২০১৯ সালের ২৫ অক্টোবর জ্বালানি বিভাগের সহকারী সচিব মো. রফিকুল ইসলামের স্বাক্ষরে গ্যাস বিপণন বিধিমালার খসড়া প্রকাশ হয়। মতামত নিয়ে এ ধরনের বিধিমালা চূড়ান্ত করতে সর্বোচ্চ তিন মাসের বেশি সময় প্রয়োজন হওয়ার কথা নয়। কিন্তু ৩৯ মাস অর্থাৎ ৩ বছর ৩ মাস সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও এই বিধিমালা চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।
জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, খসড়া গ্যাস বিপণন বিধিমালাটি দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়ে পেট্রোবাংলাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি সচিব মাহবুব হোসেন সম্প্রতি এক বৈঠকে গ্যাস বিপণন বিধিমালাটি চূড়ান্ত করে দ্রুত পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
বৈঠকে পেট্রোবাংলার পরিচালক অপারেশন কামরুজ্জামান বলেন, পেট্রোবাংলা গ্যাস বিপণন বিধিমালা নিয়ে একটি প্রেজেন্টেশন তৈরি করেছে। সেটি জ্বালানি বিভাগে দ্রুত পাঠানো হবে।
জ্বালানি ব্যবহারে নতুন পদ্ধতি চালু করতে চাচ্ছে সরকার। এরমধ্যেই সরকারের তরফ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে বেসরকারি উদ্যোক্তারা জ্বালানি আমদানি করে বিপণন করতে পারবে। এরমধ্যে বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানির বিষয়টিও রয়েছে। ফলে গ্যাস বিপণন বিধিতে এসব কিছুর ছাপ থাকতে হবে।
পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, গ্যাস বিপণন বিধিমালাটি চূড়ান্ত করার বিষয়ে পেট্রোবাংলাসহ অন্যদের আগ্রহ খুব কম। বিধিমালাতে নতুন নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকার গত এক বছর আগেও জ্বালানি বিপণন ব্যাপকভাবে বেসরকারি কোম্পানির হাতে ছাড়তে চায়নি, এখন যা চাওয়া হচ্ছে। এসব কারণে পেট্রোবাংলার কাঁটছাট করতে হচ্ছে। আজকে এক রকম চিন্তা করলে দেখা যাচ্ছে দুই এক মাসের মধ্যে নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, দেশে গ্যাস বিপণনে যে আগের বিধিমালা ছিল তাকে যুগোপযোগী করার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে এত দিন দেরির বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়।
কী আছে বিধিমালার খসড়ায়
৭৮ পৃষ্ঠার এই বিধিমালাতে গ্যাস বিপণন এর সকল বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জানা যায়, আবাসিক বা বাণিজ্যিক যেকোনও ধরনের গ্যাস সংযোগ অবৈধ শনাক্ত হলে সেই গ্রাহককে ১২ মাসের (এক বছর) সমপরিমাণ বিল জরিমানা হিসেবে দিতে হবে। অবৈধ গ্যাসের অপব্যবহার রোধ, সুষম বণ্টন নিশ্চিত, গ্যাসের লোড সমন্বয় এবং সর্বোপরি রাজস্ব আয় বাড়ানোসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এই বিধিমালায়।
খসড়া বিধিমালায় বলা হয়েছে, মিটারযুক্ত গ্রাহক গ্যাস কারচুপি বা অননুমোদিত গ্যাস ব্যবহার করলে অস্থায়ীভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণসহ অপরাধ অনুযায়ী জরিমানা দিতে বাধ্য হবেন। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১২ থেকে সর্বনিম্ন ৩ মাসের বাড়তি বিল জরিমানা দিতে হবে গ্রাহককে।
রেগুলেটর বা রেগুলেটরের চাপ অননুমোদিতভাবে বা অবৈধভাবে পুনঃস্থাপন বা পুনর্নির্ধারণ করে নির্ধারিত চাপের বেশি চাপে গ্যাস ব্যবহার করলেও উপরোক্ত নিয়মে জরিমানার আওতায় আসবেন গ্রাহক।
এদিকে শিল্প গ্রাহক ঘণ্টাপ্রতি লোড ৪ হাজার ঘনফুটের নিচে গ্যাস কারচুপি বা গ্যাসের অপব্যবহার করলে অস্থায়ীভাবে লাইন বিচ্ছিন্নকরণসহ দুই থেকে ছয় মাসের অতিরিক্ত বিল জরিমানা দিতে হবে।
বিধিতে আরও বলা হয়েছে, গ্যাস সংযোগ সংক্রান্ত কোনও শর্ত ভঙ্গের কারণে গ্যাস লাইন বিচ্ছিন্ন হলে, এরপর কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অবৈধ গ্যাস ব্যবহার করলে পরিদর্শনের তারিখ থেকে শনাক্তকরণ তারিখ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৬ মাসের গ্যাস বিলের সমপরিমাণ অর্থ জরিমানা দিতে হবে।









