‘আওয়ামী লীগের আছে, বিএনপি-জামায়াতের যাওয়ার জায়গা নেই’ 

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট 
২৪ জুন ২০২৬, ২১:১৪আপডেট : ২৪ জুন ২০২৬, ২১:১৪

আওয়ামী লীগের জায়গা আছে, বিএনপি-জামায়াতের যাওয়ার জায়গা নেই উল্লেখ করে সাতক্ষীরা-১ আসনের জামায়াতের ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. ইজ্জত উল্লাহ বলেছেন, “জনগণ গণঅভ্যুত্থান করে আওয়ামী লীগকে দেশ ছাড়া করেছে। বিএনপি-জামাতকে ভাবতে হবে? আমরা যদি সুশাসন দিতে না পারি, আমরা চান্দাবাজি, ধান্দাবাজি, টেন্ডারবাজি করে যদি দেশ চালাতে চাই, আমাদেরও পরিণতি কী হবে— এটা ভেবে দেখা দরকার। তাদের তো যাওয়ার জায়গা আছে, বিএনপি-জামাতের যাওয়ার কিন্তু জায়গা নেই।”    

বুধবার (২৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৪তম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত আজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।   

মো. ইজ্জত উল্লাহ বলেন, “অর্থমন্ত্রী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিয়েছেন। ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব পাবো, এই টার্গেট ধরা হয়েছে। ঘাটতি বাজেট হলো ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু আমরা এই কথা সবাই জানি, আমাদের রাজস্ব প্রাপ্তির যে টার্গেট ধরা হয়, সেটা আমরা অর্জন করতে পারি না। বিগত তিন বছর তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ। সেই হিসেবে ধরলে আমাদের প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার ঘাটতি বাজেট বললে অত্যুক্তি হবে না।”  

মো. ইজ্জত উল্লাহ বলেন, “বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে আমরা ৩ লাখ কোটি টাকা আমরা নির্ধারণ করেছি মোটামুটি। এই টাকা পেলে আমরা আগামী একবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি সুন্দরভাবে করতে পারবো। এজন্য ঘাটতি বাজেট করা হলো ৩ লাখ কোটি টাকার মতো। এখানে একটা বিষয় আমাদের জানা দরকার, বোঝা দরকার যে, খরচের খাতে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সুদ দিতে হবে। কিন্তু ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতা গ্রহণ করে তখন কিন্তু আভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক ঋণ ছিল মাত্র ২ লাখ ৭৬ হাজার ৮৩০ কোটি কোটি টাকা। এখন সেই ঋণ বেড়ে ২০২৬ সালে এসে ৩০ ট্রিলিয়ন অর্থাৎ ৩০ লাখ কোটি টাকায় পরিণত হয়েছে। আর এই ৩০ লাখ কোটি টাকার সুদ আমাদের এই বছর দিতে হবে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। এখন ৩ লাখ কোটি টাকা এই বছর আবার ঋণ আমরা নিতে চাচ্ছি। এইভাবে যদি আরও কয়েক বছর যায়, তাহলে এক পর্যায়ে এসে সুদ দিতেই তো আমাদের হিমশিম খেতে হবে। আমরা দেশ চালাবো কীভাবে? ঋণের টাকাটা পাবো কোথায়? সে সল্যুশনটা দেওয়া হয়েছে যে, আমরা ১ লাখ ১২০ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ নেবো।”  

মো. ইজ্জত উল্লাহ বলেন, “২০২৬ সালের মার্চ মাস শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকে কিন্তু খেলাপি ঋণ ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। তো ব্যাংক আমাদের কীভাবে ঋণ দেবে? তখন দেখা যাবে যে, ব্যাংক যদি ঋণ না দিতে পারে তাহলে কিন্তু আমাদের টাকা ছাপানো ছাড়া আর পথ থাকবে না।”  

মো. ইজ্জত উল্লাহ বলেন, “আমার আগে একটু আগেই ব্যারিস্টার নাজিম মোমেন সাহেব তিনি কিন্তু আজকের পত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়ে বললেন যে, সরকার টাকা ছাপাচ্ছে। আমিও দুই তিন মাস আগেই এটা দেখেছিলাম পত্রিকায়। নিজেই দেখেছিলাম যে, সরকার টাকা ছেপে ব্যাংকে দিচ্ছে। এই যদি হয় অবস্থা, তাহলে তো মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যাবে। তাহলে দেশটা কীভাবে চলবে? ঋণ করে ঘি ভাত খাওয়ার মতোন আমাদের অবস্থা। আমরা ঋণ করে তিন লাখ কোটি টাকা উন্নয়ন বাজেট করছি। আমাদের কী অবস্থা সৃষ্টি হবে একটা সময় গিয়ে? আওয়ামী লীগ তো ১৫ বছরের মাথায় এসে তারা ৩০ লাখ কোটিতে নিয়ে গেলো। আমাদের তো ১৫ বছরের মাথায় গিয়ে ৬০ লাখ কোটি টাকা হয়ে যাবে। তখন আমাদের অবস্থাটা কী সৃষ্টি হবে, কীভাবে আমাদের দেশটা চলবে?”  

মো. ইজ্জত উল্লাহ বলেন, “বাংলাদেশের জনগণ কিন্তু কারো ‘খাাড়া’র মাছ না। এই জনগণ তারা গণঅভ্যুত্থান করে আওয়ামী লীগকে দেশ ছাড়া করেছে। বিএনপি জামাতকে ভাবতে হবে? আমরা যদি সুশাসন দিতে না পারি, আমরা চান্দাবাজি, ধান্দাবাজি, টেন্ডারবাজি করে যদি দেশ চালাতে চাই, আমাদেরও পরিণতি কী হবে, এটা ভেবে দেখা দরকার। তাদের তো যাওয়ার জায়গা আছে, বিএনপি জামাতের যাওয়ার কিন্তু জায়গা নেই। এজন্য আমি মনে করি যে, আমরা গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সরকারি দল, বিরোধী দল মিলেই একটা সরকার।”  

মো. ইজ্জত উল্লাহ বলেন, “আমাদের সরকারি বন্ধুরা অসহিষ্ণু হন, প্রায় প্রায় বলেন যে, বিরোধীদলীয় নেতারা এই কথা বলেন, ওই কথা বলেন। বাজেটের ওপরে আলোচনা চলছে, হবে, তারপর সবাই মিলে আমরা একটা বাজেট করবো। সেই বাজেটটা সবাই মিলে বাস্তবায়ন করবো, এটাই তো হতে হবে। আমরা যা পেশ করাবে, তার শুধু গুণগান গাবো? তাহলে তো হলো না।”  

বিরোধী দল রাজনীতি তো সরকারের একটা পার্ট উল্লেখ করে মো. ইজ্জত উল্লাহ বলেন, “এই সরকারকে সুন্দরভাবে চলতে হবে। দেশের মানুষের চাহিদা মেটাতে হবে, সুশাসন দিতে হবে, দেশের জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে সেই সংগ্রাম আমাদের রাখতে হবে। দেশের মানুষ যেন খেয়ে-পরে বাঁচতে পারে, সে ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে।”  

/এসএমএ/এসটি/ 
সম্পর্কিত
ধানমন্ডিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ৪ জনকে বহিষ্কার করলো জামায়াত
রাজস্বদাতা ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ১১.৮৬ শতাংশ
মোবাইল অপারেটরদের মধ্যে রাজস্ব বকেয়ার শীর্ষে গ্রামীণ ফোন 
সর্বশেষ খবর
চলন্ত ট্রেনে ছোড়া পাথরে চোখ হারালেন আইনজীবী
চলন্ত ট্রেনে ছোড়া পাথরে চোখ হারালেন আইনজীবী
গান গেয়ে নয়, চাকরি গেছে ‘অন্য কারণে’
গান গেয়ে নয়, চাকরি গেছে ‘অন্য কারণে’
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
জর্ডানের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা দলে পরিবর্তন আসছে, মেসি কি খেলবেন
জর্ডানের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা দলে পরিবর্তন আসছে, মেসি কি খেলবেন
সর্বাধিক পঠিত
স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা পোশাক কারখানা, একসঙ্গে বেকার ১৮০০ শ্রমিক
স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা পোশাক কারখানা, একসঙ্গে বেকার ১৮০০ শ্রমিক
‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন’ জানেন না অনেকেই, সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ
‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন’ জানেন না অনেকেই, সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ
মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বিষয়ে সতর্ক করলো বিআরটিএ
মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বিষয়ে সতর্ক করলো বিআরটিএ
মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা
মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা
১৩ বছর পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরলেন ওয়াহিদুজ্জামান
১৩ বছর পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরলেন ওয়াহিদুজ্জামান