আন্তর্জাতিক কার্ডের ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে চলতি বছরে ‘জাতীয় পে কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রাথমিকভাবে সেপ্টেম্বরের মধ্যে কার্ডটি চালুর পরিকল্পনা ছিল। তবে ডিসেম্বরে এই কার্ড চালু করা হতে পারে বলে জানা গেছে। শুরুতে ৮টি ব্যাংক পাইলট-ভিত্তিতে এই কার্ড ইস্যু করবে।
তবে প্রাথমিকভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অভ্যন্তরীণভাবে ব্যবহারের জন্য একটি কার্ড চালু করবে, পরে টাকা-রুপি কার্ড চালু করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে, গত ১৮ জুন মুদ্রানীতি ঘোষণার দিন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার প্রথমবারের মতো ‘টাকা পে’ কার্ড চালুর ইঙ্গিত দেন। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২টি কমিটি সম্প্রতি ‘টাকা পে’ কার্ড চালুর জন্য কাজ শুরু করে। এর মধ্যে স্টিয়ারিং কমিটির নেতৃত্বে আছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কাজী সায়েদুর রহমান এবং ওয়ার্কিং কমিটির নেতৃত্বে আছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগের পরিচালক মো. মোতাসেম বিল্লাহ।
কমিটিতে স্থানীয় ৮টি ব্যাংকের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। এই ব্যাংকগুলো হচ্ছে— ব্র্যাক ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক। ‘টাকা পে’ কার্ড প্রস্তুত করতে প্যারিসভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘ফিম’কে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র সারওয়ার হোসেন বলেন, ‘টাকা পে’ কার্ড মূলত আমাদের নিজস্ব কার্ড হবে এবং যা কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করবে।
এ প্রসঙ্গে এবিবির সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা যদি এই কার্ড চালু করতে পারি, তাহলে গ্রাহকদের লেনদেনে চার্জ ও ফি কমে আসবে। এছাড়া এই কার্ড আন্তর্জাতিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের পরিবর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হওয়ার কারণে এটি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে।’









