তিন মাসে খেলাপি ঋণ বাড়ল ২ হাজার কোটি টাকা

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৮ নভেম্বর ২০১৬, ০২:০৮আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৬, ০২:১২

ঋণখেলাপি চলতি অর্থবছরের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপিঋণ দাঁড়িয়েছে ৬৫ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা। যা মোট বিতরণ করা ঋণের ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশ। যা আগের প্রান্তিক জুন শেষে ছিল ৬৩ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা। এ হিসাবে শেষ তিন মাসেই বেড়েছে ২ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
জানা গেছে, বিশেষ সুবিধায় নিয়মিত করা ঋণ আবারও খেলাপি হয়ে পড়ছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য নীতিমালার আলোকে ব্যাংকগুলোকে নতুন পদ্ধতিতে ঋণ শ্রেণীকরণ করায়ও বাড়ছে খেলাপিঋণ। তবে প্রতি প্রান্তিকে হাজার হাজার কোটি টাকার খেলাপিঋণ বৃদ্ধিকে এ খাতের জন্য বিপদ সংকেত হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিদরা। তারা বলছেন, বাছবিচার ছাড়া ঋণ অনুমোদন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সর্বোত্তম পরিপালন না করা এবং ঋণ আদায় কার্যক্রম জোরদার না করার কারণেই খেলাপিঋণ বাড়ছে। এতে ব্যাংকের তহবিল ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। কারণ খেলাপিঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হচ্ছে। অন্যদিকে, তহবিল ব্যয় বাড়ায় ঋণের সুদও প্রত্যাশিতহারে কমছে না। এতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসা বাণিজ্য।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ  বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ব্যাংক খাতের বড় শত্রু হচ্ছে  খেলাপি ঋণ । এই খেলাপি ঋণ বেশি হলে ব্যাংকের সক্ষমতা কমে যায়। ফলে সুদের হারও বাড়ে। তিনি বলেন, খেলাপিদের বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার ফলে ভালো গ্রাহকদের কাছে খারাপ সংকেত যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর খেলাপিঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা। আগের প্রান্তিক জুন শেষে যার পরিমাণ ছিল ২৫ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা। ফলে গেল তিন মাসে এ খাতের ব্যাংকগুলোর খেলাপিঋণ বেড়েছে ২ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। এ সময়ে বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর খেলাপিঋণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৬৯ কোটি টাকা। আগের প্রান্তিক জুন শেষে যার পরিমাণ ছিল ২ হাজার ১৫৬ কোটি টাকা।

ফলে গেল তিন মাসে এ খাতের ব্যাংকগুলোর খেলাপিঋণ বেড়েছে ১১৩ কোটি টাকা। এ সময়ে বিশেষায়িত খাতের ব্যাংকগুলোর খেলাপিঋণ অপরিবর্তিত রয়েছে। যার পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৭৭কোটি টাকা। তবে এ সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের খেলাপিঋণ কমে দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা। আগের প্রান্তিক জুন শেষে যার পরিমাণ ছিল ৩০ হাজার ৭৭ কোটি টাকা।

 /জিএম/এইচকে/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম