অনুসন্ধান চালানো হয়নি দেশের এমন সব জায়গায় বিপুল তেল-গ্যাস মজুদের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন এই খাত সংশ্লিষ্টরা। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, ‘দেশে বিপুল তেল-গ্যাস মজুদের সম্ভাবনা রয়েছে। ভোলায় নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের পর সেই সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হয়েছে।’ শনিবার (৩ মার্চ) রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স অব বাংলাদেশ (এফইআরবি) আয়োজিত ‘ভোলা গ্যাস ফিল্ড ও জ্বালানি নিরাপত্তা’ শীষর্ক সেমিনারে সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই সম্ভাবনার কথা জানান।
ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, ‘দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলোয় আরও বেশি মূল্যায়নসহ উন্নয়ন কূপ খনন করতে হবে। এতে আরও বেশি গ্যাস পাওয়া যাবে। অতীতে দেখা গেছে, পুনঃমূল্যায়নে গ্যাসের উৎপাদন বেড়েছে।’ তিনি বলেন, ‘গ্যাস তুলতে আরও কূপ খনন করতে হবে। কয়টা স্তর আছে, সেটা জানা দরকার। সেই কাজগুলো আমরা করে যাচ্ছি। ভোলায় এখন দেড় টিসিএফ মজুদ আছে। এটা আরও অনেক বৃদ্ধি পাবে বলে আমি আশাবাদী।’ তিনি দেশের সংকট সামাল দিতে অনুসন্ধান, উত্তোলনের পাশাপাশি এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে বলে জানান।
ভোলার গ্যাসের ব্যবহার সম্পর্কে ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, ‘ভোলায় ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করে তা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। ভোলার গ্যাস বরিশাল ও খুলনাসহ মূল ভূখণ্ডে আনার লক্ষ্যে পাইপলাইন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদি পাইপলাইন করি, তাহলে বরিশালে, ওইদিকে যারা গ্যাস এতদিন পায়নি, তাদের দাবি পূরণ করতে পারবো।’
সেমিনারে মূল প্রবন্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক বদরুল ইমাম বলেন, ‘ভোলার দুই গ্যাসক্ষেত্রের কাছেই চর জব্বার, চর জব্বার উত্তর, মনপুরা, মহেশখালী ও সন্দ্বীপেও গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভোলায় নতুন গ্যাস আবিষ্কারের ফলে মনে হচ্ছে দক্ষিণ উপকূলে আরও গ্যাস রয়েছে।’ এ জন্য পর্যাপ্ত অনুসন্ধান কাজ চালানোর পরামর্শ দেন তিনি।
অধ্যাপক বদরুল ইমাম বলেন, ‘ভোলায় গ্যাস পাওয়ার আগে দেশের প্রায় সব গ্যাসক্ষেত্রই ছিল সিলেট অঞ্চলে সুরমা বেসিনে। ভোলায় গ্যাস পাওয়ার পর দক্ষিণাঞ্চলে মেঘনা বেসিনে গ্যাস পাওয়ার বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা আশাবাদী হয়ে উঠেছেন।’
এফইআরবির চেয়ারম্যান অরুণ কর্মকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন বাপেক্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমজাদ হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান কাজী মতিন উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি এএসএম মাকসুদ কামাল প্রমুখ।








