ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল: বিইআরসি সরব হবে ১৫ জুলাইয়ের পর

Send
সঞ্চিতা সীতু
প্রকাশিত : ১০:০০, জুলাই ০৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪১, জুলাই ০৮, ২০২০

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)সারাদেশে ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। মন্ত্রণালয় টাস্কফোর্স গঠন করে দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। কিন্তু এই দুর্যোগের সময় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কোথায়, এমন প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে ভূমিকা রাখা উচিত ছিল কমিশন তা করেনি। অন্যদিকে বিইআরসি বলছে গ্রাহকের সমস্যা সমাধানে আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত দেখা হবে, এরপরই কঠোর পদক্ষেপ নেবে তারা। এদিকে ক্যাব জানায়, তারা ৯ জুলাইয়ের পর রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি দেবে।

কমিশনের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কমিশন সরাসরি এ ধরনের বিষয়ে গণশুনানি করতে পারে না। আইনে এমন কোনও ধারা নেই। তবে গ্রাহক চাইলে পৃথক পৃথকভাবে অভিযোগ করতে পারেন। এসব অভিযোগের শুনানি হতে পারে।

বিইআরসি আইন ২০০৩ এর অধ্যায় ১০ এ সালিশ-মীমাংসা এবং আপিল এর ক্ষেত্রে বলা হয়েছে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে কমিশন বরাবর নির্ধারিত পন্থা অনুসরণ করে আবেদন করতে পারেন। এক্ষেত্রে কমিশন তার লাইসেন্সের সঙ্গে শুনানির ব্যবস্থা করতে পারেন।

তবে বিরোধ মীমাংসার ক্ষেত্রে কোনও গ্রাহক এখন এভাবে কমিশনের কাছে আবেদন করেন না। শুধুমাত্র জ্বালানিখাতের যেসব প্রতিষ্ঠান কমিশনের লাইসেন্সধারী তারাই সময়ে সময়ে বিরোধ মীমাংসার আবেদন করে। কমিশন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি ওই বিরোধ মীমাংসা করে থাকে। এক্ষেত্রে কমিশন লিখিত আদেশ দেয়। যা উভয় পক্ষের জন্য পালনীয়।

সাম্প্রতিক সময়ে ভুতুড়ে বিল আসায় গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষায় গত ২৪ মে বাংলাদেশ কনজুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কমিশনের কাছে এ বিষয়ে সমাধানের জন্য চিঠি দেয়। ওই সময় বিইআরসির পক্ষ থেকে বলা হয়, আইন অনুযায়ী এ ধরনের চিঠি তারা গ্রহণ করতে পারেন না। তবে তাদের অভিযোগ আমলে নিয়ে বিতরণ কোম্পানিগুলোকে বিলগুলো দ্রুত ঠিক করে দিতে বলে বিইআরসি। তবে তা আদেশে না বলে শুধুমাত্র মৌখিকভাবে বলা হয়।  

কমিশনের একজন সদস্য বলছেন, বিদ্যুৎ বিল ঠিক করে দেওয়ার যেসব বিষয় আলোচনায় এসেছে তারা তা পর্যবেক্ষণে রেখেছে। এ বিষয়ে বিতরণ কোম্পানিকে নির্দেশনাও দিয়েছেন তারা। তাদের নির্দেশের পরই কমিটি করে দায়ীদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

তবে কমিশনের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল জলিল বলেন, আমরা সব বিষয় পর্যবেক্ষণ করছি। ইতোমধ্যে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিল ঠিক করে দেওয়ার পাশাপাশি দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে। আমরা ১৫ জুলাই পর্যন্ত দেখবো, এরপর উদ্যোগ বাস্তবায়ন না হলেই কঠোর হবে বিইআরসি।

প্রসঙ্গত বিইআরসি’ই দেশে বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করে দেয়। দাম নির্ধারণের সময়ই বিইআরসি গ্রাহক হয়রানি রোধে কিছু নির্দেশনাও দেয়। তবে এসব নির্দেশনার খুব বেশি বাস্তবায়ন করে না বিতরণ কোম্পানিগুলো। আর বিইআরসি’ও এসব বিষয়ে খুব একটা খবর রাখে না। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে দাম বাড়ানোর সময় বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিকে এমন কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম বলেন, আমরা যে চিঠি দিয়েছি তার ৪৫ দিনের মধ্যে আইন অনুযায়ী বিইআরসির উত্তর দেওয়ার কথা। তারা কোনও উত্তর দেয়নি। এমনকি তেমন কোনও পদক্ষেপও নেয়নি। গ্রাহকের স্বার্থ দেখা এন্টি রেগুলেটরি বডির কাজ। তিনি জানান, আমরা ৪৫ দিন পরে অর্থাৎ ৯ জুলাইয়ের পর রাষ্ট্রপতি বরাবর এ বিষয়ে চিঠি দেবো। চিঠিতে কমিশনের সদস্যদের অযোগ্যতা তুলে ধরা হবে। তারা গ্রাহকের পক্ষে কিছুই করেনি তাও বলা হবে বলে তিনি জানান।

/এফএএন/এমএমজে/

লাইভ

টপ