বিশ্বব্যাংকের পর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আমদানি দায় পরিশোধে অর্থ সহায়তা চাইলেন জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিনটিং-এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করেন। তিনি এসময় এডিবিকে বলেন, সকল ধরনের ক্রয় প্রক্রিয়ায় পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬ ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০০৮-এর বিধানবলী ব্যবহার করা হবে। এছাড়াও বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০ (সংশোধিত ২০২১)-এর অধীনে চলমান কার্যক্রম স্থগিত করেছেন এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধিত) আইন, ২০২৩-এর ৩৪ক ধারায় সরকার কর্তৃক বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা স্থগিত করেছে।
উপদেষ্টা বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর খুব দ্রুত বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই সরকার এখন থেকে শুধু পরিসংখ্যানে বিশ্বাস না করে সত্যিকারের বাস্তবতার নিরিখে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। এ সময় তিনি প্রতিনিধিদলকে আরও জানান, এখন থেকে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্মুক্ত পদ্ধতির মাধ্যমে টেন্ডারিংয়ের নির্দেশনাও তিনি প্রদান করেছেন।
বর্তমান সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এসময় উপদেষ্টা বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি আমদানি বাবদ বৈদেশিক মূল্য পরিশোধের দায় পরিশোধে এ খাতে বাজেট সাপোর্টের জন্য এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের সহযোগিতার অনুরোধ করেছেন।
নতুন দায়িত্বের জন্য উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানকে অভিনন্দন জানিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিনটিং বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে তারা সরকারের সব থেকে বড় অংশীদার। তিনি বর্তমান সরকারের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বর্তমান সরকারের বাজেট সহায়তার অনুরোধ তারা আন্তরিকতার সঙ্গে বিবেচনা করবেন।
মতবিনিময় সভায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক, বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. হাবিবুর রহমান, সেতু বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. মনজুর হোসেন, রেলপথ মন্ত্রণালয় সচিব আবদুল বাকী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. নূরুল আলম উপস্থিত ছিলেন।









