দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই) আধুনিক খুচরা বিক্রয় খাতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠানটির নতুন উদ্যোগ ‘ফ্রেশ সুপার মার্ট’ রাজধানীর মেট্রোরেল এমআরটি লাইন-৬ এর ৯টি স্টেশন এবং গুলশান-১ এ একটি আউটলেট চালুর মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করেছে।
সম্প্রতি গুলশান-১ এর রোড-৩৪ এর একটি অনুষ্ঠানে ফ্রেশ সুপার মার্টের উদ্বোধন করেন এমজিআইয়ের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল। অনুষ্ঠানে এমজিআইয়ের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নতুন আউটলেটগুলো চালু হয়েছে মেট্রোরেলের মতিঝিল, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মিরপুর-১০, মিরপুর-১১, পল্লবী, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা নর্থ সি গেট এবং উত্তরা নর্থ ডি গেট স্টেশনে। এর আগে পরীক্ষামূলকভাবে তেজগাঁও, মেঘনাঘাট ও মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোনে (এমআইইজেড) তিনটি আউটলেট চালু করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মোস্তফা কামাল বলেন, দেশের নগরজীবন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং মানুষের কেনাকাটার অভ্যাসও বদলাচ্ছে। ব্যস্ত নগরবাসী যাতে যাতায়াতের পথেই সহজে ও দ্রুত প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই ফ্রেশ সুপার মার্ট চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ উদ্যোগ দেশের আধুনিক খুচরা বিক্রয় খাতে নতুন মানদণ্ড তৈরি করবে।
তিনি আরও বলেন, এমজিআই পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের ভোক্তাদের কাছে বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিত। নিজেদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি এই উদ্যোগ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করবে।
দেশের খুচরা বাজারের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে মোস্তফা কামাল বলেন, বাংলাদেশে আধুনিক সুপারশপ ও ব্র্যান্ডভিত্তিক রিটেইল স্টোরের অংশীদারত্ব এখনও মোট বাজারের পাঁচ শতাংশেরও কম। এ খাতের সম্প্রসারণে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে এবং প্রাথমিকভাবে সারা দেশে আরও ৫০টি আউটলেট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, প্রচলিত সুপারশপ ও হাইপারমার্কেটের তুলনায় ফ্রেশ সুপার মার্ট ভিন্ন ধরনের ব্যবসায়িক মডেল নিয়ে এসেছে। টোকিও, সিউল ও সিঙ্গাপুরের মতো শহরে জনপ্রিয় ‘অন-দ্য-গো’ রিটেইল ধারণার আদলে যাত্রী ও কর্মজীবী মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে এসব আউটলেট স্থাপন করা হয়েছে।
বর্তমানে এমআরটি লাইন-৬ প্রতিদিন প্রায় ৪ লাখ যাত্রী বহন করছে। কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণের পর এ সংখ্যা পাঁচ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী ফ্রেশ সুপার মার্টের সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
প্রতিটি আউটলেটে দুগ্ধজাত ও হিমায়িত খাদ্যপণ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় মুদি পণ্য, গৃহস্থালি সামগ্রী, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা পণ্য, প্রসাধনী এবং ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধ পাওয়া যাবে। পাশাপাশি ইন-স্টোর ক্যাফেতে কফি ও বিভিন্ন ধরনের স্ন্যাকসের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ফ্রেশ ব্র্যান্ডের পণ্যের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্য বিক্রি হবে এসব আউটলেটে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দেশের আধুনিক খুচরা বিক্রি খাত এখনও বিকাশের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণা বলছে, ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের খুচরা বাজার গড়ে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ হারে সম্প্রসারিত হতে পারে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এইচএসবিসির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ভোক্তা বাজারে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।









