কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় আবাসিক মাদ্রাসার দুই ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে কবির হোসেন (৩৫) নামে এক শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দুই ছাত্রের পরিবারের পক্ষ থেকে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে।
রবিবার উপজেলার একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। আজ মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। কবির হোসেনের বাড়ি জেলার বরুড়া উপজেলায়।
দুই শিশুর স্বজনরা জানান, প্রায় এক মাস আগে ওই মাদ্রাসায় আবাসিক শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন কবির হোসেন। যোগদানের পর থেকে তিনি মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ১০ ও ১১ বছর বয়সী দুই আবাসিক ছাত্রকে বিভিন্ন সময় ধর্ষণ করেন। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক ভয়ভীতি দেখিয়ে টানা কয়েক দিন ধরে দুই শিশুর ওপর যৌন নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। লোকলজ্জা ও ভয়ে শিশুরা প্রথমে বিষয়টি কাউকে জানায়নি। তবে গত দুই-তিন দিনে নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে গেলে তারা পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টি খুলে বলে। পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে ভুক্তভোগী শিশুদের পরিবার, অন্য অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
এর প্রতিবাদে রবিবার বিকালে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে জড়ো হন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা মাদ্রাসাটি ঘেরাও করে অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে চৌদ্দগ্রাম থানার একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে রাতে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
ভুক্তভোগী দুই ছাত্রের বাবা প্রবাসী। তাই একজনের চাচা এবং অন্যজনের দাদা বাদী হয়ে চৌদ্দগ্রাম থানায় পৃথক দুটি ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন। মামলার পর ওই শিক্ষককে গ্রেফতার দেখানো হয়।
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, ‘অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে দুই শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে দুটি মামলা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’