দেশীয় গাড়ি শিল্পের বিকাশ এবং পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার উৎসাহিত করতে ব্যক্তিগত গাড়ি ঋণের সীমা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত ঋণের সর্বোচ্চ মেয়াদও বৃদ্ধি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) এ বিষয়ে একটি সার্কুলার লেটার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধান ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে জারি করা সার্কুলার অনুযায়ী, একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত গাড়ি ঋণ নিতে পারবেন। তবে বৈদ্যুতিক (ইলেকট্রিক), হাইব্রিড এবং দেশে উৎপাদিত গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ঋণের সীমা বাড়িয়ে ৮০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া সাধারণ গাড়ি ঋণের ক্ষেত্রে ঋণ ও গ্রাহকের নিজস্ব বিনিয়োগের অনুপাত (ডেট-ইকুইটি রেশিও) সর্বোচ্চ ৬০:৪০ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ গাড়ির মূল্যের ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যাবে এবং বাকি ৪০ শতাংশ গ্রাহককে নিজে বিনিয়োগ করতে হবে। তবে বৈদ্যুতিক, হাইব্রিড ও দেশীয়ভাবে উৎপাদিত গাড়ির ক্ষেত্রে এই অনুপাত হবে ৮০:২০। ফলে এসব গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে গ্রাহকরা তুলনামূলক কম নিজস্ব অর্থ বিনিয়োগ করেই ঋণ সুবিধা পাবেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, কোনো ব্যক্তির ওপর মোট ঋণের হিসাব নির্ধারণের ক্ষেত্রে তার ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের নামে নেওয়া গাড়ি ঋণও একই এক্সপোজারের অংশ হিসেবে গণ্য হবে।
এদিকে ব্যক্তিগত ঋণ এবং ভোগ্যপণ্য ক্রয়ের জন্য নেওয়া ঋণের (পার্সোনাল লোন ও কনজ্যুমার ডিউরেবলস লোন) সর্বোচ্চ মেয়াদ বাড়িয়ে ৮ বছর করা হয়েছে। এর আগে এই ধরনের ঋণের মেয়াদ তুলনামূলক কম ছিল।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে, ভোক্তা ঋণের প্রবৃদ্ধি কোনো ব্যাংকের মোট ঋণ প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি হতে পারবে না—এমন বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১৭ সালের একটি সার্কুলার এবং চলতি বছরের মে মাসে জারি করা নির্দেশনায় থাকা এ সীমাবদ্ধতা অবিলম্বে বাতিল করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে এবং এটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এ নীতিমালার ফলে দেশীয় গাড়ি শিল্পে বিনিয়োগ বাড়বে, বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড গাড়ির ব্যবহার উৎসাহিত হবে এবং ভোক্তা ঋণ বাজারে নতুন গতি সঞ্চার হতে পারে।









