বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের প্রায় ৮শ কোটি টাকা হাওয়া হয়ে গেছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক জুয়ারু চক্র ৬শ কোটি টাকা খরচ করেছে ফিলিপাইনের কয়েকটি জুয়ার আসরে। সেখান থেকে এই টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে যখন সংশয়, ঠিক সেই মুহূর্তে ভারতে গেলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। বৃহস্পতিবার তিনি ভারতে গেছেন। আগামী ১৪ মার্চ তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র আ ফ ম আসাদুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা আইএমএফ এর প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ভারতে গেছেন।
প্রসঙ্গত, গেল ফেব্রুয়ারি মাসের ৫ তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০১ মিলিয়ন ডলার পরিমাণ অর্থ চুরি করে চীনা হ্যাকারদের একটি গ্রুপ। তবে হ্যাকাররা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ থেকে প্রায় ৯৫০ মিলিয়ন বা ৯৫ কোটি ডলার চুরির চেষ্টা করেছিল।
বাংলাদেশের বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সরিয়ে নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফটের সংকেতলিপি (কোড) থেকে অর্থ স্থানান্তরের ৩৫টি ‘পরামর্শ বা অ্যাডভাইস’ পাঠানো হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে। সেখান থেকে কার্যকর হয়েছিল মোট ৫টি পরামর্শ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, রিজার্ভের মোট ১০১ মিলিয়ন বা ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার দেশের বাইরে থেকে ‘হ্যাকড’ করে শ্রীলঙ্কা ও ফিলিপাইনে স্থানান্তর করা হয়। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কায় গেছে ২০ মিলিয়ন বা ২ কোটি ডলার আর ফিলিপাইনে গেছে ৮১ মিলিয়ন বা ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের সঙ্গে পৃথিবীর সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেন করে এই সুইফট কোডের মাধ্যমে। আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং চ্যানেলে সুইফট প্রক্রিয়াটি অর্থ লেনেদেনে সবচেয়ে নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়ে আসছে।
জানা গেছে, অর্থ চুরির পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সুইফট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু সুইফটের কোনও অফিস বাংলাদেশে নেই, রয়েছে ভারতে। এ কারণে সুইফটের কর্মকর্তাদের বাংলাদেশে এসে বিষয়টি দেখার জন্য বলা হয়। কিন্তু সে আবেদনে সাড়া দেয়নি সুইফটের কর্মকর্তারা। গভর্নর ভারতে অবস্থানকালে সুইফট কর্মকর্তাদের সঙ্গেও মিটিং করার কথা রয়েছে।
/জিএম/এএইচ/







