তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি অন্যান্য বিতরণ কোম্পানির মতোই গ্যাসের দাম গড়ে ১১৭ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে। পাশাপাশি বিতরণ চার্জ ২৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬৮ পয়সা করার আবেদন করেছে। তবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি কমিটি বিদ্যমান বিতরণ চার্জ বাতিলের সুপারিশ করেছে। টেকনিক্যাল কমিটি তিতাস গ্যাসের দাম ২০ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে।
বুধবার (২৩ মার্চ) রাজধানীর বিয়াম অডিটোরিয়ামে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির প্রস্তাবিত গ্যাসের দামের ওপর গণশুনানি করছে বিইআরসি। শুনানিতে কারিগরি কমিটি এই সুপারিশ করে।
কারিগরি কমিটি বলছে, বিতরণ মার্জিন ছাড়াও তিতাসের আরও আয় রয়েছে। তিতাস ১০ হাজার ১৪৭ মিলিয়ন টাকা অতিরিক্ত আয় করেছে।
অন্যদিকে তিতাস বলছে, ২০১৫ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তাদের বিতরণ মার্জিন ছিল ৫৫ পয়সা। কিন্তু ওই বছর ১ সেপ্টেম্বর তা কমিয়ে ২২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু ওই সময় থেকে এনবিআর অতিরিক্ত ট্যাক্স কেটে নেওয়ায় তিতাস ঋণাত্মক মূলধনে চলে গেছে। এ জন্য তিতাস এক হাজার তিন কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য এনবিআর এ দেন দরবার করেছে। কিন্তু এনবিআর তাদের এ কথায় কর্ণপাত করেনি।
তিতাস বলছে, তাদের চারটি উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে, যার অর্থায়নের জন্য তাদের মার্জিন বাড়ানো দরকার।
তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হারুনুর রশীদ মোল্লাহ বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর দেখি তিতাস চলছে জামানতের টাকায়। প্রকল্পগুলো চলছে সেই টাকায়। তিতাসের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ২৮ লাখ। সবাই গ্যাস ব্যবহার করলেও বিল দেন না। ফলে গ্রাহকের কাছে টাকা পড়ে আছে। অন্যদিকে বকেয়া বিলের মামলার কারণেও এক হাজার ৩১৬ কোটি টাকা আটকে আছে তিতাসের। এদিকে মার্জিন কম থাকায় তিতাসের টাকা নেই। উন্নয়ন প্রকল্পগুলো চালাতে হলে তিতাসের টাকা প্রয়োজন।’
এদিকে শুনানির শুরুতে বিইআরসি চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল বলেন, ‘বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে মধ্যম আয়ের লোকেরাও হিমশিম খাচ্ছে। আমরা যে পণ্যটির বিষয়ে শুনানি করছি, তার চেইন ইফেক্ট রয়েছে, কোনও প্রস্তাবকারী সেটি তুলে আনেননি। আমরা সামগ্রিক সামাজিক অবস্থা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত জানাবো।’









