বিসিকের সব দফতর হবে এক ভবনে

Send
শফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত : ০০:৫৪, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৫০, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২০

বিসিক

 

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) রাজধানীভিত্তিক কার্যালয়গুলোকে এক ছাদের নিচে আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়। সময় ও অর্থ বাঁচানো এবং সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের স্বার্থে এমন পরিকল্পনা নিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়। পরিকল্পনাটি নীতিগতভাবে গ্রহণের পর এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ৯২ কোটি ৩৪ লাখ ৮৮ হাজার টাকা বরাদ্দও দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেক। মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) গৃহীত এই প্রকল্পের নাম ‘তেজগাঁও-এ বিসিকের বহুতল ভবন নির্মাণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্প।’

শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) প্রধান কার্যালয় নিজস্ব ভবনে থাকলেও ঢাকা আঞ্চলিক কার্যালয়সহ রাজধানীতে থাকা অন্য কার্যালয়গুলো পরিচালিত হচ্ছে ভাড়া বাড়িতে। এ কারণে ভাড়াবাবদ সরকারকে গুনতে হচ্ছে বিপুল পরিমাণের অর্থ। এছাড়াও ঢাকা আঞ্চলিক অফিসসহ অন্য অফিসগুলো রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে থাকার কারণে প্রধান কার্যালয়ে যে কোনও বৈঠক বা কাজে আসতে কর্মকর্তাদের সময়ক্ষেপণ হয়। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে দেখা যাচ্ছে ধীরগতি। এ সমস্যা কাটিয়ে উঠতে বিসিকের প্রধান কার্যালয় রাজধানীর মতিঝিল থেকে সরিয়ে তেজগাঁওয়ে স্থানান্তর করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য নতুন করে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে। আর সেই ভবনেই বিসিকের প্রধান কার্যালয়সহ ঢাকাকেন্দ্রিক সব কার্যালয়কে সরিয়ে আনা হবে। সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের জন্য এই প্রকল্প নিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়।

এদিকে, শিল্প মন্ত্রণালয়ের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একনেক যে বরাদ্দ দিয়েছে তার মধ্যে বিসিকের নিজস্ব অর্থায়নের পরিমাণ হচ্ছে ২৩ কোটি ৮ লাখ ৭২ হাজার টাকা। আর এতে সরকারের অর্থায়নের পরিমাণ হচ্ছে ৬৯ কোটি ২৬ লাখ ১৬ হাজার টাকা। একনেকের এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির কাজ ২০১৫ সালে শুরু হলেও নানা কারণে প্রকল্পটি সংশোধনের প্রয়োজন হয়। এ কারণে একনেক এ সংক্রান্ত প্রকল্পটি সংশোধনীসহ অনুমোদন করেছে। 

পরিকল্পনা কমিশনের সচিব মো. নুরুল আমিন জানিয়েছেন, প্রকল্পের আওতায় নির্মিতব্য মূল ভবনের স্থাপত্য নকশা অনুযায়ী নতুন আইটেম বিশেষ করে অ্যালুমিনিয়াম, টেম্পারড গ্লাস, কাচের দরজা, উন্নত মানের টাইলস সংযুক্ত করা হয়েছে। আসবাবপত্র ও ওয়ার্কস্টেশন আইটেম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। স্থাপত্য নকশা পুনর্বিন্যাসের কারণে ভবনের আয়তন ৭ হাজার ৮০০ বর্গফুট বাড়ানো হয়েছে। ফিনিশড্ শিডিউলে ভবনের বাইরে কার্টেন ওয়াল, ভেতরে কাচের বিভাজক, প্রবেশ করিডোর এবং লিফট লবিতে মার্বেল পাথর যোগ করা হয়েছে। জেনারেটর, সাব-স্টেশন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সন্নিবেশ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, জরুরি নির্গমণ, ফায়ার ফাইটিং ও ফায়ার লিফট যুক্ত করা হয়েছে। এতে প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে।

এদিকে পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট প্রাক্কলিত ব্যয়ের ৯২ কোটি ৩৪ লাখ ৮৮ হাজার টাকার মধ্যে মূল অনুমোদিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬২কোটি টাকা। প্রকল্পটি ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে বলে জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন জানিয়েছেন, সরকারের সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে কর্মসংস্থান ১৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা রয়েছে। বিসিক ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উন্নয়নে অবকাঠামোসহ নীতিমালা প্রণয়ন এবং দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিসিকের সেবা প্রদানের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়বে। যা ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের ক্ষুদ্র শিল্পে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক হবে।

পরিকল্পনা কমিশনে দাখিল করা প্রকল্প প্রস্তাবনায় জানা গেছে, বেইজমেন্টসহ দুটি ১৪তলা ভবন নির্মাণ করা হবে যেখানে মোট আয়তন হবে ১৪ হাজার ৩৯৮ দশমিক ৬৬ বর্গমিটার। ১০ হাজার গ্যালন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন রুফটপ আরসিসি পানির ট্যাংক, ২৫ হাজার গ্যালন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন আন্ডার গ্রাউন্ড পানি সংরক্ষণাগার, ৫টি লিফট, গ্যাস সংযোগ লাইন ১ হাজার ৩৬৭ দশমিক ৫৭ মিটার, কম্পাউন্ড ড্রেন নির্মাণ করা হবে ১৮৫ মিটার। একইসঙ্গে প্রকল্প এলাকায় ৫৯৫ মিটার এপ্রোচ রোড নির্মাণ করা হবে।

পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিসিকের প্রধান কার্যালয় ও ঢাকার আঞ্চলিক কার্যালয় একই ভবনে স্থানান্তর করা হবে। ফলে অফিস ভাড়া বাবদ ব্যয় সাশ্রয়সহ বিসিকের কার্যক্রমে গতিশীলতা বাড়বে এতে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উন্নয়নে বিসিকের সেবার মানও বাড়বে। এ ছাড়া প্রকল্পটির সংশোধন প্রস্তাবে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, জরুরি নির্গমণ, ফায়ার ফাইটিং এবং ফায়ার লিফট কার্যক্রম বহুতল এ ভবনটির নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

/এসআই/টিএন/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ