সরকারের একঘণ্টা লোডশেডিংয়ের ঘোষণা মানতে পারছে না বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো। চাহিদার বিপরীতে কম বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়ায় ঢাকার কোথাও কোথাও দুই ঘণ্টাও লোডশেডিং হচ্ছে। অন্যদিকে ঢাকার বাইরে ৭/৮ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিতরণ কোম্পানিগুলো বলছে, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কম পাওয়ার কারণে এক ঘণ্টার নির্দেশনা মানা যাচ্ছে না।
রাজধানীর উত্তরা, পশ্চিম রামপুরা, কামরাঙ্গীরচর, নিকেতন, সেন্ট্রাল রোড, খিলগাঁওয়ে একঘণ্টা করে লোডশেডিং হলেও আব্দুল্লাহপুর, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, কলাবাগান, ধানমন্ডির কিছু এলাকায় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা করে লোডশেডিং হয়েছে। এরমধ্যে পল্লবীতে তিন ঘণ্টা, শেওরাপাড়ায় রাত দুইটায় গিয়ে সকাল ৮টায় বিদ্যুৎ আসারও অভিযোগ এসেছে। এদিকে ময়মনসিংহের কিছু এলাকায় ৭ ঘণ্টা, যশোর সদরে দিনে দুই ঘণ্টা করে, আর গ্রামে চার থেকে পাচ ঘণ্টা, সাতক্ষীরা শহরেও দিনে দুই ঘণ্টা, গ্রামে ৪/৫ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে।
ঢাকার লোডশেডিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির (ডিপিডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান বলেন, আজ লোডশেডিং ১৩০ মেগাওয়াটের মতো। আমরা প্রায় সব এলাকায় একঘণ্টা করেই লোডশেডিং দিচ্ছি।
ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাওসার আমির আলী বলেন, আমাদের দেওয়া হয়েছে ৮০০ মেগাওয়াট। চাহিদা আছে ১০১৪ মেগাওয়াটের মতো। আমরা সে অনুযায়ী লোডশেডিংয়ের শিডিউল তৈরি করেছি। ডেসকোর বেশ কিছু জায়গায় দুই ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, আসলে বরাদ্দ কম হলে আমাদের পক্ষে সেটা ম্যানেজ করতে লোডশেডিং দিতেই হয়। সেক্ষেত্রে কোথাও কোথাও আমরা দুই ঘণ্টা লোডশেডিং করতে বাধ্য হচ্ছি। আসলে একঘণ্টার লোডশেডিং করা যাচ্ছে না।
এদিকে গ্রামের ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের অভিযোগের বিষয়ে আরইবির এক জেনারেল ম্যানেজার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তার অধীন এক এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৪৬ মেগাওয়াট। সেখানে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মাত্র ৫ মেগাওয়াট। এরপর সন্ধ্যার পর সেটা আরও দুই মেগাওয়াট বাড়ানো হয়। এই অবস্থায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং করা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।
পিডিবি জানায়, গত কয়েক দিন গড়ে গ্যাস ঘাটতির কারণে ৩০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম উৎপাদন হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হারুনুর রশীদ মোল্লা জানান, আমাদের মোট চাহিদা প্রায় ১৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের। বর্তমানে গড়ে পাচ্ছি ১৬২৬ মিলিয়নের মতো। এই ঘাটতির বেশিরভাগই বিদ্যুৎকেন্দ্রেই দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন:







