পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেছেন, বাংলাদেশ জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তির সম্প্রসারণ, জ্বালানি সংরক্ষণ এবং সম্ভাব্য টেকসই জ্বালানি অন্বেষণে কাজ করছে। সৌর প্যানেলের ওপর কর ছাড়ের পাশাপাশি দেশে সৌর প্যানেল স্থাপনের জন্য অনুদান এবং রেয়াতি ঋণসহ বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগ ও আর্থিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে প্রায় ১ কোট ৮০ লাখ মানুষকে সৌরবিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করতে সারাদেশে ৬০ লাখেরও বেশি সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শুক্রবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আন্তর্জাতিক নবায়নযোগ্য শক্তি সংস্থার (আইআরইএনএ) মহাপরিচালক ফ্রান্সেসকো লা ক্যামেরার সঙ্গে বৈঠকে এসব বলেন। বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তফা কামাল উপস্থিত ছিলেন।
পরিবেশমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ ডিজেলচালিত সেচ ব্যবস্থাকে সৌর সেচ পাম্প দিয়ে প্রতিস্থাপন করছে, এতে অ-সেচ সময়কালে জাতীয় গ্রিডে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য গ্রিড ইন্টিগ্রেশন সিস্টেম থাকবে। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি আমরা নগরে এবং শিল্প এস্টেটের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্রচারের জন্য নেট মিটারিং নির্দেশিকা গ্রহণ করেছি।’
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এ বছরের ২১ মার্চ শতভাগ বিদ্যুৎ কাভারেজ ঘোষণা করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার কম কার্বন নিঃসরণের পথ অনুসরণে কঠোর পরিশ্রম করছে।
মন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ১২ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক বিনিয়োগের ১০টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিল করেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সম্প্রতি জাতীয় সৌরশক্তির রোডম্যাপ তৈরি করেছি এবং ২০৪১ সালের মধ্যে আমাদের ৪০ শতাংশ শক্তি পুনর্ব্যবহারযোগ্য উৎস্য থেকে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছি। উপরন্তু, আমরা 'মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা' নামের একটি কৌশলগত বিনিয়োগ কাঠামো বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছি।”
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে টেকসই শক্তির রূপান্তর উৎসাহিত করতে, সাশ্রয়ী মূল্যে সবুজ প্রযুক্তির স্থানান্তর নিশ্চিত করতে হবে। দেশে নবায়নযোগ্য শক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারে IRENA প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি প্যারিস চুক্তির প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী শক্তি পরিবর্তন ত্বরান্বিত করতে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার সুবিধার্থে IRENA-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। আন্তর্জাতিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংস্থার মহাপরিচালক ফ্রান্সেস্কো লা ক্যামেরাও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।









