টাঙ্গাইলে টাকা ধার না দেওয়ায় নাজমা আলম নাজু (৫১) নামে এক নারীকে হত্যা করে ঘরের মালামাল ও স্বর্ণালঙ্কার চুরির ঘটনায় মসজিদের মুয়াজ্জিন মোশাররফ হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে সদর থানায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এএইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী।
নিহত নাজমা আলম সদর উপজেলার বিশ্বাস বেতকা এলাকার বাসিন্দা। গ্রেফতার মোশাররফ হোসেন দেলদুয়ারের মৃত মোতালেব সরকারের ছেলে ও বেতকা এলাকার স্থানীয় একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ ঘটনায় স্থানীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষ কর্মকারকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি মোশাররফের কাছ থেকে চুরির স্বর্ণালঙ্কার কিনেছিলেন।
পুলিশ জানায়, গত রবিবার বেতকা এলাকার বাসা থেকে নাজমা আলমের হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। পরে হত্যার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করে সদর থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়। সোমবার বিকালে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সন্ধ্যায় হত্যায় জড়িত মোশাররফকে গ্রেফতার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের গ্রেফতার করা হলো। তাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা এবং ঘটনার আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী বলেন, ‘প্রায় দুই দশক ধরে মোশাররফ টাঙ্গাইল শহরে বসবাস করছেন এবং একটি মসজিদে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করছেন। দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে মোশাররফের সঙ্গে নাজমা আলম ও তার পরিবারের সুসম্পর্ক। একই বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন মোশাররফ। দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক থাকায় বিশ্বাস করে নাজমার বাসার চাবি ও সিসি ক্যামেরার পাসওয়ার্ডও দেওয়া ছিল মোশাররফের কাছে। তিনি ১৫ লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত আছেন দাবি করে সম্প্রতি নাজমার কাছে এক লাখ টাকা ধার চান। কিন্তু তা দিতে অস্বীকৃতি জানান নাজমা।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ‘মোশাররফ দীর্ঘদিন ধরে ঋণের চাপে আছেন। এজন্য পরিকল্পিতভাবে নাজমার ঘরে প্রবেশ করেন ওই দিন। ঘরে ঢুকে স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান মালামাল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি ধরা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে নাজমাকে হত্যা করেন। এরপর ২৯ হাজার টাকা, নামজার গলার চেইন, হাতের বালা নিয়ে পালিয়ে যান। যাওয়ার আগে হাতুড়ি গিয়ে ঘরের সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলেন। পরবর্তীতে স্বর্ণসহ হাতুড়ি ও সিসি ক্যামেরার ডিভিডি সঙ্গে করে নিয়ে যান। এরপর তদন্তে সংগৃহীত বিভিন্ন আলামত, প্রযুক্তিগত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘মোশাররফের কাছ থেকে নাজমার ঘর থেকে নেওয়া স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কিনা, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বাসার দুটি হাতুড়ির মধ্যে একটি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়েছে বলেও স্বীকার করেছেন মোশাররফ। আর চুরির স্বর্ণ কিনেছেন বলে স্বীকার করেন সন্তোষ। মঙ্গলবার দুপুরে তাদের টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়।’









