আস্থার সন্ধিক্ষণে আর্থিক খাতের আমানতকারীরা

গোলাম মওলা
১৪ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০০আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০০

দেশের আর্থিক খাত বর্তমানে এমন এক ক্রান্তিকালে দাঁড়িয়ে, যেখানে প্রতিটি সিদ্ধান্ত, প্রতিটি নীতিমালা এবং প্রতিটি বাজার-প্রবণতা সরাসরি প্রভাব ফেলছে সাধারণ মানুষের আস্থা, বিনিয়োগ এবং অর্থনীতির ভবিষ্যতের ওপর। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকের

পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন ও অভ্যন্তরীণ বিভক্তি, পাশাপাশি ব্যাংক খাত পুনর্গঠনের লক্ষ্যে প্রণীত ‘ব্যাংক রেজুলিউশন আইন ২০২৬’ নতুন করে বিতর্ক ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে, অপরদিকে পুঁজিবাজারে কিছু কোম্পানির অস্বাভাবিক শেয়ারদরের উত্থান বিনিয়োগকারীদের সামনে নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। এই দুই ধারার ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে—বাংলাদেশের আর্থিক ব্যবস্থায় আস্থার ভিত্তি এখনো ভঙ্গুর।

ব্যাংক খাতের সংকট: লুকানো বাস্তবতার উন্মোচন

বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অপরিকল্পিত ঋণ বিতরণের বাস্তবতা ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বছরের পর বছর ধরে যেসব ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদন কাগজে-কলমে সুস্থ দেখানো হয়েছে, বাস্তবে তাদের অনেকই ছিল গভীর সংকটে নিমজ্জিত।

বিশেষ করে খেলাপি ঋণের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিই এই সংকটের মূল কারণ হিসেবে সামনে আসে। কিছু ব্যাংকের ক্ষেত্রে খেলাপি ঋণের হার ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার তথ্য কার্যত তাদের দেউলিয়া অবস্থারই ইঙ্গিত দেয়। অথচ এই বাস্তবতা দীর্ঘদিন আড়ালে ছিল— যা শুধু নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বলতা নয়, বরং পুরো আর্থিক ব্যবস্থার জবাবদিহিতার ঘাটতির প্রতিফলন।

পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের একীভূতকরণ: সমাধান নাকি আপস?

এই প্রেক্ষাপটে সরকার আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার যুক্তিতে পাঁচটি ইসলামী ধারার ব্যাংককে একীভূত করে একটি নতুন কাঠামো গঠন করে। একইসঙ্গে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার মূলধন সহায়তা দেওয়া হয়, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে ব্যাংক খাতে অন্যতম বড় উদ্ধার প্যাকেজ হিসেবে বিবেচিত।

নীতিনির্ধারকদের যুক্তি ছিল— এতে ব্যাংকগুলো নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে এবং আমানতকারীদের অর্থ সুরক্ষিত থাকবে। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের একটি বড় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। মূলধন শূন্য ঘোষণা করার ফলে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এসব ব্যাংকের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা কার্যত তাদের বিনিয়োগ হারিয়েছেন। অনেকেই রাতারাতি সর্বস্বান্ত হয়েছেন।

এই অভিজ্ঞতা পুঁজিবাজারে একটি নেতিবাচক বার্তা দিয়েছে— যেকোনও সময় নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সংশোধিত আইন: পুরনো মালিকদের ফেরার সুযোগ

ব্যাংক রেজুলিউশন আইনের সাম্প্রতিক সংশোধনী আরও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শেয়ারধারীরা সরকারের দেওয়া মূলধনের ৭.৫ শতাংশ জমা দিয়ে তিন মাসের মধ্যে ব্যাংকের মালিকানা পুনরুদ্ধার করতে পারবেন।

এখানেই উঠছে মৌলিক প্রশ্ন— যারা অতীতে ব্যাংক পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছেন, তারা আবার ফিরে এলে পরিস্থিতি কি বদলাবে, সরকারের দেওয়া বাকি ৯২.৫ শতাংশ অর্থের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে, এই প্রক্রিয়ায় কি প্রকৃত সংস্কার হবে, নাকি পুরনো সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটবে?

অর্থনীতিবিদদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, এই বিধান কার্যত প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলোর জন্য “দ্বিতীয় সুযোগ” তৈরি করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

অপরদিকে ইসলামী ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক ও নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান মো. আব্দুল জলিলকে অপসারণের একমাস না পেরোতেই ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ওমর ফারুক খানকে দেড় মাসেরও বেশি সময়ের জন্য ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। এতে করে ব্যাংকটির শীর্ষ পর্যায়ে হঠাৎ পরিবর্তন নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

এদিকে, সম্প্রতি সংসদে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬’ পাস হওয়ার পর ব্যাংকগুলোর পূর্ববর্তী মালিকানার পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। তাদের ধারণা, ইসলামী ব্যাংকেও আলোচিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আর এর অংশ হিসেবেই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া চেয়ারম্যান ও এমডিকে সরিয়ে দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

ইসলামী ব্যাংকে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে স্বচ্ছতার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ব্যাংকটির আগের মালিকানা গোষ্ঠী পুনরায় ফিরে আসার চেষ্টা করছে কি না— এমন সন্দেহও তৈরি হয়েছে।

দেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৩০ শতাংশ এই ব্যাংকের মাধ্যমে আসায়, এখানে যেকোনও সিদ্ধান্ত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অন্যথায়, আমানতকারীদের মধ্যে আস্থাহীনতা আরও বাড়তে পারে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, ‘‘আমানতকারীদের স্বার্থের পরিপন্থী কোনও পরিস্থিতি তৈরি হলে বা আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষার প্রয়োজন দেখা দিলে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’’

আমানতকারীদের আস্থা: সবচেয়ে স্পর্শকাতর জায়গা

ব্যাংক খাতের এই অস্থিরতার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সাধারণ আমানতকারীরা। ব্যাংক শুধু একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নয়; এটি মানুষের সঞ্চয়, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

গত কয়েক বছরে অনেক আমানতকারী সময়মতো টাকা তুলতে না পেরে চিকিৎসা, শিক্ষা কিংবা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। কেউ কেউ তাদের জীবনের সঞ্চয় ফেরত পাওয়ার আগেই মৃত্যুবরণ করেছেন—যা আর্থিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থার বড় ধাক্কা।

সরকার ধাপে ধাপে আমানত ফেরতের উদ্যোগ নিলেও পূর্ণ আইনি গ্যারান্টির অভাব এখনও উদ্বেগের কারণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে কোনো ব্যাংকিং সংস্কারই টেকসই হবে না।

পুঁজিবাজারে অস্বাভাবিক উত্থান: নতুন ধাঁধা

ব্যাংক খাতের অনিশ্চয়তার পাশাপাশি পুঁজিবাজারে দেখা যাচ্ছে এক ভিন্নধর্মী প্রবণতা। কিছু কোম্পানির শেয়ারদর খুব অল্প সময়ের মধ্যে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে, যার পেছনে দৃশ্যমান কোনো মৌলভিত্তিক কারণ নেই।

বাংলাদেশ অটোকারস লিমিটেড এর সাম্প্রতিক উত্থান এ ধরনের একটি উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। মাত্র এক মাসে প্রায় ১০০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি— যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করলেও, বিশ্লেষকদের কাছে এটি উদ্বেগের কারণ।

গত ৮ মার্চ ১২৬ টাকা ১০ পয়সা থাকা কোম্পানিটির শেয়ারদর ১৩ এপ্রিল বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪৬ টাকা ৫০ পয়সায়। পাঁচ মাসের ব্যবধানে এ বৃদ্ধির হার প্রায় ১৪৮ শতাংশ। এই উত্থানে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। স্বল্প সময়ে অনেকেই বড় অঙ্কের মুনাফা করেছেন। মার্চের শুরুতে ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে এখন তার মূল্য প্রায় ১৯ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। আর নভেম্বর থেকে বিনিয়োগ ধরে রাখলে সেই অর্থ বেড়ে প্রায় ২৪ লাখ ৮০ হাজার টাকায় পৌঁছেছে।

তবে এই উত্থানের পেছনের মৌলভিত্তি দুর্বল। সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালের জুন-ডিসেম্বর সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) মাত্র ৫ পয়সা। এই আয়ের বিপরীতে বর্তমান বাজারদরে পিই রেশিও দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ৪৬৫, যা অস্বাভাবিক এবং বাজারে ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, সীমিত সংখ্যক শেয়ার (মাত্র ৪৩ লাখের কিছু বেশি) থাকায় সংগঠিত কোনো গোষ্ঠীর প্রভাবে কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করে দাম বাড়ানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কোম্পানির লভ্যাংশ ইতিহাসও খুব শক্তিশালী নয়—সাম্প্রতিক সময়ে মাত্র ২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়া হয়েছে।

অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) নোটিশ দিলেও কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনও অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য নেই।

বাস্তবতা বনাম বাজারদর

কোম্পানিটির আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়— শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস): মাত্র ৫ পয়সা, মূল্য-আয় অনুপাত: ২০০০-এর বেশি, লভ্যাংশ: ২ শতাংশ। এই পরিসংখ্যানগুলো ইঙ্গিত করে যে, কোম্পানির প্রকৃত আয় এবং বাজারদরের মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য নেই। বর্তমান আয় ধরে বিনিয়োগের অর্থ ফেরত পেতে যে সময় লাগবে, তা বাস্তবতার বাইরে।

কৃত্রিম চাহিদা ও বাজার কারসাজির আশঙ্কা

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অস্বাভাবিক উত্থানের পেছনে কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ থাকতে পারে— সীমিত শেয়ার সংখ্যা, যা সহজে নিয়ন্ত্রণযোগ্য, সংগঠিত বিনিয়োগকারী গোষ্ঠীর সক্রিয়তা, কৃত্রিমভাবে চাহিদা তৈরি করা এবং আগাম তথ্যের অপব্যবহার।

বাংলাদেশ অটোকারসের ক্ষেত্রে মোট শেয়ার সংখ্যা কম হওয়ায় তুলনামূলক স্বল্প বিনিয়োগেই বাজারে প্রভাব বিস্তার করা সম্ভব। ফলে গুটিকয়েক বিনিয়োগকারীর জন্য দাম নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন নয়।

নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা ও সীমাবদ্ধতা

স্টক এক্সচেঞ্জ কোম্পানিটিকে নোটিশ দিলেও তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে— শেয়ারদর বৃদ্ধির পেছনে কোনও মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই।

এই অবস্থায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন দাঁড়ায়— যদি কোনও মৌলিক পরিবর্তন না ঘটে, তবে দাম বাড়ছে কেন?

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তথ্যপ্রবাহের স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারি জোরদার না হলে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে থাকবে।

বিনিয়োগকারীদের আচরণ: লাভের লোভ বনাম বাস্তবতা

পুঁজিবাজারে দ্রুত মুনাফার আকর্ষণ সবসময়ই বিনিয়োগকারীদের প্রলুব্ধ করে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এই আকর্ষণই বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিনিয়োগকারীদের উচিত— কোম্পানির মৌলভিত্তি বিশ্লেষণ করা

শুধু শেয়ারদরের ঊর্ধ্বগতির ওপর নির্ভর না করা, ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া। কারণ বাজারে সব সময় এক পক্ষ লাভ করে, আরেক পক্ষ লোকসান করে— এটাই বাস্তবতা।

সামগ্রিক চিত্র: আস্থার সংকটের বহুমাত্রিক রূপ

ব্যাংক খাতের অনিশ্চয়তা এবং পুঁজিবাজারের অস্বাভাবিক আচরণ—এই দুই প্রবণতা মিলিয়ে একটি বড় চিত্র সামনে আসে। সেটি হলো আস্থার সংকট। বর্তমান বাস্তবতায়— ব্যাংক খাত এখনো স্থিতিশীল নয়, পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।

করণীয়: আস্থা পুনর্গঠনের পথ

বিশ্লেষকদের মতে, এখন সবচেয়ে জরুরি কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা—আমানতের পূর্ণ আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা, ব্যাংক মালিকানায় কঠোর যাচাই ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা, পুঁজিবাজারে তথ্যপ্রবাহের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় কার্যকর নীতি গ্রহণ, নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্বাধীনতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি।

উল্লেখ্য, ব্যাংক রেজুলিউশন আইন ২০২৬ এবং বাংলাদেশ অটোকারসের শেয়ারদরের অস্বাভাবিক উত্থান— দুটি আলাদা ঘটনা হলেও, উভয়ই একটি অভিন্ন বাস্তবতা তুলে ধরে, তা হলো আস্থার ঘাটতি। একদিকে ব্যাংক খাতে পুনর্গঠনের নামে অনিশ্চয়তা, অপরদিকে পুঁজিবাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি—দুটিই ইঙ্গিত দেয় যে, আর্থিক ব্যবস্থায় এখনো কাঙ্ক্ষিত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

এ অবস্থায় আস্থা পুনর্গঠনই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ আস্থা হারালে বিনিয়োগ থেমে যায়, আর বিনিয়োগ থেমে গেলে অর্থনীতির চাকা ধীর হয়ে পড়ে। তাই এখন সময় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি টেকসই ও বিশ্বাসযোগ্য আর্থিক পরিবেশ গড়ে তোলার।

/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে আমানতকারীরা টাকা ফেরত পাবেন কীভাবে 
বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে আমানতকারীদের মানববন্ধন, মুখে কালো কাপড়ে প্রতিবাদ
চট্টগ্রামে একীভূত ৫ ব্যাংকের শাখায় তালা দিয়েছেন আমানতকারীরা
সর্বশেষ খবর
ভৈরবে রেলপথ অবরোধ: ৫টি ট্রেন মাঝরাস্তায় আটকা, চলাচল ব্যাহত
ভৈরবে রেলপথ অবরোধ: ৫টি ট্রেন মাঝরাস্তায় আটকা, চলাচল ব্যাহত
‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে নোবেল দিলে সেটা তারেক রহমান পাবেন’
‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে নোবেল দিলে সেটা তারেক রহমান পাবেন’
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
বিশ্বের সেরা ১০০ উপন্যাস : বাছাই ও বির্তক
বিশ্বের সেরা ১০০ উপন্যাস : বাছাই ও বির্তক
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি