X
সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২
২০ আষাঢ় ১৪২৯

টাকার মান আরও কমলো

আপডেট : ১৬ মে ২০২২, ১৮:৩১

এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও কমলো টাকার মান। এবার এক ধাক্কায় ৮০ পয়সা কমানো হয়েছে।

আমদানি ব্যয় পরি‌শো‌ধের চাপে মা‌র্কিন ডলারের ব্যাপক চা‌হিদা বে‌ড়ে‌ছে। কিন্তু সেই হা‌রে বাজা‌রে সরবরাহ না বাড়ায় নিয়ন্ত্রণহীনভা‌বে বাড়ছে ডলারের দাম। বিক্রি করেও ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে পারছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একদিনেই ডলারের বিপরীতে টাকার মান ক‌মে গে‌ছে ৮০ পয়সা। আর গত ২০ দিনের ব্যবধা‌নে তিন দফায় ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন হলো এক টাকা ৩০ পয়সা।

সোমবার (১৬ মে) আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার কিনতে খরচ করতে হচ্ছে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা। এক‌দিন আগেও এক ডলা‌রে লেগেছিল ৮৬ টাকা ৭০ পয়সা। আর গত ১০ মে ছিল ৮৬ টাকা ৪৫ পয়সা এবং ২৭ এপ্রিল ছিল ৮৬ টাকা ২০ পয়সা।

ব্যাংকগুলো নগদ ডলার বিক্রি করছে এর চেয়ে ৫ থেকে ৭ টাকা বেশি দরে। ব্যাংকের বাইরে খোলাবাজার বা কার্ব মার্কেটে ডলার কেনাবেচা হচ্ছে ৯২ থেকে ৯৭ টাকায়।

মূলত, দেশে একদিকে ব্যাপক হারে আমদানির চাপ বেড়েছে। ফলে আমদানির দায় পরিশোধে বাড়তি ডলার লাগছে। কিন্তু সেই তুলনায় রেমিট্যান্স ও রফতানি আয় বাড়েনি। ফলে ব্যাংক ব্যবস্থা ও খোলাবাজারে মার্কিন ডলারের ওপর চাপ বাড়ছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহে ঘাটতি দেখা দি‌য়ে‌ছে। যার কারণে টাকার বিপরীতে বাড়ছে ডলারের দাম। বাজার স্থিতিশীল রাখতে ব্যাংকগুলোর চাহিদার বিপরীতে ডলার বিক্রি করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে কমছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। কিন্তু তারপরও নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে না ডলার।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম  বলেন, ‘আমদানি ব্যয় বেশি হওয়ার কারণে ডলারের ওপর চাপ প‌ড়ে‌ছে। এ কারণে বাজার বিবেচনা করে ডলারের রেট ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।’

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২০ সালের জুলাই থেকে গত বছরের আগস্ট পর্যন্ত আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু এরপর থেকে বড় ধরনের আমদানি ব্যয় পরিশোধ করতে গিয়ে ডলারের সংকট শুরু হয়, যা এখন পর্যন্ত অব্যাহত আছে।

২০২১ সালের আগস্টের শুরুতেও আন্তব্যাংকে প্রতি ডলারের মূল্য একই ছিল। ৩ আগস্ট থেকে দু'এক পয়সা করে বাড়তে বাড়তে গত বছরের ২২ আগস্ট প্রথমবারের মতো প্রতি ডলারের দাম ৮৫ টাকা ছাড়ায়। চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি এটি বেড়ে ৮৬ টাকায় পৌঁছে। এরপর ২২ মার্চ পর্যন্ত এ দরেই স্থির ছিল। পরে গত ২৩ মার্চ আন্তব্যাংকে আরও ২০ পয়সা বেড়ে ৮৬ টাকা ২০ পয়সায় দাঁড়ায়। ২৭ এ‌প্রিল আ‌রও ২৫ পয়সা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৬ টাকা ৪৫ পয়সা। ১০ মে বাড়ে আরও ২৫ পয়সা। সোমবার (১৬ মে) বাড়লো ৮০ পয়সা। ফলে এখন আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম গিয়ে ঠেকেছে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সায়, যা এযাবৎকালের সর্বোচ্চ দরবৃদ্ধি। অর্থাৎ গত ৯ মাসের ব্যবধানে প্রতি ডলারে দর বেড়েছে দুই টাকা ৭০ পয়সা।

এদিকে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের ১২ মে পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৫০২ কোটি (৫.০২ বিলিয়ন) ডলার বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যদিও এর আগে বাজার স্থিতিশীল রাখতে গত অর্থবছরে ডলার কেনায় রেকর্ড গড়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তথ্য বলছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে সব মিলিয়ে প্রায় ৮ বিলিয়ন (৮০০ কোটি) ডলার কেনে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৫ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

 

/জিএম/এপিএইচ/এমওএফ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
এবার রাশিয়ার নজর ‘ডনেস্ক’
এবার রাশিয়ার নজর ‘ডনেস্ক’
দেশের ৬ লাখের বেশি ফ্রিল্যান্সারে নারী ৩০ ভাগ: পলক
দেশের ৬ লাখের বেশি ফ্রিল্যান্সারে নারী ৩০ ভাগ: পলক
৩ ঘণ্টা ধরে স্টেশনে আটকা ‘দোলনচাঁপা’
৩ ঘণ্টা ধরে স্টেশনে আটকা ‘দোলনচাঁপা’
রফতানিতে রেকর্ড হলেও বেড়েছে ঘাটতি
রফতানিতে রেকর্ড হলেও বেড়েছে ঘাটতি
এ বিভাগের সর্বশেষ
‘গভর্নরহীন’ বাংলাদেশ ব্যাংক
‘গভর্নরহীন’ বাংলাদেশ ব্যাংক
ডলারের দাম বাড়ানো হলেও রেমিট্যান্স কমেছে
ডলারের দাম বাড়ানো হলেও রেমিট্যান্স কমেছে
ঈদের আগে শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা
ঈদের আগে শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা
নন ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানদের জন্য নতুন নির্দেশনা
নন ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানদের জন্য নতুন নির্দেশনা
দুগ্ধ উৎপাদন খামারিদের ঋণ পরিশোধের সময় বাড়লো
দুগ্ধ উৎপাদন খামারিদের ঋণ পরিশোধের সময় বাড়লো