বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির ঘটনায় যে কর্মকর্তাদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে তাদের ওপরই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল চুরি যাওয়া অর্থ ফেরত আনার জন্য। তাদের মধ্যে একজন হলেন ডিলিং রুম শাখার যুগ্ম পরিচালক জোবায়ের বিন হুদা। যিনি ঘটনা ঘটার ৪০ দিন পর বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে মতিঝিল থানায় একটি মামলা করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র মতে, গত ৪ ফেব্রুয়ারি, দিবাগত রাত প্রায় সাড়ে ১২টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফটের বার্তা বা সংকেত ব্যবহার করে ৩৫টি অর্থ স্থানান্তরের পরামর্শ বা অ্যাডভাইস পাঠানো হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেমে। পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি শুক্রবারও বাংলাদেশ ব্যাংকে দায়িত্ব পালনের জন্য এসেছিলে ৮ কর্মকর্তা। কিন্তু ওইদিন তারা কম্পিউটার চালু করতে পারেননি। কম্পিউটারের সঙ্গে সংযুক্ত প্রিন্টারগুলোও ছিল অকেজো। অথচ ওই ৮ কর্মকর্তার কেউই ঊর্ধ্বতনদের কাছে বিষয়টি জানাননি। আর এর মধ্যেই রিজার্ভের ১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার চুরি হয়ে যায়। এ কারণে দায়িত্বে থাকা ওই ৮ কর্মকর্তাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৪ ফেব্রুয়ারি ঘটনা ঘটলেও প্রায় এক সপ্তাহ পরে জানানো হয় গভর্নর আতিউর রহমানকে। শ্রীলঙ্কার প্যান এশিয়া ব্যাংকিং করপোরেশনে চলে যাওয়া অর্থ আটকে যায় একটি বানান ভুলের কারণে। ৮ ফ্রেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ‘স্টপ পেমেন্ট রিকোয়েস্ট’ বার্তা পাঠানোর পর ২০ মিলিয়ন ডলার আটকে দেয় সে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ২০ মিলিয়ন ডলার ফিরে আসে।
প্রসঙ্গত, ২০ মিলিয়ন ডলার আটকে দেওয়ার কৃতিত্ব নেওয়া কর্মকর্তারাই ফিলিপাইনে চলে যাওয়া বাকি ৮১ মিলিয়ন ডলার অর্থ ফেরত আনার চেষ্টা করেন। ওই সময় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মনে করেছিলেন, শ্রীলঙ্কার মতো ফিলিপাইন থেকেও অর্থ ফেরত আনা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ২০ মিলিয়ন ডলার আটকে দেওয়ার কৃতিত্ব নেওয়া কর্মকর্তারা ৮ ফেব্রুয়ারি ‘অচিরেই অর্থ ফেরত আনা সম্ভব হবে’ এমন তথ্য দেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাকে। এর ফলে এত বড় ঘটনা চেপে যাওয়া হয়। বিষয়টি সরকারের শীর্ষ মহল বা অর্থমন্ত্রীকে জানানো জরুরি হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থ ফেরত আনার কৌশল হিসেবেই চেপে যায়। কিন্তু এরই মধ্যে প্রায় এক মাস কেটে গেলে পরিস্থিতির অবনতি হয়।








