ব্যাংক কমিশন গঠন প্রক্রিয়া কি থেমে গেছে?

Send
শফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত : ১৫:০০, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৫৮, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০

ব্যাংক কমিশন গঠন প্রক্রিয়া কি থেমে গেছে—এমন প্রশ্ন এখন অনেকের। ব্যাংক খাতের অনিয়ম বন্ধের পাশাপাশি এই খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে গত কয়েক বছর ধরে ব্যাংকিং কমিশন গঠনের কথা শোনা গেলেও এখন আর এ বিষয়ে কোনও কথাবার্তা শুনতে পাওয়া যাচ্ছে না। ২০১৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ব্যাংক কমিশন গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সরকারের বর্তমান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালও গত অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় ব্যাংক কমিশন গঠনের কথা বলেছিলেন। কিন্তু সরকারের মেয়াদ প্রায় দু’বছর অতিবাহিত হতে চললেও এখন পর্যন্ত গঠিত হয়নি ব্যাংকিং কমিশন।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নানা কারণে আপাতত গঠন করা হচ্ছে না ব্যাংকিং কমিশন। এ ছাড়া কমিশনের চেয়ারম্যান কে হবেন? কমিশনের ক্ষমতা কী হবে, কমিশনের সুপারিশ কতটুকু বাস্তবায়ন হবে, তা নিয়ে রয়েছে নানা ধরনের জটিলতা। কারণ কমিশন গঠন করলেই হবে না। একই সঙ্গে কমিশনকে ক্ষমতা দিলেও হবে না, কমিশনের দেওয়া সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে হবে। বাস্তবায়নের মানসিকতা বা আন্তরিকতা থাকতে হবে। এসব কারণেই এখন পর্যন্ত গঠিত হচ্ছে না ব্যাংকিং কমিশন।

এদিকে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) খেলাপি ঋণের লাগাম টানাসহ ব্যাংকিং খাতে সংস্কারের জন্য গত কয়েক বছর ধরে আলাদা কমিশন গঠন করার প্রস্তাব করে আসছে। এর বাইরেও ব্যাংকিং কমিশন গঠনের বিষয়ে নানা মহলে আলোচনা চলছে।

এ প্রসঙ্গে সিপিডির ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, ব্যাংকিং কমিশন গঠন করতে হলে সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার জরুরি। তার মতে, রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছাড়া কমিশন প্রতিষ্ঠা করেও কোনও লাভ হবে না।

জানা গেছে, সাধারণত, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মতো ব্যাংকিং কমিশন কোনও স্থায়ী কমিশন হবে না। ব্যাংকিং কমিশন হয় একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। এ মিশন হবে ৩ মাস বা ৬ মাসের জন্য। ব্যাংক খাতের সংস্কার বিষয়ে কমিশন এই সময়ের মধ্যে সরকারকে একটি প্রতিবেদন দেবে। তাতে যেসব সুপারিশ করা হবে, সেসব সুপারিশ কীভাবে বাস্তবায়িত হবে তার গাইডলাইন বা রূপরেখা থাকবে কমিশনের দেওয়া প্রতিবেদনে।

এদিকে চলতি বছরের শুরুর দিকে কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি এই কমিশনের চেয়ারম্যান করার জন্য অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের সঙ্গে বৈঠকও করেছিলেন বলে জানা গেছে। অর্থমন্ত্রী আবারও জানিয়েছিলেন, ব্যাংক কমিশন করতে অনেকের সঙ্গেই কথাবার্তা বলতে হবে। যারা সময় দিতে পারেন, দেশের স্বার্থে কাজ করতে পারেন, তাদের মধ্য থেকেই কেউ এই কমিশনে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেবেন। শিগগিরই চেয়ারম্যান নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হবে। কিন্তু এরই মধ্যে করোনা এসে গেলে আর কিছুই হয়নি।

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন, ব্যাংক কমিশন হবে। আমরা এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছিলাম। কিন্তু করোনার কারণে এ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসেই ব্যাংক খাত সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার। সে সময় গঠন করা হয়েছিল ব্যাংক সংস্কার কমিটি। ৬ সদস্যের সংস্কার কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছিল সাবেক সচিব কাজী ফজলুর রহমানকে। ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ ছিলেন ওই কমিটির অন্যতম সদস্য। পরবর্তীতে কাজী ফজলুর রহমানকে অব্যাহতি দিয়ে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদকে করা হয় ব্যাংক সংস্কার কমিটির চেয়ারম্যান। ওই কমিটি ৩৭টি সভা করে ১১টি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন পেশ করেছিল। যদিও ওই সুপারিশের বেশির ভাগই সরকার পরিপালন করেনি।

জানা গেছে, ব্যাংকিং কমিশনের কাজের ধরন হতে পারে- খেলাপি ঋণের লাগাম টানাসহ দেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সামাল দিতে এ-সংশ্লিষ্ট আইন সংস্কারের বিষয়ে কাজ করা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনভাবে কাজ করার নিশ্চয়তা বিধান করা। ইচ্ছাকৃত খেলাপি আর অনিচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণ আলাদা করার কাজ করা। টাকা কীভাবে আদায় করা যায়, সেটা নিয়ে কাজ করা। আইনি কাঠামোর সংস্কার করা। খেলাপি ঋণসহ অন্যান্য সমস্যার মূল চিহ্নিত করা। ব্যাংক বোর্ডের গঠনের জন্য নীতিমালা তৈরি করা। আইন প্রয়োগে সমস্যার চিহ্নিতকরণ এবং আইনের পরিবর্তনে কাজ করা এবং ব্যাংকিং খাতের দক্ষ, যুগোপযোগী ও সুশাসনভিত্তিক পরিচালনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দেওয়া।

/এফএএন/আপ-এনএস/এমএমজে/

লাইভ

টপ