বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প-কারখানার জন্য জরুরি সহায়তা চাইলেন ৪ ব্যবসায়ী নেতা

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৪আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৪

বন্যা ও টানা ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম বন্দর এবং এর সঙ্গে সংযুক্ত সড়ক ও রেল যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় দেশের শিল্প ও বাণিজ্য খাতকে সম্ভাব্য বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে জরুরি নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন দেশের শীর্ষ চার ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা।

রবিবার (১২ জুলাই) নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে পাঠানো এক যৌথ চিঠিতে তারা দ্রুত চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক করা, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তা এবং সংশ্লিষ্ট চার্জ মওকুফসহ একগুচ্ছ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

চিঠিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।

চিঠিতে ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, বর্তমান সরকারের ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব নীতি, শিল্পায়ন, রফতানি উন্নয়ন এবং বাণিজ্য সহজীকরণের উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করেছে। তবে চলমান বন্যা ও জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রাম বন্দর এবং সংশ্লিষ্ট সড়ক ও রেল যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বড় ধরনের সংকটে পড়েছে।

তারা উল্লেখ করেন, বন্দরে আটকে থাকা আমদানি করা তুলা, সুতা, কাপড়, শিল্পের কাঁচামাল, রাসায়নিক, প্যাকেজিং সামগ্রী ও খাদ্যপণ্যসহ আর্দ্রতা-সংবেদনশীল বিভিন্ন পণ্যের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে রফতানির অপেক্ষায় থাকা তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন প্রস্তুত পণ্যের জাহাজীকরণ বিলম্বিত হওয়ায় রফতানি আদেশ বাতিল, মূল্যছাড়, বিলম্বজনিত জরিমানা এবং ব্যয়বহুল এয়ার শিপমেন্টের ঝুঁকি বাড়ছে।

চিঠিতে বলা হয়, গত ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া টানা ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ড ও বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতে পানি প্রবেশ করে আমদানি ও রফতানি পণ্যভর্তি কনটেইনারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত যেকোনও দাবি অস্বীকার এবং এ বিষয়ে দায় গ্রহণ না করার অবস্থান জানায়, যা ব্যবসায়ী মহলে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।

ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা কিংবা ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটির কারণে ক্ষতি হয়ে থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ন্যায্য প্রতিকার নিশ্চিত করা উচিত।

চিঠিতে আরও বলা হয়, দীর্ঘ সময় ধরে কনটেইনার ও পণ্য বন্দরে আটকে থাকায় আমদানিকারক ও রফতানিকারকদের অতিরিক্ত ডেমারেজ, ডিটেনশন, পোর্ট রেন্ট, স্টোরেজ, শেড ও ইয়ার্ড চার্জ এবং শিপিং ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। এর ফলে শিল্পকারখানার উৎপাদন, নগদ অর্থপ্রবাহ, শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ, ব্যাংকঋণের কিস্তি এবং অন্যান্য আর্থিক দায় পরিশোধে চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যবসায়ী নেতারা কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে— চট্টগ্রাম বন্দর ও সড়ক-রেল যোগাযোগব্যবস্থা দ্রুত সচল করা, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে বিশেষ মূল্যায়ন কমিটি গঠন, ডেমারেজ, ডিটেনশন, পোর্ট রেন্ট, স্টোরেজ ও সংশ্লিষ্ট চার্জ সম্পূর্ণ বা আংশিক মওকুফ এবং কাঁচামাল ও জরুরি পণ্যের জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক কাস্টমস সুবিধা চালু করা।

এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য স্বল্প সুদের পুনঃঅর্থায়ন তহবিল ও কার্যকরী মূলধন ঋণ, ঋণ পরিশোধের সময় বৃদ্ধি ও পুনঃতফসিল, এলসি ও রফতানি-আমদানিসংক্রান্ত সময়সীমা বাড়ানো, ইউটিলিটি বিল ও কর পরিশোধে সময় বৃদ্ধি, এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যের ক্ষেত্রে সহজতর কাস্টমস, বৈদেশিক মুদ্রা ও ব্যাংকিং সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

চিঠিতে বাণিজ্য, অর্থ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ব্যাংক, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টম হাউস, বাংলাদেশ রেলওয়ে, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তমন্ত্রণালয় টাস্কফোর্স গঠনেরও প্রস্তাব দিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।

/জিএম/এফআর/
সম্পর্কিত
ঘরের আলমারিতে ঢুকে পড়া সাপের কামড়ে নারীর মৃত্যু
চট্টগ্রামে ১৪ হাজারের বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত, দুই উপজেলা পানির নিচে
বাংলাদশে বন্যা ও ভূমিধস, মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতির শোক
সর্বশেষ খবর
ডিএফটি ও আইকাও অডিট সামনে রেখে জোর প্রস্তুতি বেবিচকের
ডিএফটি ও আইকাও অডিট সামনে রেখে জোর প্রস্তুতি বেবিচকের
বেবিচকের পরামর্শক নিয়োগে যোগ্যতার শর্ত বাদ! 
বেবিচকের পরামর্শক নিয়োগে যোগ্যতার শর্ত বাদ! 
নকল করতে না দেওয়ায় পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলা-সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা
নকল করতে না দেওয়ায় পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলা-সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা
ঘরের আলমারিতে ঢুকে পড়া সাপের কামড়ে নারীর মৃত্যু
ঘরের আলমারিতে ঢুকে পড়া সাপের কামড়ে নারীর মৃত্যু
সর্বাধিক পঠিত
যাত্রীবেশে বাসে মন্ত্রী, ভাংতি না থাকায় নামিয়ে দিলেন কন্ডাক্টর
যাত্রীবেশে বাসে মন্ত্রী, ভাংতি না থাকায় নামিয়ে দিলেন কন্ডাক্টর
২৫ বছর পর ফেসবুকে খালার খোঁজ পেলাম, তাও মৃত্যুর পর, কষ্টের শেষ ছিল না তার
২৫ বছর পর ফেসবুকে খালার খোঁজ পেলাম, তাও মৃত্যুর পর, কষ্টের শেষ ছিল না তার
খামেনির জানাজায় সেই ‘রহস্যময়’ মুখোশধারী কে, জানা গেলো অবশেষে
খামেনির জানাজায় সেই ‘রহস্যময়’ মুখোশধারী কে, জানা গেলো অবশেষে
চমক দেখালো যমজ তিন বোন, পরিবারে আনন্দের বন্যা
চমক দেখালো যমজ তিন বোন, পরিবারে আনন্দের বন্যা
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে রক্ষণ ভাঙতে দেরি কেন, উত্তর দিলেন আলভারেজ 
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে রক্ষণ ভাঙতে দেরি কেন, উত্তর দিলেন আলভারেজ