মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার। তিনি বলেছেন, মজুরি বোর্ড গঠিত হয়েছে। শ্রমিকদের দাবি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত নতুন মজুরি ঘোষণা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে শ্রমিকদের সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।
তাসলিমা আখতার বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি করা জরুরি। আগে পাঁচ বছর পরপর মজুরি পরিবর্তনের বিধান থাকলেও নতুন শ্রম আইনে এখন থেকে তিন বছর পরপর মজুরি বৃদ্ধির বিষয়টি যুক্ত হয়েছে। ফলে আইন অনুযায়ী মালিকপক্ষকে নির্দিষ্ট সময় পরপর মজুরি বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানে হাজারো মানুষের প্রাণের বিনিময়ে নতুন শ্রম আইন এসেছে। ওই অভ্যুত্থানে পোশাক খাতেরও ৫০ জনের বেশি শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত আইনি পরিবর্তনের অংশ হিসেবে মজুরি বৃদ্ধির প্রক্রিয়া চলছে। শ্রমিকদের দাবির ভিত্তিতে মজুরি বোর্ড দ্রুত কাজ শেষ করে নতুন মজুরি ঘোষণা করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
তাসলিমা আখতারের বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, একটি পক্ষ শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে। গণঅভ্যুত্থানের বিরোধী ও পরাজিত শক্তি শ্রমিকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তারা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির কথা বলছে এবং নিজেদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে শ্রমিকদের ব্যবহার করতে চাইছে।
শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনও পক্ষ যেন নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য শ্রমিকদের আন্দোলন ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কারও পাতা ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে ধৈর্য ধরে সংগঠিতভাবে নিজেদের গণতান্ত্রিক দাবি তুলে ধরতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলন চলবে। তবে সেই আন্দোলন যেন কেউ ছিনতাই করতে বা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। কোনও কারখানায় ভাঙচুর কিংবা শ্রমিকদের ওপর কোনও পরিস্থিতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হলেও সতর্ক থাকতে হবে।
দেশের সব শ্রমিক সংগঠন ও পোশাকশ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নিজেদের দাবি আদায়ের আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে গণঅভ্যুত্থানবিরোধী শক্তি যেন শ্রমিকদের ওপর চড়াও হতে না পারে, সে বিষয়েও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।