রমজানে সব ধরনের ফলের দাম ছিল আকাশচুম্বী। ঈদ-পরবর্তী সময়ে মৌসুমি ফলের দাম কিছুটা কমলেও আমদানিকৃত ফলের বাজারে এখনো সেই চড়া ভাব বিরাজ করছে। বিশেষ করে তরমুজের পাইকারি ও খুচরা দামের বিশাল ব্যবধান নিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার, রোকনপুর ও সদরঘাট এলাকার ফলের বাজার ঘুরে দেখা যায় এক মিশ্র চিত্র। চাহিদা কমায় তরমুজ, পেঁপে ও পেয়ারার দাম কিছুটা কমলেও আপেল, আঙুর ও মাল্টার মতো বিদেশি ফলের দাম এখনো সাধারণের নাগালের বাইরে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি আপেল ৩৫০-৪০০ টাকা এবং আঙুর ৫৫০-৬২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, তরমুজ এখন প্রতি কেজি প্রায় ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা রমজানে ছিল ৭০-৮০ টাকা। তবে খুচরায় পিস হিসেবে তরমুজ কিনলে দাম আরও বেশি।
রায়সাহেব বাজারের 'হারুন ফুড'-এর ম্যানেজার সাদিক জানান, বৃষ্টির কারণে তরমুজের সরবরাহ বাড়ায় দাম কিছুটা কমেছে। পাইকারি দরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অকপটে স্বীকার করেন, ‘‘আমরা আড়ত থেকে পিস হিসেবে ১০০ টাকা দরে কিনে খুচরায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি করি।’’
পিসপ্রতি এমন অস্বাভাবিক মুনাফার কারণ জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, পরিবহন খরচ ও নষ্ট হওয়া ফলের লোকসান পুষিয়ে নিতে না হলে ব্যবসা টেকানো সম্ভব হয় না।
দোকানের তুলনায় পাড়া-মহল্লায় ভ্যানে করে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে তুলনামূলক কম দামে। রোকনপুর এলাকায় দেখা যায়, ভ্যানে ছোট আকারের একেকটি তরমুজ ১০০-১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সেখানে ভিড় করা এক ক্রেতা বলেন, ‘‘দোকানে গেলেই কেজির ওজনে দাম অনেক বেড়ে যায়। এখানে অন্তত পিস হিসেবে দেখে শুনে বাজেট অনুযায়ী কেনা যাচ্ছে।’’
আমদানিকৃত ফলের দাম না কমার পেছনে আন্তর্জাতিক অস্থিরতাকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। ম্যানেজার সাদিকের মতে, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে জাহাজ ভাড়া ও এলসি জটিলতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রভাব বিদেশি ফলের দামে দেখা যাচ্ছে।
বর্তমানে বাজারে কালো আঙুর ৬২০ টাকা, মাল্টা ৩২০-৩৬০ টাকা এবং পেঁপে ৭০-১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পেয়ারা বিক্রি হচ্ছে ৭০-১০০ টাকা দরে।
গরমের কারণে চাহিদা বাড়ায় ডাবের বাজারেও আগুন লেগেছে। রায়সাহেব বাজার মোড়ে ছোট সাইজের একেকটি ডাব ১৩০ টাকা এবং বড়গুলো ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। বিক্রেতাদের দাবি, আড়ৎ থেকেই তাদের বেশি দামে কিনে আনতে হচ্ছে, তাই প্রতি পিসে ৩০-৪০ টাকা না বাড়ালে লাভ থাকে না।
অন্যদিকে, রমজান শেষ হলেও খেজুরের বাজারে কোনো প্রভাব পড়েনি। বাজারে এখনো মাবরুম খেজুর কেজিপ্রতি একহাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। জনপ্রিয় আজওয়া খেজুরের দাম মানভেদে একহাজার ৩০০ থেকে একহাজার ৬০০ টাকার মধ্যে। এছাড়া মেডজুল ও সাফাওয়ি একহাজার ২০০ টাকা, সুক্কারি একহাজার টাকা এবং উন্নত মানের মরিয়ম খেজুর ৯৫০ থেকে একহাজার একশ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, এসব প্যাকেটজাত খেজুর আমদানিতে খরচ বেশি হওয়ায় খোলা বাজারে দাম কমার সম্ভাবনা কম।
সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, বাজারে তদারকি না থাকায় বিক্রেতারা নিজেদের ইচ্ছামতো দাম হাঁকাচ্ছেন। সদরঘাটে ফল কিনতে আসা এক বেসরকারি চাকরিজীবী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘আড়তে যে তরমুজ ১০০ টাকা, সেটা আমাদের হাতে আসতে আসতে ৩০০ টাকা হয়ে যায়। মাঝখানের এই ২০০ টাকা কাদের পকেটে যাচ্ছে, সেটা দেখার কেউ নেই।’’









