এক পয়সার সুদ হয়ে যাচ্ছে দশ টাকা

শেখ শাহরিয়ার জামান
০৭ এপ্রিল ২০১৬, ২২:২৫আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৬, ২২:২৫

পোশাক কারখানা পোশাক কারখানাগুলো মেরামতের জন্য উন্নয়ন সহাযোগীরা এক পয়সা সুদে ঋণ দিলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সে সুদ হয়ে যাচ্ছে ১০ টাকা। এ কারণে উন্নয়ন সহযোগীরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ব্যবসায়ীরাও এ ঋণ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন না। ফলে উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না।
জানা গেছে, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি- জাইকা ০.০১ শতাংশ হারে অর্থ মন্ত্রণালয়কে ঋণ দিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে তা ৪ শতাংশ হারে হস্তান্তর করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ৫ শতাংশ হারে সরবরাহ করছে। আর বাণিজ্যিাক ব্যাংকগুলো কারখানা মলিকদের সে ঋণ দিচ্ছে ৯ থেকে ১০ শতাংশ সুদে।
এখন পর্যন্ত ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন ৫০ মিলিয়ন ডলার তহবিল, ইউএসএআইডি ২২ মিলিয়ন ডলারের তহবিল, জাইকা ১৩ মিলিয়ন ডলারের তহবিল সরকারকে দিয়েছে। ইউরোপের এএফডি নামক প্রতিষ্ঠান আগামী জুন মাস নাগাদ ৫০ মিলিয়ন ইউরোর একটি তহবিল সরবরাহ করবে শুধু পোশাক শিল্প কারখানা মেরামতের জন্য।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতরা পররাষ্ট্র সচিব, বাণিজ্য সচিব ও শ্রম সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে তারা ঋণের সুদের হারের বিষয়ে অসন্তুষ্টির কথা জানান।
বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে রাষ্ট্রদূতরা বলেছেন, এ দেশের তৈরি পোশাক শিল্প যেন আন্তর্জাতিক সক্ষমতা অর্জন করতে পারে সেজন্য তারা সহজ শর্তে ঋণ দিচ্ছেন। কিন্তু কী কারণে এ ঋণের সুদের হার এত বেশি রাখা হচ্ছে তা তাদের কাছে বোধগম্য নয়।

তারা বলেছেন, সাধারণ বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ তহবিলের ঋণ দেওয়া হলে এর প্রকৃত উদ্দেশ্য সফল হবে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হারের ওঠানামার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ৪ শতাংশ হারে বাংলাদেশ ব্যাংককে তহবিল দিয়ে থাকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক পাচঁ শতাংশ ব্যাংক রেটে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ঋণ দেয়। আর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের সঙ্গে আলোচনা করে সুদের হার ঠিক করে। ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে এ ঋণের চূড়ান্ত সুদের হার ১০ বা ১৫ শতাংশ হতে পারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বিষয়ে নাক গলায় না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যে কারণে এ তহবিল গঠন করা হয়েছে তা সফল হচ্ছে না। এখানে সরকারের একটি দায়িত্ব আছে। জাতীয় স্বার্থে তাদের সব জায়গায় লাভ করা উচিৎ নয়। সর্বনিম্ন সুদের হারে এ তহবিল থেকে ঋণ দেওয়া উচিত যাতে এ শিল্প সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে সরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ঋণ বিতরণ করা যেতে পারে।’

২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধ্বসের পর সরকার, কারখানা মালিক, বিদেশি ক্রেতা এবং উন্নয়ন সহযোগীরা মিলে কারখানাগুলোর কর্মপরিবেশ ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে উন্নয়ন সহযোগীরা সহজ শর্তে ঋণ দিচ্ছে।

এদিকে আইএফসি ও আইএলওর এক যৌথ সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৫১ শতাংশ কারখানার ইলেকট্রিক্যাল যন্ত্রাংশ ঠিক করতে হবে, ৩০ শতাংশ কারখানায় আগুন নির্বাপক যন্ত্রাংশে সমস্যা আছে এবং ১৯ শতাংশে কাঠামোগত সমস্যা আছে।

তাদের হিসাব অনুযায়ী মোট ৩,৭৭৮ কারখানার মেরামত কাজের জন্য প্রায় ৯৩০ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে।

/এজে/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম