বাংলাদেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহ এ বছরও আশাব্যঞ্জক অবস্থানে রয়েছে। চলতি আগস্টের প্রথম ১৬ দিনে এসেছে ১ হাজার ২৬৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার; যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। শুধু ১৪ থেকে ১৬ আগস্টের মধ্যে এসেছে ১২১ মিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স আসে মোট ৩ হাজার ৭৪২ মিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ৩ হাজার ২৬ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহে ২৩ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক ধারা
বিশ্লেষকরা বলছেন, হুন্ডি প্রবাহ কমাতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি, প্রণোদনা অব্যাহত রাখা এবং মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফলে জুলাই-আগস্টের এই সময়ে আয়ের ধারা আগের চেয়ে শক্তিশালী।
অন্যদিকে, জুলাই মাসে ঈদুল আজহার পরও রেমিট্যান্সের গতি ধরে রাখা গেছে। সাধারণত ঈদে প্রবাসী আয় বাড়লেও পরের মাসগুলোতে প্রবাহ কিছুটা শ্লথ হয়। কিন্তু এ বছর আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত তথ্য বলছে, আয় এখনও সন্তোষজনক হারে আসছে।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতি
রেমিট্যান্স প্রবাহের পাশাপাশি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও টিকে আছে স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে। এ বছর ১৭ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে গ্রস রিজার্ভ ৩০, ৮০৯ দশমিক ৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার; আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ২৫, ৮০৬ দশমিক ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। রিজার্ভের এই অবস্থান আমদানি ব্যয় মেটানো এবং অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
সামনের দিনগুলোতে চ্যালেঞ্জ
যদিও রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে এবং রিজার্ভ স্থিতিশীল রয়েছে, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধারা ধরে রাখতে হলে শ্রমবাজারে বৈচিত্র্য আনা, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ প্রাতিষ্ঠানিক চ্যানেলে আনার প্রণোদনা আরও কার্যকর করা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যদিকে, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ ও আমদানি চাপে রিজার্ভের ওপর চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।
তবু জুলাই-আগস্টের পরিসংখ্যানকে অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, প্রবাসী আয়ের গতি অব্যাহত থাকলে এবং রিজার্ভ স্থিতিশীল থাকলে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির চাপ কিছুটা প্রশমিত হবে।









