বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সময় পরেও দেশের কাজে কোনও অবদান দেখাতে না পারায় কঠোর সমালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম। রবিবার (২১ মার্চ) এক ওয়েবিনারে উপদেষ্টা বলেন, এত বড় সংস্থা হয়েছে। কিন্তু এতদিনে কাজ কতখানি হয়েছে? দেশের কাজে এই প্রতিষ্ঠানের অবদান আসলে কতটুকু? এখন ল্যাবের কথা বলা হচ্ছে। এতদিন কী কাজ করেছে?
তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, সমালোচনা করছি। মন খারাপ করবেন না। আপনারা এখনও বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে। জনমানুষ থেকে অনেক বিচ্ছিন্ন। আপনাদের প্রকল্পগুলো আরও জনবান্ধব করতে হবে। এমন সব বিষয়ে গবেষণা করতে হবে যাতে করে সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়।
রবিবার ‘এ প্রপোজাল টু সেট আপ বাংলাদেশ ন্যাশনাল রিনিউয়েবল এনার্জি ল্যাবরেটরি (বিএনআরইএল)’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এই সমালোচনা করেন।
সেমিনারে ইপিআরসি এর চেয়ারম্যান জাকিয়া সুলতানার সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন জ্বালানি সচিব আনিছুর রহমান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আলী হোসেন, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম. তামিম, ইপিআরসি এর পরিচালনা পরিষদের সদস্য সিদ্দিক জোবায়ের, দিদার ইসলাম, সাইফুল হক, ইমামুল হাসান, বুয়েটের শিক্ষক ফারসিম মান্নান মোহম্মদীসহ আরও অনেকে।
উপদেষ্টা বলেন, আমরা কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমিয়ে আনতে পারি। নানা উদ্যোগ ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু অসচেতনতার কারণে জ্বালানি নষ্ট হচ্ছে। শুধু লাইট-ফ্যান অকারণে চালানো বন্ধ করলেই অনেক জ্বালানি সাশ্রয় হতো। নিজের প্রতিদিনের জীবনে পরিবর্তনটাই বড় জরুরি। এটাই সবচেয়ে বেশি কঠিন।
জাকিয়া সুলতানা বলেন, আমর অনেক উদ্যোগ নিচ্ছি। সোলার কুকিং এর উন্নয়নে আমরা আরও কাজ করতে পারি। এখন যে টেকনোলজি আছে তার উন্নতি করি। ইজিবাইকের গাইডলাইন করার কাজ ইতোমধ্যে শুরু করেছি। একটি নিরাপদ ও স্মার্ট যান হিসেবে রূপ দিতে পারি সে চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া শিল্প মালিকদের সঙ্গে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী যন্ত্রাংশ কেনার বিষয়ে কথা বলছি। তিনি বলেন, গবেষকদের কাজের সুযোগ করে দিতে চাই। এজন্য এই ধরনের ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
ম. তামিম বলেন, এই উদ্যোগ খুবই দরকার। এনার্জি রোড ম্যাপ করা হয়েছে। সময়োপযোগী উদ্যোগ নিয়েছে ইপিআরসি। সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ, এইগুলো মোকাবিলা করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
ইপিআরসি সদস্য দিদার বলেন, নিজস্ব রিসার্চ ল্যাবের প্রয়োজন। অনেক গবেষণা করা হচ্ছে, অনেক মানুষ আগ্রহ দেখাচ্ছে। ফলে এই ধরনের ল্যাব খুব জরুরি।









