নতুন সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়নে মৌলিক পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেছেন, অতীতে নেওয়া অনেক প্রকল্পই ছিল স্বজনতোষী পৃষ্ঠপোষকতার ভিত্তিতে, যা থেকে বেরিয়ে এসে এখন অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন— অর্থাৎ সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই পরিকল্পনা করা হবে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি কক্ষে সরকারের অর্থনৈতিক কৌশল প্রণয়নে গঠিত অ্যাডভাইজারি কমিটির প্রথম সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিতুমীর জানান, বর্তমানে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আগামী বছরের জুনের মধ্যে এই বিশ্লেষণ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আগে পরিকল্পনার নামে অনেক সময় স্বরচিত ও স্বকল্পিত চমৎকার গল্প তৈরি হয়েছে। এখন সেই ধারা থেকে বেরিয়ে এসে বাস্তবভিত্তিক, কর্মসংস্থানমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, ‘‘সরকারি বিনিয়োগের সঙ্গে বেসরকারি খাতের কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা হবে, যাতে অর্থনীতিতে টেকসই গতি আসে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।’’
জ্বালানি নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিতুমীর বলেন, ‘‘ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় খাদ্যের পাশাপাশি জ্বালানি খাতেও কৌশলগত মজুত গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে সরকারের অগ্রাধিকার।’’
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি। তিনি বলেন, ‘‘চলমান প্রকল্পগুলো হঠাৎ করে বাতিল না করে বাস্তবতার আলোকে পুনঃসজ্জিত করা হবে। সরকারি কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা থাকলে তা ধাপে ধাপে সমাধান করা হবে।’’
এদিকে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য মনজুর হোসেন জানান, নতুন পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে এবং আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এর প্রাথমিক খসড়া প্রস্তুত করা সম্ভব হবে।









