দেশে গত এক দশকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী ইউনিটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বর্তমানে দেশে এক কোটি ১৭ লাখের বেশি অর্থনৈতিক ইউনিট রয়েছে, যা ২০১৩ সালের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। উদ্যোক্তাদের বড় অংশই মনে করছেন, ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হলো মূলধনের অভাব।
মঙ্গলবার (৭) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪–এর ফলাফলে এসব তথ্য উঠে এসেছে। আগারগাঁওয়ের পরিসংখ্যান ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শুমারির ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
শুমারিতে অংশ নেওয়া উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রায় ৮৬ শতাংশ জানিয়েছেন, ব্যবসা পরিচালনায় তাদের অন্যতম প্রধান সমস্যা হচ্ছে পর্যাপ্ত মূলধনের অভাব। এছাড়া, ঋণপ্রাপ্তির জটিলতা, দক্ষ শ্রমশক্তির ঘাটতি, কাঁচামালের অপর্যাপ্ততা এবং উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ব্যবসা পরিচালনায় বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
আট ধরনের প্রধান সমস্যা
অর্থনৈতিক শুমারিতে উদ্যোক্তাদের মতামতের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনায় মোট আট ধরনের বড় সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো—
১. মূলধনের অভাব
২. সহজে ঋণপ্রাপ্তির জটিলতা
৩. দক্ষ শ্রমশক্তির ঘাটতি
৪. কাঁচামালের অপর্যাপ্ততা
৫. উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি
৬. পণ্য বিপণনে সমস্যা
৭. পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাব
৮. বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকট
বিবিএস বলছে, অর্থনৈতিক ইউনিট বলতে এমন কোনও স্থান, প্রতিষ্ঠান বা পরিবারভিত্তিক কার্যক্রমকে বোঝায়, যেখানে স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে কোনও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বা ব্যবসা পরিচালিত হয়।
এক দশকে প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি
শুমারির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক কোটি ১৭ লাখ দুই হাজার ৭৯২টি, যা ২০১৩ সালে ছিল ৭৮ লাখ ১৮ হাজার ৫৬৫টি। সে হিসাবে গত এক দশকে অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা ৪৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ইউনিটগুলোর মাধ্যমে বর্তমানে দেশে তিন কোটিরও বেশি মানুষ কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত।
খুচরা ও পাইকারি খাতে সবচেয়ে বেশি প্রতিষ্ঠান
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে খুচরা ও পাইকারি বাণিজ্য খাতে। এ খাতে প্রায় ৪৯ লাখ ইউনিট রয়েছে। এরপরেই রয়েছে পরিবহন খাত এবং বিভিন্ন ধরনের সেবা খাত।
তথ্য নির্ভর পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব
অর্থনৈতিক শুমারির ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি। তিনি বলেন, “একটি দায়িত্বশীল ও গণতান্ত্রিক সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার হলো নীতিনির্ধারণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং প্রমাণনির্ভরতা নিশ্চিত করা। বর্তমান সরকারের উন্নয়নদর্শনের কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছে তথ্য ও উপাত্ত নির্ভর পরিকল্পনা।”









