জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় এবারের ঈদযাত্রা

সঞ্চিতা সীতু
১৪ মার্চ ২০২৬, ১৯:১৭আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৬, ১৯:১৭

দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদুল ফিতর। ইতোমধ্যে ঈদের ছুটির ঘোষণাও দিয়েছে সরকার। বিক্রি হয়েছে বাস ও ট্রেনের অগ্রিম টিকিট। যানজটের ভয়ে অনেকে ছুটছেন বাড়ির পথে। এমন যখন পরিস্থিতি ঠিক তখনই চিন্তা জ্বালানি তেল নিয়ে। ইরান যুদ্ধ নিয়ে বাড়ছে তেলের দাম। উচ্চমূল্যে স্পট মার্কেট থেকে জ্বালানি কিনছে সরকার।

জ্বালানি সংকটের জেরে পরিবহন খাতে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে সরকার। যদিও সরকার থেকে বারবার বলা হচ্ছে, জ্বালানির সংকট নেই। তবে, বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। পাম্পগুলোতে তেল না পেয়ে যেতে পারছে না যানবাহন। জ্বালানি পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে যানবাহনকে। এতে করে ঈদযাত্রায় ভোগান্তির শঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে, আজ শনিবার (১৪ মার্চ) রেশনিংয়ের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত জানাতে পারে জ্বালানি মন্ত্রণালয়।

রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পে নির্দিষ্ট পরিমাণে তেল দেওয়ার কারণে অনেক পরিবহন মালিক ও চালক প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, কিছু পাম্পে চাহিদার তুলনায় তেলের সরবরাহ কম থাকায় নির্ধারিত পরিমাণের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না।

পরিবহন মালিকরা বলছেন, ঈদকে সামনে রেখে এ সময় যানবাহনের চাপ বাড়ে। কিন্তু, পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত তেল না থাকলে স্বাভাবিকভাবে পরিবহন চলাচলে প্রভাব পড়তে পারে। এতে যাত্রী পরিবহনেও সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

এদিকে, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন স্থানে নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।

এর মধ্যেই ঈদ উপলক্ষে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও মহাসড়কে যাত্রীদের চাপ বাড়তে দেখা যাচ্ছে। তবে, জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা এবারের ঈদযাত্রায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

জ্বালানি সরবরাহে সীমাবদ্ধতার প্রভাব ইতোমধ্যে পড়তে শুরু করেছে দূরপাল্লার বাস চলাচলে। পরিবহন মালিকদের মতে, পাম্পে রেশনিং এবং দীর্ঘ লাইনের কারণে অনেক বাস সময়মতো জ্বালানি পাচ্ছে না। এতে কিছু যানবাহন বন্ধও রাখতে হচ্ছে। একটি পরিবহন প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, তাদের বহরের কয়েকটি বাস জ্বালানি সংকট ও পাম্পে দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে নির্দিষ্ট দিনে চলাচল করতে পারেনি।

পরিবহন মালিকদের দাবি, বর্তমানে অনেক পাম্পে একসঙ্গে সীমিত পরিমাণ ডিজেল দেওয়া হচ্ছে। ফলে দূরপাল্লার বাসের ট্যাংক পূর্ণ করা সম্ভব হচ্ছে না এবং পথে অতিরিক্ত সময় নিয়ে জ্বালানি নিতে হচ্ছে। এতে বাসের নির্ধারিত শিডিউল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি একইভাবে চলতে থাকলে ঈদে যাত্রীচাপ বাড়ার সময় ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের জয়েন্ট কনভেনার মিজানুর রহমান রতন বলেন, “আশঙ্কা তো থেকেই যাচ্ছে। সরকার মুখে বলছে তেলের সংকট নাই, কিন্তু বাস্তবে তো ৯ হাজার লিটার তেল চাইলে তেল দিচ্ছে চার লিটার। পাম্পে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তেল ফুরিয়ে যাচ্ছে। কারণ, আগে থেকেও অপেক্ষায় থাকা শত শত যানবাহন। এরপর তেল না পেয়ে আমাদের ওপর ক্ষেপে যাচ্ছে। মবের ভয়ে অনেকে পাম্প বন্ধ করে বসে থাকছে।”

তিনি আরও বলেন, “সম্প্রতি এক বাস মালিক অভিযোগ করেন, তার বাস সিলেট গিয়ে এখনও বাস নিয়ে ফিরতে পারেনি চালক। কারণ তেল পাচ্ছে না। এ পরিস্থিতি যদি চলতে থাকে তাহলে ঈদের লম্বা জার্নিতে ভোগান্তি হবার শঙ্কাই বেশি। সরকারের উচিত আজ-কালকের মধ্যেই এ বিষয় সমাধানে সিদ্ধান্ত নেওয়া।”

বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. নাজমুল হক বলেন, “কালকের (রবিবার) মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে ঈদের যাত্রা কঠিন হয়ে পড়বে। সরকার বলছে, তাদের সংকট নেই। কিন্তু, ভবিষ্যতের কথা ভেবে তারা রেশনিং করছে। অন্তত ঈদের সময় যাতে যাত্রীদের কোনও ভোগান্তি না সেটি বিবেচনা করে রেশনিং আপাতত বন্ধ করা বা হলে ভোগান্তি চরম আকার নেবে।”

পাম্পে ব্যক্তিগত যানবাহনের দীর্ঘসারির কারণে তেল নিতে বাড়তি দুই-তিন ঘণ্টা সময় লাগছে। ঈদে বাসের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ বাড়বে।

শুধু বাস আর ব্যক্তিগত গাড়ি নয় চাপ পড়েছে লঞ্চ স্টিমার এবং স্পিডবোটের উপরেও। চাহিদা মতো ডিজেল ও অকটেন না পেয়ে তারাও শঙ্কায় ঈদ যাত্রা নিয়ে।

লঞ্চ মালিকরা বলছেন, তেল না পাওয়ায় গত কয়েক দিন ধরে সব লঞ্চ বা স্টিমার ছাড়া যাচ্ছে না। বন্ধ রাখতে হয়েছে। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি চালক, সহকারী, টিকিট মাস্টার ও লাইনম্যানসহ প্রায় দেড় শতাধিক কর্মীও কার্যত শঙ্কায় পড়েছেন। ঈদযাত্রা শুরু হওয়ায় যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে ট্রলার ও লঞ্চে, যা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে যাত্রীদের মধ্যে।

পরিবহনের আরেক জ্বালানি অটোগ্যাস নিয়ে আপাতত সংকট দেখছেন না এলপিজি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (লোয়াব) ভাইস প্রেসিডেন্ট ও এনার্জিপ্যাকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন রশীদ। তিনি বলেন, “ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন হবে আশা করছি। আপাতত যে পরিমাণ এলপিজি আছে তা চাহিদা পূরণের জন্য ভালো। তবে, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদী হলে এপ্রিলে গিয়ে শঙ্কা দেখা দিতে পারে।”

একই পরিস্থিতির কথা জানিয়েছে সিএনজি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারহান নুর। তিনি বলেন, “এমনিতেই গ্যাসের চাপ কম পাই। এরপর ঈদের সময় একই অবস্থা থাকলে সংকট হবেই। গ্যাস সংকট কাটাতে বেশি দামে সরকার এলপিজি আমদানি করছে ঠিকই। কিন্তু, এখনও চাহিদা তুলনায় সরবরাহ কম। ফলে সিএনজিতে চাপ অনেক সময়ই পাওয়া যায় না।”

/এবিএম/
সম্পর্কিত
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
জ্বালানি চাহিদা পূরণে পাঁচ কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন
দাম বাড়ানোর পরও বিদ্যুতে ভর্তুকি প্রয়োজন: বিইআরসি
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম