বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন পণ্য বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবি’কে আরও ক্ষমতায়ন করার কথা ভাবছেন অর্থমন্ত্রী। একইসঙ্গে সংস্থার কার্যক্রম দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। কারণ, টিসিবি বাজারে প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতা অর্জন করলে সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব থাকবে না। বাজারে মালামাল থাকার পরেও যারা অধিক মুনাফার আশায় সিন্ডিকেট করে, তাদের সেই সুযোগ বন্ধ করতেই সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে এসব পরিকল্পনার কথা সাংবাদিকদের জানান তিনি।
জানা গেছে, টিসিবিকে সহযোগিতা করা দরকার বলে মনে করেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। তাই এখন থেকে পণ্য কেনার ক্ষেত্রে টিসিবিকে পূর্ণমাত্রায় সহযোগিতা করবে সরকার। ইতোমধ্যে তা করা হয়েছে বলেও মনে করেন তারা। মাঠ পযায়ে টিসিবির পণ্য বিক্রি সবসময় প্রয়োজন হয় না, প্রয়োজনগুলো সারা বছর থাকেও না। মাঝে মাঝে টিসিবির প্রয়োজনীয়তা দেখা যায়। যখন প্রয়োজন দেখা দেয়, তখনই টিসিবিকে ফ্লেক্সিবল থাকতে হয়। কারণ, যখন যেটা প্রয়োজন দেখা দেয়, তখন সেটার ব্যবস্থা টিসিবিকে করতে হয়। তাই সরকারের পক্ষ থেকে যখন যা করার প্রয়োজন পড়বে, তখনই টিসিবির জন্য তা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন, টিসিবির হাতকে শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, বিশেষ করে ভোজ্যতেল, চিনি, মসুর ডাল ও ছোলা কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। টিসিবি সরকারের কাছে অর্থনীতির ব্যাংক নামেও পরিচিত। একদিকে সরকারের যেমন পণ্য ও পণ্যের স্টক দরকার, তেমনই এই পণ্যগুলো যারা কিনবে, তাদের কাছে সময় মতো এবং ন্যায্যমূল্যে পৌঁছানো দরকার। সরকার টিসিবির মাধ্যমেই সে কাজটি করছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টিসিবি তৈরি করেছিলেন মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য।
আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, বিশ্বে যুদ্ধ হচ্ছে, আমরা এই যুদ্ধ লাগার বিষয়টি চিন্তাও করিনি। এসব ক্ষেত্রে অনেক প্যারামিটার আছে, সেসব কারণে পণ্যের দাম বেড়ে যায়। জিনিসপত্র আমদানি করা হলেও নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে সেসব পণ্য দেশে আসতে পারে না। সেসব আনলেও তার পরিবহন খরচ বেড়ে যায় কয়েকগুণ। ফলে পণ্যমূল্য যে পরিমাণ বাড়ে, তার চেয়েও বেশি বাড়ানো হয়। যারা এগুলো আমদানি করেন, তারা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেন। এবার তা করতে দেওয়া হবে না জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘টিসিবিকে আরও ক্ষমতায়ন করাই সরকারের মূল লক্ষ্য, যাতে বাজারে কেউ সিন্ডিকেট করতে না পারে।’
অর্থমন্ত্রী জানান, টিসিবির ভূমিকা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সংস্থাটির কার্যক্রম ব্যাপক সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বণ্টন ব্যবস্থা আরও বাড়ানো হবে। প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে টিসিবির কার্যক্রম নিয়ে যাওয়া হবে, যাতে কোনও গরিব মানুষ কষ্ট না পায়।’









