নারী উদ্যোক্তাদের বছরে ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভারে করমুক্ত সুবিধা রয়েছে। তবে, অধিকাংশ উদ্যোক্তা এ সম্পর্কে জানেন না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এই তথ্য জানিয়েছেন। তার মতে, এই সুবিধা সম্পর্কে সচেতনতা থাকলে নারী উদ্যোক্তারা নিজেদের প্রাপ্য সুবিধা আদায়ে আরও সোচ্চার হতেন।
রবিবার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “নারী উদ্যোক্তাদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কর সুবিধা দেওয়া হলেও বাস্তবে অনেকেই তা পান না। একই অবস্থা ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) ক্ষেত্রেও। ‘উইমেন এন্টারপ্রেনিয়ার’দের জন্য যে বেনিফিটগুলো দেওয়া হয়েছে, বাস্তবে তারা সেগুলোর অনেকটাই পায় না। এসএমইরাও একই সমস্যার মুখে পড়ে। এই জায়গায় আমরা কাজ করতে চাই এবং সচেতনতা বাড়াতে চাই।”
আবদুর রহমান বলেন, “বর্তমানে ক্ষুদ্র ব্যবসার ক্ষেত্রে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভারে কর সুবিধার বিধান থাকলেও তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়নি। আমার জানা মতে, একজন এসএমই উদ্যোক্তাও এখনও পর্যন্ত এই সুবিধা পাননি। কারণ, আমরা এটাকে পুরোপুরি অপারেশনালাইজ করতে পারিনি।”
এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের এসএমই হিসেবে সনদ দেওয়ার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন বলে জানান এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, “এতে প্রকৃত উদ্যোক্তারা সুবিধা পাবেন এবং অন্য কেউ যেন এই সুবিধা অপব্যবহার করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা যাবে।”
নারী করপোরেট উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা করহার নির্ধারণের প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি বলেন, “এতে কর ফাঁকির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পরিবারের পুরুষ সদস্যরা কর কমানোর জন্য আয়ের অংশ নারী সদস্যদের নামে স্থানান্তর করতে পারেন। এতে নৈতিক ঝুঁকি তৈরি হবে।”
ভ্যাট পদ্ধতি নিয়ে নারী উদ্যোক্তাদের আপত্তির জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “ভ্যাট প্রদর্শনের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী দু’টি পদ্ধতি চালু রয়েছে। একটি হলো, বিলের মধ্যে আলাদাভাবে ভ্যাট দেখানো এবং অন্যটি পণ্যের দামের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রাখা। বিলের মধ্যে ভ্যাট আলাদাভাবে উল্লেখ করলে করদাতার মধ্যে দায়িত্ববোধ তৈরি হয়। তবে, দামের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত করা হলে ক্রেতাদের জন্য বিষয়টি সহজ হয় এবং কর সংগ্রহও তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক হয়।”









