যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতা পালাবদলকে কেন্দ্র করে বুধবার (৬ জানুয়ারি) রাতে যে তাণ্ডবলীলা হয়েছে সেটিকে নতুন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতিফলন বলে মনে করেন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মোহাম্মাদ শহীদুল হক। তিনি মনে করেন, এই ঘটনা গণতন্ত্রের জন্য একটি পরীক্ষা এবং অসহিষ্ণু সমাজেও গণতন্ত্র বিকশিত হতে পারে সেটির প্রতিফলন।
শহীদুল হক বলেন, ’নিউ নরমালের মধ্যে গণতন্ত্রের টিকে থাকার বিষয়টি এখানে ফুটে উঠেছে। অসহিষ্ণু সমাজ ব্যবস্থা ও সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার শ্রদ্ধাবোধের ঘাটতির মধ্যেও যে গণতন্ত্র বিকশিত হতে পারে সেটি এখানে দেখা যাচ্ছে।’
পূর্বের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সহিষ্ণুতা, দলমত নির্বিশেষে একমত হওয়া এবং শ্রদ্ধাবোধের যে প্রতিফলন দেখা যেত এখন সেটি পরিবর্তিত হলেও শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রেরই জয় হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ঘটনা গণগন্ত্রের একটি পরীক্ষা জানিয়ে তিনি বলেন, ’কিন্তু এরপরেও গণগন্ত্র ভেঙ্গে পড়েনি। এমনকি কট্টর রিপাবলিকান আইনপ্রনেতারাও বলেছেন গণতন্ত্রে সহিংসতার কোনও জায়গা নেই। ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সও এই ঘটনার নিন্দা করেছেন।’
রিপাবলিকান এবং ডেমোক্র্যাট দলের নেতারা নির্বিশেষে সবাই এক বাক্যে এ ধরনের ঘটনাকে অবাঞ্জিত হিসাবে ঘোষণা করেছে বলে তিনি জানান।
রাজনৈতিক কারণে যুক্তরাষ্ট্রে উগ্র পপুলিস্ট ও ন্যাশনালিস্টদের উৎসাহিত করা হয়েছে ব্যক্তি স্বার্থের জন্য কিন্তু অবশেষে দৃঢ় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কারণে তাদের প্রয়াস সফল হয়নি বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, ’যতক্ষণ পর্যন্ত একটি দৃঢ় সিস্টেম থাকবে এবং কিছু ব্যক্তি সেটিকে আঁকড়ে ধরে উচ্চ জায়গায় নিয়ে যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত ভঙ্গুর ও অসহিষ্ণু সমাজেও গণতন্ত্র টিকে থাকবে।’
যুক্তরাষ্ট্র গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং সারা বিশ্বে প্রচার করে, সহিংসতার এই ঘটনার ফলে সেটিতে কোনও প্রভাব পড়বে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ’আমার ধারণা কোনও প্রভাব পড়বে না। যদি শক্তিশালি একটি ব্যবস্থা কার্যকর থাকে তবে প্রতিকূল পরিবেশেও গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে এটি তার উদাহরণ। এবং এ বিষয় থেকে পৃথিবীর অন্যদেশগুলোর অনেক কিছু শেখার আছে।’
উল্লেখ্য, গত নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের বিজয় অনুমোদনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণেতারা বুধবার রাতে (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকালে) কংগ্রেসের এক যৌথ অধিবেশনে বসেন। অধিবেশনের কয়েক ঘণ্টা আগেই এর বিরোধিতা করে ওয়াশিংটনে জড়ো হন কয়েক হাজার ট্রাম্প সমর্থক, যাদের মধ্যে উগ্রপন্থি বিভিন্ন গ্রুপের সদস্যরাও রয়েছেন। সেই সমাবেশে বক্তব্যে নভেম্বরের নির্বাচনে পরাজয় মেনে না নেওয়ার ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পরপরই অধিবেশন চলাকালে হঠাৎ করেই ট্রাম্প সমর্থকরা সেখানে তাণ্ডব শুরু করে। ভাঙচুরের পাশাপাশি সেখানে গোলাগুলিও হয়েছে। অন্তত একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। ওয়াশিংটনে জারি করা হয়েছে কারফিউ।









