দাম নির্ধারণের জন্য এলপিজি ব্যবসায়ীদের কাছে প্রস্তাব জমা দিতে বলা হলে তারা বিইআরসির কাছে ৩০ দিন সময় চেয়েছে। কিন্তু বিপিসির অধীন সরকারি কোম্পানি এলপি গ্যাস লিমিটেড বিপিসির অনুমতি ছাড়া প্রস্তাব দিতে পারবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, আদালত অবমাননার রুল থেকে বাঁচতে এলপিজির দাম নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন। আগামী ১৪, ১৭ ও ১৮ জানুয়ারি গণশুনানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। এর আগে কাজের জন্য একটি শিডিউলও তৈরি করেছে তারা। শিডিউল অনুযায়ী গত ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে কোম্পানিগুলোকে প্রস্তাব জমা দেওয়ার সময় দেওয়া হয়। এই চিঠি কমিশন দেয় তার মাত্র একদিন আগে অর্থাৎ ৬ ডিসেম্বর।
বিইআরসি সূত্র জানায়, বেসরকারি কোম্পানিগুলো কমিশনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও তারা এত অল্প সময়ে প্রস্তাব দিতে পারবে না বলে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়েছে। এদিকে সরকারি কোম্পানি এলপি গ্যাস ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে জানায়, বিপিসির অধীনে তাদের এই সংস্থা। তাই বিপিসির অনুমতি ছাড়া তারা এত অল্প সময়ে প্রস্তাব দিতে পারবে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিইআরসির চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল বলেন, আমরা সবাইকে চিঠি দিয়েছিলাম। বেসরকারি কোম্পানিগুলো সময় চেয়েছে। আমরা তাদের ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সময় বাড়ালেও আমাদের কাজের শিডিউল আগের মতোই থাকবে।
আরও পড়ুন: অবশেষে এলপিজির মূল্য নির্ধারণে বিইআরসির গণশুনানি
এদিকে সরকারি কোম্পানি এলপি গ্যাস কোনও সময় চায়নি। তারা তাদের চিঠিতে জানায়, এলপিজি অপারেশন নীতিমালা ২০১৭ অনুযায়ী বিপিসিকে এই মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এলপি গ্যাস লিমিটেড বিপিসির অধীন। এই নীতিমালার অধীনে বিপিসি কর্তৃক নির্ধারিত দামেই সে এলপিজি বিক্রি করে থাকে। এ বিষয়ে বিপিসির মতামত ছাড়া তারা কিছু করতে পারবে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এলপি গ্যাস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা প্রস্তাব দেবো নাকি দেবো না কোনোটাই বলিনি। এত কম সময়ের মধ্যে আমাদের প্রস্তাব দেওয়া সম্ভব নয়। ৬ তারিখ চিঠি দিয়ে ৭ তারিখ প্রস্তাব চাইলে আমাদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। আমাদের একটা প্রসিডিওর আছে। আমাদের প্রস্তাব দিতে হলে মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন নিতে হবে। দাম কমানোর বা বাড়ানোর প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পেলে তা আসবে বিপিসির বোর্ডে। তারা অনুমোদন দিলে বিপিসি এই প্রস্তাব দিতে পারবে বিইআরসিকে। আমরা এটা দিতে পারি না।
এদিকে এ বিষয়ে জ্বালানি সচিব আনিছুর রহমান বলেন, আমি তো আগেই বিপিসির চেয়ারম্যানকে বলেছি যে তারা যদি এত অল্প সময়ে প্রস্তাব দিতে না পারে তো তারা যেন সময় চায়। এখন কোম্পানি কেন সময় না চেয়ে চিঠি দিলো তা আমার বোধগম্য নয়। আমি আবার তাদের সঙ্গে কথা বলবো যাতে তারা সময় চায় কমিশনের কাছে।
প্রসঙ্গত, বিইআরসির শিডিউলের মধ্যে রয়েছে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও লাইসেন্সিদের দাম সম্পর্কিত দলিলাদি জমা, ১৩ ডিসেম্বর কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব পেলে মূল্যায়ন কমিটি গঠন এবং গণশুনানির তারিখ নির্ধারণ করা। ১৩ এবং ১৪ ডিসেম্বর স্বার্থসংশ্লিষ্টদের গণশুনানির বিষয়ে নোটিশ দেওয়া। এরপর ১৫ এবং ১৬ ডিসেম্বর শুনানির তারিখ জানিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া। এছাড়া ১৪ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি গণশুনানির বিষয়ে সবার মতামত প্রদান, ৪ জানুয়ারি লিখিত মতামত প্রাপ্তি এবং শুনানিতে অংশগ্রহণের জন্য নামের তালিকাভুক্ত করা হবে। এরপর ১৪, ১৭ ও ১৮ জানুয়ারি এলপিজির দাম নির্ধারণে গণশুনানি করবে কমিশন। শুনানির পর ২৪ জানুয়ারি লাইসেন্সি ও স্বার্থসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে শুনানি পরবর্তীতে লিখিত মতামত প্রদান করা যাবে।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ নভেম্বর গণশুনানির মাধ্যমে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দাখিল না করায় কমিশনের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেন হাইকোর্ট। দুই সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে আগামী ১৫ ডিসেম্বর এ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়।








