জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. আবদুর রহমান খান মঙ্গলবার (২২ জুলাই) মোংলা কাস্টমস হাউস পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি কাস্টমস কর্মকর্তাদের প্রতি রাজস্ব আদায়ে আরও আন্তরিক ও দক্ষ হওয়ার আহ্বান জানান।
চেয়ারম্যান প্রথমেই মোংলা বন্দরের বিভিন্ন কার্যক্রম সরেজমিনে ঘুরে দেখেন। তিনি কায়িক পরীক্ষা, গাড়ি সংরক্ষণ এবং নিলামের জন্য নির্ধারিত স্থান ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।
পরে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি। খুলনার কর, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তারা ছাড়াও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও সাংবাদিকরাও এতে অংশগ্রহণ করেন। সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “রাজস্ব বিভাগের কার্যক্রম ঠিকভাবে না চললে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগে। তাই রাজস্ব আদায়ে পেশাদারিত্ব ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই।”
তিনি কর আদায় বাড়াতে কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এর মধ্যে রয়েছে: দ্রুত পণ্য খালাস নিশ্চিত করা,
কর ফাঁকি ও জালিয়াতি প্রতিরোধে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার, বকেয়া কর আদায়ে তৎপরতা, কর পরিধি বাড়াতে নতুন করদাতা শনাক্ত করা, শূন্য রিটার্ন জমাদানকারীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া, প্রতিবছর নিয়মিত ভ্যাট অডিট চালু করা।
সভায় কর্মকর্তারা কাস্টমস হাউস মোংলার নিজস্ব ভবন ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সংকটের কথা তুলে ধরলে এনবিআর চেয়ারম্যান দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। খুলনায় যানবাহন সংকট এবং সিএন্ডএফ লাইসেন্সিং সহজ করার বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
তিনি বলেন, “সরকারি প্রকল্প যেমন- এআরএমএস, বিএসডাব্লিউ, এএসওয়াইসিইউডিএ-এর মাধ্যমে কাস্টমস ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও স্বচ্ছ করতে হবে।”
এছাড়া রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো পণ্যের তালিকা-সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানোর নির্দেশনাও দেন তিনি।
মোংলা কাস্টমস হাউসের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমদানি-রফতানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কাস্টমস কর্মকর্তারা মিলে সঠিকভাবে কাজ করলে রাজস্ব আদায় বাড়বে, দেশও লাভবান হবে।”









