প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেছেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা এক দিনের নয়। এর পেছনে আন্তর্জাতিক চক্রান্ত যেমন ছিল, তেমন সুদূর প্রসারী পরিকল্পনাও ছিল। বঙ্গবন্ধুর ৪৮তম মৃত্যুবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) বিকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, ‘আজকে আমাদের ভাবতে হবে— বঙ্গবন্ধুকে কেন হত্যা করা হয়েছে। যারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তারা কাউকে ছাড়েনি। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে সুদূর প্রসারী চক্রান্ত ছিল। উপদেষ্টা বলেন, ‘খুনের পর খুনিদের দায়মুক্তি দিয়ে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এখনও তারা চক্রান্ত অব্যাহত রেখেছে। এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান, খন্দকার মোশতাক এবং খুনিচক্র লাভবান হয়েছিল।’
ড.তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে আমরা উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে উঠছি। এটা অনেকে সহ্য করতে পারছে না।’
বিদুৎ জ্বালানি এবং খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘‘স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে বঙ্গবন্ধু একটি শক্তিশালী ভিত রচনা করেছিলেন। তখনই সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করে ১২৭টি দেশের স্বীকৃতি আদায় করেছিলেন তিনি। কিন্তু অনেকে এখন গণতন্ত্রের কথা বলে, তারা ওই সময় আমাদের স্বীকৃতি দেয়নি। তারা পাকিস্তানিদের অস্ত্র দিয়ে আমাদের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে কাজ করেছিল। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন, বাংলাদেশ ‘সোনার বাংলা’ হবে। এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করছে। কিন্তু অপশক্তি আমাদের পথকে রুখে দিতে চাইছে। আমাদের সবাইকে এ বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।’’
বিদ্যুৎ, জ্বালনি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াসিকা আয়শা খান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ষড়যন্ত্রকারীরা স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য থেকে জাতিকে বিচ্যুত করেছে। বঙ্গবন্ধু সারা দেশে বিদ্যুৎ বিতরণ করার জন্য স্বাধীনতার শুরুতেই উদ্যাগ নিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে আমরা অনেক আগেই সত্যিকার সোনার বাংলা পেতাম।’
অনুষ্ঠানে মূল আলোচক ওয়ার্ল্ড ইউনির্ভাসিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান চৌধুরী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ৩ বছর ৭ মাস ৩ দিন দেশ শাসন করেছেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি যা অর্জন করেছেন, তা অন্য কারও পক্ষে সম্ভব নয়।’ তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির রায় কার্যকর করার দাবি জানান।
বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন— জ্বালানি সচিব মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার, বিপিসির চেয়ারম্যান এবিএম আজাদ (এনডিসি), পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার এবং পিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান।









