নোঙ্গরের আঘাতে তুরাগ নদের নিচে ক্ষতিগ্রস্ত গ্যাসের পাইপলাইন মেরামত করা হলেও পাইপে পানি ঢুকে গেছে। এ অবস্থায় গ্যাসে চাপ কমিয়ে মেরামতের কাজ করা হচ্ছে। ফলে রাজধানীতে আবারও গ্যাসের সংকট চরম আকার নিয়েছে। আগেই গ্যাস না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে নগরবাসী।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) তিতাস জানায়, মালবাহী ট্রলারের নোঙ্গরের আঘাতে আমিন বাজারে তুরাগ নদের তলদেশে ক্ষতিগ্রস্ত বিতরণ গ্যাস পাইপলাইন মেরামত করা হলেও মেরামতকালীন সময়ে পাইপে পানি প্রবেশ করেছে। একইসঙ্গে সরবরাহ কম থাকায় ঢাকা মহানগরীতে গ্যাসের মারাত্মক স্বল্পচাপ বিরাজ করছে। গ্যাসের স্বল্পচাপের সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
এদিকে বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তিতাসের অপারেশন ডিভিশনের মহাব্যবস্থাপক কাজী মোহম্মদ সাইদুল হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছিলেন, বেশ কয়েকদিন আগে জাহাজের নোঙ্গর পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পাইপলাইনটি। পানি বুঁদবুঁদ ওঠা দেখেই স্থানীয়রা খবর দেয়। এরপর আমরা কাজ শুরু করি। এই সময় গাবতলী থেকে আসাদ গেট পর্যন্ত গ্যাসের সমস্যা দেখা দেয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে মোহাম্মদপুরসহ কয়েকটি এলাকায় গ্যাসের চাপ কমিয়ে রাখা হয়েছিল।
এদিকে এই গ্যাস লিকেজের কারণে আমিনবাজার থেকে আসাদগেট অর্থাৎ মোহাম্মদপুর, আদাবর, গাবতলী, ধানমন্ডিসহ ঢাকার একাংশে আজ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক লাখ গ্রাহক।
উত্তরা থেকে রোখসানা মার্জিয়া জানান, বাসায় সকাল থেকে গ্যাস নাই। খাবার কিনতে রেস্টুরেন্টে গিয়ে দেখি মহা ভিড়। কোনও রকমে যুদ্ধ করে তেহারি কিনে আনলাম। না হলে আজকে দুপুরে রুটি আর কলা খেয়ে কাটাতে হতো। এখন শোনা যাচ্ছে, রাত ১০টার পরে গ্যাস আসবে। এদিকে রায়ের বাজারের বাসিন্দা শায়লা আহমেদ জানান, সকাল অনেক জোরে গ্যাস এলো। খুব খুশি হয়ে গেছিলাম। শীতের পুরো সময়ে এত গ্যাসের চাপ দেখিইনি। একটু পরে আবার চাপ কমে নিভু নিভু। পানিও গরম করা যাচ্ছে না। এভাবে আর কত গ্যাসের জন্য কষ্ট করবো।









