তাও খতিয়ে দেখা হবে। রবিবার সন্ধ্যায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সংক্রান্ত দলের মনোনয়ন বোর্ডের এক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সদস্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলা ট্রিবিউনকে।
একই ঘটনায় ব্যাংকিং খাতে পরিবর্তন আসছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, তিনি এখন গভর্নর আতিউর রহমানের জন্য অপেক্ষা করছেন। সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,‘ডেফিনেটলি দেয়ার উড বি চেইঞ্জেস। এতো বড় একটা সিরিয়াস ব্যাপার। আই টেক ইট ভেরি সিরিয়াসলি।’
এরই অংশ হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে দুইজন নতুন সদস্য নিয়োগ দিয়েছে সরকার।তারা হলেন, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামালউদ্দিন আহমেদ ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক রুশিদান ইসলাম রহমান। রবিবার সন্ধ্যায় অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে।
অর্থমন্ত্রীর ইচ্ছে অনুযায়ী আরও কিছু পরিবর্তন হওয়ার কথা রয়েছে। অর্থ লোপাটের বিষয়টি চেপে গিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেভাবে তা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে তাকে ‘অযোগ্যতা’ আখ্যায়িত করে ক্ষুব্ধ মুহিত রবিবার বলেন,এই ‘স্পর্ধার জন্য অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দেবেন বলেও জানিয়েছেন মুহিত। প্রধানমন্ত্রী কোনও নির্দেশনা দিয়েছেন কি-না জানতে চাইলে মুহিত সাংবাদিকদের বলেন,‘আই অ্যাম ওয়েটিং ফর আতিউর। আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করব বলেছিলাম,আলোচনা হয়েছে। এখন বিবৃতি দেবেন কি না জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন,‘আর কোনো স্টেটমেন্ট নাই। গভর্নর ফিরে আসলে আই উইল... স্টেটমেন্ট। সেটা আজও হতে পারে, কালও হতে পারে। কারণ সে কখন আসবে-তার কোনও ঠিক নাই।
এর আগে বিকেলে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও টাকা লোপাটের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের ওপর নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি আরও বলেন,টাকা গচ্চা যাওয়ার ঘটনাটি নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম থেকে অর্থ স্থানান্তরের যে সংকেতলিপি (সুইফট কোড) ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কের কাছে পাঠানো হয়েছিল, তা ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকেরই কোড। বাংলাদেশ ব্যাংকের কোড ব্যবহার করেই ১০১ মিলিয়ন ডলার স্থানান্তরিত হয়ে যায় ফিলিপাইনে।শ্রীলঙ্কার একটি ব্যাংকে আরও ২০ মিলিয়ন ডলার সরানো হলেও বানান ভুলের কারণে সন্দেহ হওয়ায় শেষ মুহূর্তে তা আটকে যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংক শুরুতেই বিষয়টি টের পেলেও কর্মকর্তারা তা গোপন করেন। অর্থমন্ত্রী এক মাস পর তা পত্রিকা পড়ে জানতে পারেন। শুধু যে অর্থমন্ত্রীকে জানানো হয়নি, তা নয়,বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকেও অর্থ হ্যাকিংয়ের বিষয়টি জানানো হয়নি।পর্ষদের অন্যতম সদস্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. এম আসলাম আলমকেও জানায়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন,অর্থ চুরির ঘটনাটি ঘটেছে ৫ ফেব্রুয়ারি। এরপর ২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সভা হয়েছে।২৯ ফেব্রুয়ারি ও ১ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিট কমিটির সভা হয়েছে।কিন্তু কোনও সভাতেই বিষয়টি তাকে জানানো হয়নি।সচিব বলেন, আমি মনে করি,এটা অবশ্যই বাংলাদেশ ব্যাংকের আমাদের ও সরকারকে জানানো উচিত ছিল।
জিএম/ এমএসএম








