দীর্ঘস্থায়ী সংকোচনমূলক মুদ্রানীতিতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়: ডিসিসিআই

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:১২আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:১২

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের নামে বাংলাদেশ ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি বজায় রাখলেও বাস্তবে এর সুফল মিলছে না বলে মন্তব্য করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। বরং এই নীতির কারণে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছে দেশের অন্যতম শীর্ষ বেসরকারি খাতের সংগঠনটি।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিসিসিআই জানায়, কঠোর মুদ্রানীতি প্রয়োগের পরও মূল্যস্ফীতি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে আসেনি। দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ সুদের হার ও ঋণের অতিরিক্ত ব্যয় শিল্প সম্প্রসারণ এবং নতুন বিনিয়োগকে প্রায় স্থবির করে দিয়েছে। এতে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

চেম্বারটি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহ ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬ দশমিক ১ শতাংশে, যা অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত অশনিসংকেত। অস্বাভাবিক উচ্চ সুদের হার বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথ রুদ্ধ করে ফেলেছে বলে মনে করছে সংগঠনটি।

অপরদিকে, ব্রড মানি (এম২) প্রবৃদ্ধি জুন ২০২৫-এ যেখানে ছিল ৭ শতাংশ, তা ডিসেম্বর ২০২৫-এ বেড়ে ৯ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছেছে। ডিসিসিআইয়ের মতে, এটি অর্থনীতিতে মুদ্রা সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দেয়, যা চলমান কঠোর মুদ্রানীতির কার্যকারিতা ও নীতিগত সামঞ্জস্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বেসরকারিখাতের বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধিও নিম্নমুখী। ২০২৫ অর্থবছরে বেসরকারিখাতের বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ২২ দশমিক ৪৮ শতাংশে, যা ২০২৩ অর্থবছরে ছিল ২৪ দশমিক ১৮ শতাংশ। ডিসিসিআই মনে করে, এই ধরনের অকার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়।

রফতানি খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে জানায় চেম্বারটি। গত ছয় মাসে রফতানি ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ডিসেম্বর ২০২৫-এ রফতানি প্রবৃদ্ধি নেমে দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশে, যা বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাকে দুর্বল করছে এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক।

সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ডিসিসিআই বলছে, অতিমাত্রায় কঠোর ও দীর্ঘায়িত সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির মাধ্যমে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। সংগঠনটি আগামী নির্বাচিত সরকারের কাছে নীতিহার কমানোসহ একটি বাস্তবভিত্তিক ও প্রবৃদ্ধিবান্ধব মুদ্রানীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

একই সঙ্গে রাজস্ব ও মুদ্রানীতির মধ্যে সমন্বয়, নমনীয় তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে ঢাকা চেম্বার।

/জিএম/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
সেমিনারে বক্তারামূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ স্থবিরতা ও জ্বালানি সংকটে চাপে অর্থনীতি, উদ্বেগ
ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আনতে নদীপথ উন্নয়নের তাগিদ
রফতানি বাড়াতে দক্ষ ও সমন্বিত লজিস্টিকস ইকোসিস্টেম গড়ার আহ্বান
সর্বশেষ খবর
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
জনআস্থা ও জবাবদিহিমূলক সংসদ গঠনে সাংবিধানিক জ্ঞান জরুরি: ডেপুটি স্পিকার
জনআস্থা ও জবাবদিহিমূলক সংসদ গঠনে সাংবিধানিক জ্ঞান জরুরি: ডেপুটি স্পিকার
প্রতিনিধি পরিষদের ইরান যুদ্ধ-বিরোধী ভোটের প্রতিক্রিয়ায় মুখ খুললেন ট্রাম্প
প্রতিনিধি পরিষদের ইরান যুদ্ধ-বিরোধী ভোটের প্রতিক্রিয়ায় মুখ খুললেন ট্রাম্প
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী