আগামী বাজেটে কালো টাকার সুযোগ!

গোলাম মওলা
১২ মে ২০২২, ১০:০০আপডেট : ১২ মে ২০২২, ১৫:৪৬

আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরেও কালো টাকা সাদা করার সুযোগ অব্যাহত রাখা হতে পারে। বর্তমানে নির্দিষ্ট হারে কর দিয়ে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ ও জমি-ফ্ল্যাট ক্রয় করে নগদ কালো টাকা সাদা করার সুযোগ আছে। এসব খাতে আগামী ৩০ জুন কালো টাকা সাদা করার সুযোগ শেষ হওয়ার কথা। এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, এই সুযোগ আরও এক বছর বাড়ানো হতে পারে।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ বলেন, ‘কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নয়, বরং অবৈধ আয়ের উৎস বন্ধ হওয়া জরুরি।’ তিনি উল্লেখ করেন, উৎস বন্ধ না করে বার বার এ সুযোগ দেওয়া হলে সেটা অর্থনীতির জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে না; বরং লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হবে।

বর্তমানে ফ্ল্যাট ও জমিতে আয়তন ও এলাকাভেদে নির্দিষ্ট পরিমাণ কর দিলে টাকার উৎস সম্পর্কে জানতে চান না কর কর্মকর্তারা। এছাড়া নগদ টাকা বা সঞ্চয়পত্র ও নানা ধরনের আমানতের ওপর ২৫ শতাংশ কর ও করের ওপর ৫ শতাংশ জরিমানা দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ আছে। এর বাইরে শেয়ারবাজারেও কালো টাকা সাদা করা যায়।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে কালো টাকা সাদা করায় তেমন সাড়া মেলেনি। এনবিআরের সর্বশেষ হিসাবে, গত জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৬৯৪ জন কালো টাকা সাদা করেছেন। এর মধ্যে ৫৫৮ জন ফ্ল্যাট ও জমির মালিক কালো টাকায় কেনা সম্পদ দেখিয়েছেন। ১২৩ জন করদাতা তাদের নগদ টাকা কিংবা সঞ্চয়পত্র ও এফডিআরের টাকা সাদা করেছেন। এ ছাড়া কালো টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছেন মাত্র ১৩ জন বিনিয়োগকারী।

গত ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল ১০ শতাংশ হারে কর দেওয়ার শর্তে। এই টাকা বিনিয়োগে বাধ্যবাধকতা ছিল শেয়ার মার্কেট, ব্যাংক আমানত, সঞ্চয়পত্র, জমি, ফ্লাটসহ নির্ধারিত কিছু খাতে।

মাত্র ১০ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার এই সুযোগ দেওয়া হলেও প্রদর্শিত আয়ে করদাতারা সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করেছেন।

অবশ্য চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে কালো টাকা সাদা করার ক্ষেত্রে নতুন শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। শর্ত অনুযায়ী, শেয়ার মার্কেট, ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র এবং হাতের নগদ টাকা সাদা করলে ২৫ শতাংশ কর দেওয়ার পাশাপাশি মোট করের ওপর পাঁচ শতাংশ পেনাল্টি দিতে হয়েছে। তবে, শিল্প-কারখানায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ কর দিয়েই এই সুবিধা নিয়েছেন।

এদিকে, আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে আগামী অর্থবছরের মোট আয়ের তিন লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হচ্ছে এনবিআরকে। এটি জিডিপির প্রায় ৮.৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে এনবিআরকে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া আছে। সেই হিসাবে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটের মূল লক্ষ্য থেকে প্রায় ১০ শতাংশ বা ৪০ হাজার কোটি টাকা বেশি।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে হবে ভ্যাট বিভাগকে। এ ছাড়া আয়কর বিভাগকে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা এবং শুল্ক বিভাগকে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে হবে। এ ছাড়া আগামী বাজেটে মোট আয়ের মধ্যে নন-এনবিআর থেকে প্রাক্কলন করা হয়েছে ১৮ হাজার কোটি টাকা। করবহির্ভূত রাজস্ব ৪৯ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে।

/আইএ/ইউএস/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান