একই দিনে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে তিন বোনের জন্ম। এরপর বাবা-মায়ের অক্লান্ত পরিশ্রম আর যত্নে বেড়ে ওঠা। একসঙ্গে খেলাধুলা, একই শ্রেণিতে পড়ালেখা, খাবার আর বেড়ানো।
তবে স্কুলে ভর্তি প্রক্রিয়া তিন বোনের জীবনযাত্রায় কিছুটা ছন্দপতন ঘটায়। দুই বোন একই স্কুলে পড়ার সুযোগ পেলেও অপর জনকে অন্য স্কুলে ভর্তি হতে হয়। কিন্তু তাতে তাদের লক্ষ্য বিচ্যুত হয়নি। একই দিনে জন্ম নেওয়া যমজ তিন বোন এবারে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় একই ফল অর্জন করেছে। তিন বোনই ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়ে পরিবারে খুশির চমক ছড়িয়ে দিয়েছে।
একই ফল পাওয়া তিন বোন হলো- তাবিয়া রহমান, তাহিয়া রহমান আর তাকিয়া রহমান। এর মধ্যে বড় তাবিয়া, তাহিয়া মেজো এবং তাকিয়া ছোট। তাবিয়া রহমান কুড়িগ্রাম সদরের অর্জুনডারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এবং অপর দুই জন কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাথমিক শাখা থেকে এ বছর প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করেছে। বর্তমানে তাবিয়া জেলা শহরের বর্ডার গার্ড উচ্চ বিদ্যালয়ে এবং অপর দুই বোন কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে।
কুড়িগ্রাম সদরের পৌর এলাকার নাজিরা টেক্সটাইল মোড় গ্রামে তিন বোনের বসবাস। মা শাহিনা আক্তার গৃহিণী, বাবা তারিকুর রহমান তারিক পেশায় আইনজীবী (অতিরিক্ত পিপি)। তিন মেয়েকে নিয়ে শাহিনা-তারিক দম্পতির সংসার। তিন মেয়েকে ঘিরেই তাদের স্বপ্ন।
রবিবার ফলাফল ঘোষণার পর মেয়েদের সফলতায় বাবা তারিকুর রহমান ফেসবুকে নিজের আইডিতে লিখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমার তিন কন্যা ৫ম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। মহান আল্লাহ কন্যাদের উত্তম জ্ঞান দান করুন।’ মেয়েদের এই সফলতায় তাদের মায়ের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন গর্বিত এই বাবা।
তাহিয়া, তাবিয়া আর তাকিয়ার জন্ম ২৬ মার্চ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে। বাবা, চাচা ও প্রয়াত দাদা আইনজীবী হলেও তিন বোনের স্বপ্ন তারা বড় হয়ে তাদের একমাত্র ফুফুর মতো মেডিকেলে পড়বে, ডাক্তার হবে।
তাহিয়া জানায়, তিন বোনের একই ফলাফলে তারা খুব খুশি। এই সফলতার কৃতিত্ব তাদের নিজের ও মায়ের পরিশ্রমের। বাবাকেও কৃতিত্ব দিতে কার্পণ্য নেই তিন বোনের।
তাহিয়ার ভাষ্য, ‘আমাদের তিন বোনের মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা ও প্রচেষ্টা এই ফল এনে দিয়েছে। বাবা-মায়ের পরিশ্রম ও যত্ন আমাদের ভীষণ সাহায্য করেছে। আমরা খুব খুশি। আমরা আগামীতে আরও পরিশ্রম করে পড়াশোনা করবো। তিন বোন বড় হয়ে আমার একমাত্র ফুফুর মতো ডাক্তার হতে চাই।’ একই মত তাবিয়া ও তাকিয়ার।
তাবিয়া বলে, ‘আমরা তিন বোন একই ফল অর্জন করায় খুব খুশি। তিন জন একই স্কুলে পড়তে পারলে ভালো হতো। কিন্তু স্কুল আলাদা হলেও আমরা একসঙ্গে পড়াশোনা করি। আমাদের স্বপ্ন আমরা তিন বোন ডাক্তার হবো। সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই।’
মা শাহিনা আক্তার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা খুব আনন্দিত। মনে একটু আশঙ্কা ছিল যে তিন মেয়ের রেজাল্ট আলাদা হলে খারাপ লাগতো। কিন্তু আল্লাহর রহমতে তিন জনই একই ফল পেয়েছে এবং ভালো করেছে। ওদের জন্য দোয়া চাই। ওদের জীবনের লক্ষ্য অর্জনে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার কুড়িগ্রাম জেলা থেকে সরকারি ও বেসরকারি স্কুল মিলে মোট ৬ হাজার ৬১৭ জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এদের মধ্যে ৪৭০ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ৫৭৫ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে।









