বাংলাদেশ ব্যাংকে এখন সাংবাদিকরা আগের মতো প্রবেশ করতে পারেন না। কিন্তু বিদেশি চোরদের জন্য দরজা ঠিকই খোলা থাকছে। প্রতিদিনই তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ঢুকছেন। কখনও তারা ডলার ভাঙানোর কথা বলে ঢুকছেন। আবার কখনও ঢুকছেন সুইফটের (সোসাইটি ফর ইন্টারব্যাংক ফিন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন) কর্মকর্তা পরিচয়ে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের টাকা চুরি করতে এসে বুধবার ধরা পড়েছেন দুই বিদেশি। রিজার্ভ চুরির ঘটনায় এমনিতেই বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন রয়েছে। ঠিক এমন সময় বিদেশি চোরদের আনাগোনা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ মনে করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চোর ঢোকার লক্ষণ ভাল নয়। একারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা উচিত। বিশেষ করে যখন কোনও বিদেশি ব্যাংকে প্রবেশ করবে, তখন থেকেই সিসিটিভিতে তাকে ফলো করা জরুরি।’ তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শুধু বিদেশি কেন,সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পূর্ব অনুমতি ছাড়া কাউকেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রবেশ করতে দেওয়া উচিত না।’
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অবান্তর বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চোর চুরি করে পালিয়ে গেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দুর্বলতা প্রমাণ হতো। যেহেতু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিরাপত্তা কর্মীরা বিদেশি চোরদের ধরতে সক্ষম হয়েছে, সেহেতু এটা দুর্বলতা নয়।’
জানা গেছে, টাকা চুরি করতে বুধবার মতিঝিল অফিসের ক্যাশ কাউন্টারে প্রবেশ করেছিলেন ইরানের দুই নাগরিক। তারা এক নারী গ্রাহকের এক লাখ টাকার বান্ডিল লুকিয়ে পকেটে নেন।সিসিটিভির ফুটেজে দুই বিদেশির চুরি করার দৃশ্য ধরা পড়ে। এরপর তাদের মতিঝিল থানায় হস্তান্তর করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্ট এরিয়া থেকে পাঁচ লাখ টাকা চুরির দায়ে চাকরি হারান স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার এক কর্মী।
এ প্রসঙ্গে শুভঙ্কর সাহা বলেন, ‘তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরে চুরির ঘটনা ঘটলেও সেটি ছিল ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের টাকা। সেই টাকা চুরির পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক চোরকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়। বুধবারেও চোরকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিরাপত্তা কর্মীরা। ধরা পড়ার পর ওই দুই বিদেশিকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে। তাদের বিষয়ে এখন সিদ্ধান্ত নেবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের যেকোনও ধরনের সহযোগিতা চাইলে তা আমরা করব।’
জানা গেছে, ওই দুজন ইরানি নাগরিক গত ২ ডিসেম্বর পর্যটক ভিসায় বাংলাদেশে এসেছেন। তারা ডলার ভাঙানোর কথা বলে বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রবেশ করেন।
প্রসঙ্গত, গত মার্চ মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা চুরির ঘটনায় পদত্যাগ করেন সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান।
রিজার্ভ চুরির লক্ষ্যে গত বছরের নভেম্বরে সুইফট সার্ভারের পাসওয়ার্ড নকল করতে বাংলাদেশ ব্যাংকে ঢুকেছিলেন নিলাভান্নান নামের এক ব্যক্তি। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তথ্য অনুযায়ী এই রিজার্ভ চুরির পেছনে জড়িত রয়েছেন ২৩ বিদেশি চোর ।
জানা গেছে, রিজার্ভ চুরির আগে সুইফটের একজন ‘প্রতিনিধি’ বাংলাদেশ ব্যাংকে এসেছিলেন সব পরীক্ষা নিরীক্ষা করার জন্য। আর তার হাতেই তুলে দেওয়া হয় গোপন আইডি ও পাসওয়ার্ড। এরপর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে হ্যাকাররা রিজার্ভের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করে।
এপিএইচ/
আরও পড়ুন: ভারপ্রাপ্ত সচিব হলেন ৮ কর্মকর্তা








