পেট্রোবাংলা ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) সরকারের ভর্তুকির ওপর চাপ কমিয়ে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানির দাম সমন্বয় করতে বলেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।
বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীতে বিপিসির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে আইএমএফ-এর সফরকারী দলটি। দলের এশিয়া প্যাসিফিক বিভাগের প্রধান রাহুল আনন্দের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের দলটি বিপিসির জ্বালানির মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে তথ্য জানতে চায়।
বিপিসি কার্যালয় পরিদর্শন করে আইএমএফ প্রতিনিধিরা। এ সময় বিপিসি চেয়ারম্যান এবিএম আজাদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিপিসি সূত্র জানায়, আইএমএফ দল বিপিসির আর্থিক সক্ষমতা এবং ক্ষতি ও লাভের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছে। পাশাপাশি কীভাবে আমরা জ্বালানি তেলের বিষয়টি পরিচালনা করি তাও জানতে চেয়েছে।
জানা যায়, এর আগে আইএমএফ-এর দল জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ ও পেট্রোবাংলার সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেছে।
পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, বৈঠকে তারা পেট্রোবাংলার কাছে গ্যাসের বর্তমান চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতির পাশাপাশি এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চায়। তারা এলএনজি’র মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি এবং ভর্তুকি সংক্রান্ত বিষয়েও জানতে চেয়েছে।
এর আগে গতকাল পিডিবি এবং বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে বৈঠক করে আইএমএফ-এর দলটি। সে সময় বিদ্যুতের ভর্তুকি কমাতে পিডিবিকে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার বিষয়ে জানতে চায় আইএমএফ। একই সঙ্গে তারা কুইক রেন্টাল এবং ক্যাপাসিটি চার্জের বিষয়ে কথা বলেছে।
আইএমএফ-এর দলটি গত ২৬ অক্টোবর ১৫ দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছে। সফরের প্রথম দিন তারা অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করেছে দলটি। পাশাপাশি সরকারের নীতিনির্ধারক এবং অংশীজনদের সঙ্গে আরও বৈঠক করবে বলে জানা যায়।
সম্প্রতি আইএমএফ-এর কাছে সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। এই সহায়তা চাওয়ার পর আইএমএফ অর্থনৈতিক নানা খাতে সংস্কারের কথা বলছে। এর অংশ হিসেবে জ্বালানি এবং বিদ্যুতে ভর্তুকির বিষয়েও আলোচনার কথা জানায় আইএমএফ।









